somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিব্রতকর অভিজ্ঞতা

০২ রা মে, ২০১৪ রাত ৮:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভুলু বাড়ি
তৈয়ব খান

২৯শে চৈত্র ১৪২০ এর বিকেলের ঘটনা। মানিকগঞ্জ শিবালয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শুভ নববর্ষের কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবেন। সে কার্ড ছাপানোর দায়িত্ব নিলাম আমরা। আমাদের প্রেস আছে। তো, কার্ড ছাপানোর পর ম্যাট লেমিনেশন করতে হবে যাতে কার্ডটি দৃষ্টিনন্দন হয়। মোখলেছ ভাই বিশেষ কাজে ঢাকায় গেছেন। ঢাকা থেকে তিনি অনুরোধ জানালেন যেন কার্ডটি লেমিনেটিং করানোর কাজে আমি ছাপাখানার কর্মচারী মিজানের সাথে আলমডাঙ্গা ’ব্ল-বেরি’ (সাভার এলাকার লেমিনেটিং কাজের একমাত্র প্রতিষ্ঠান) যাই। কেননা, ও বিষয়টি ভালো করে বোঝাতে পারবে না। কিন্তু মুশকিল হলো জায়গাটা আমি চিনি না; কখনো যাইনি। মোখলেছ ভাই’র সাথে আমার মোবাইলে কথা হচ্ছে, এমন সময় মিজান বললো যে সে জায়গাটা চেনে। আলমনগর যাওয়ার কোন বাস নেই তবে সাভারের জাতীয় অন্ধ কল্যাণ মার্কেটের সামনে থেকে ভটভটিতে যাওয়া যায়।
আমরা অন্ধ কল্যাণ মার্কেটের সামনে থেকে নির্দিষ্ট বাহনের চালককে আলমনগরের ব্লু বেরি’র কথা বলতেই বললো সে চেনে। আমাদের জায়গা মতো নামিয়ে দেবে এরকম আশ্বাস পেয়ে ভটভটিতে চড়ে ভাঙাচুরা রাস্তায় ঝাঁকি থেকে থেকে চলতে আরম্ভ করলাম। চালকের বয়স সর্বোচ্চ চৌদ্দ- বাচ্চা ছেলে। ভটভটির আর কোন কন্টাকটর কিংবা হেল্পার নেই। এতটুকুন একটা বাচ্চা ছেলে কেমন করে গাড়ির বাইশজন যাত্রী কন্ট্রোল করবে এটা ভেবে আমার কৌতুক বোধ হলো। শিশুশ্রম নিয়ে যারা চেঁচায় তারা এ চালক বাচ্চাটিকে দেখলে উহু-আহা করতো। কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন ছোটখাট যান-বাহন এদের বয়সী বাচ্চারাই সামাল দেয়; এটা ভেবে মুচকি একটু হাসলাম। দুপুরে ভাত খেয়েছি, ভাত রসালো খাবার। ভটভটির ঝাঁকুনিতে আমার ভাতঘুম পেয়ে গেল এবং ঘুমিয়েও পড়লাম। এদিকে আমাদের গন্তব্য ছেড়ে বাহনটি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পর আক্রাইন নামক একটি স্টেশনে থেমে যাত্রী নামাতে লাগলো। এক যাত্রীর ভাড়া নিয়ে বচসার কারণে আমার ঘুম টুটে গেলো।
আক্রাইন জায়গাটার নাম শুনেছি; আসা হয়নি, আজই প্রথম এলাম। কিন্তু এটা আমাদের গন্তব্য নয় বুঝতে পেরে মনে মনে দমে গেলাম। অগত্য ধরলাম ঐ বাচ্চা চালককে। আলমনগরে আমাদের কেন নামালো না এ কথা বলতেই বুঝলাম মহা ধুরন্ধর ছেলে। বেশি ভাড়ার পাবার আশায় ইচ্ছে করেই আমাদের নির্দিষ্ট জায়গায় না নামিয়ে ভুল জায়গায় নামিয়ে দিয়েছে এবং পঞ্চাশ টাকার নোট দিতেই দেখলাম ত্রিশ টাকা রেখে বিশ টাকা ফিরিয়ে দিলো। বিষয়টি অন্যায়; প্রতিবাদ করলাম এবং একটা বাচ্চা ছেলের শয়তানির কাছে হেরে গিয়ে ঝাল ঝাড়তে চাইলাম মিজানের উপর। মিজানকে কষে একটা ধমক দিলাম। এদিকে সময় কম। নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিকেল ছয়টার মধ্যেই কার্ডগুলো ডেলিভারি দিতে হবে। এখন বাজে সোয়া চারটা। উপায়! একে তো ভুল জায়গায় নেমেছি, পরন্তু মিজান গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে বলছে যে আমরা ভুলুবাড়ি যাবো। আমি যতোই বলছি ব্লুবেরি, ও আগ বাড়িয়ে রিক্সাওলা থেকে শুরু করে সবাইকে বলছে- ভুলুবাড়ি। ওর উপর মেজাজটা খাপ্পা হয়ে গেলো। বললাম, তুমি না জায়গাটা চেনো? আর তোমার আগ বাড়িয়ে কথা বলার দরকারটাই বা কি? ও বললো- চিনি তো, তবে কিনা রাতে একবার মোটরসাইকেলে এসেছিলাম, তাই মনে করতে পারছি না। মহা মুশকিলে পড়ে গেলাম।
সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য মোখলেছ ভাইকে মোবাইলে কল দিলাম। উনি রিসিভ করতেই সমস্যাটার কথা বললাম। বললাম যে এখানে ব্লুবেরি বলে কোন জায়গা নেই। কিন্তু নেটওয়ার্কের জটিলতার জন্য উনার কথা ঠিকমতো বুঝতে পারছিলাম না। তাই উনি যেন স্থানীয় একজনের সাথে কথা বলে একটা সমাধান দেন এমনটা ভেবে স্থানীয় এক লোককে মোবাইল ধরিয়ে দিলাম। ঐ লোকটি আলমনগরের কথা শুনেই বুঝলো যে আমরা কমপক্ষে পাঁচ কিলোমিটার বেশি পূবে চলে এসেছি, আমাদের এখন পেছন ফিরে যেতে হবে।
আলমনগরে ফিরলাম তখন পৌঁনে পাঁচটা বাজে। এখানে এসেও ব্লুবেরি’র কোন হদিস পেলাম না। পাবো কি করে! আমি যতই বলছি ব্লুবেরি, মিজান ততোই বলছে ভুলুবাড়ি। স্থানীয় লোকজন একবার আমার দিকে তাকাচ্ছে একবার মিজানের দিকে। আমি মিজানের উপর রেগে গেলাম এবং বারবার ওকে বললাম যে, এটা ভুলুবাড়ি নয় বরং ব্লুবেরি। ইংরেজিতে বানান করে বললাম- আমার সাথে সাথে বলো- বিএলইউই ব্লু; বিইআরআরওয়াই বেরি। কিন্তু না, ও আমার সাথে বানান করছে ঠিকই কিন্তু উচ্চারণ করছে ভুলুবাড়ি। লে হালুয়া!! কী করি? পরে একজন মুরুব্বি এসে জানতে চাইলেন, আমরা ওখানে কী কাজে গেছি। যখন বললাম, আমরা এ কার্ডগুলো লেমিনেটিং করবো। এখানে কোন লেমিনেটিং এর কাজ করানোর প্রতিষ্ঠান আছে কিনা জানতে চাইলাম। মুরুব্বি আমাদের কথা শুনে হেসে- নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির হদিস বাতলে দিলেন। তখন বুঝলাম এটি কোন স্থানের নাম নয় বরং প্রতিষ্ঠানের না।
সুপ্রিয় পাঠক, এবার বুঝুন, শিক্ষার মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জীবনের জন্য কতো প্রয়োজন। মিজান মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। উচ্চারণও শুদ্ধ নয়। তাই এ ভোগান্তি। তবে আমিও কম বোকা নই....। জীবন চলার পথে এরকম ঘটনা সম্ভবত আরও কারো কারো জীবনে ঘটেছে এটা কল্পনা করে খানিকটা প্রবোধ পেলাম। কিন্তু কাজ শেষে ফেরার পথে সমস্ত রাগ ভুলে গেলাম আলমনগরের প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে। জায়গাটা এতো সুন্দর যে ভাষা দিয়ে বর্ণনা করাটা একটা বিড়ম্বনাই বটে। ক্যামেরা সাথেই ছিল, গোটা তিনেক ছবি তুলে নিলাম পরবর্তীতে কাজে দেবে ভেবে।
অনেক কষ্টে ব্লুবেরি খুঁজে পেয়েছিলাম এবং সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফিরে এসে নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধির কাছে কার্ড বুঝিয়ে দেবো; এমন সময় নির্বাহী কর্মকর্তা স্বয়ং এসে উপস্থিত। অগত্য তার কাছেই কার্ড হস্তান্তর করলাম।

পরিচিতি-

তৈয়ব খান
কবি, লেখক এবং প্রকাশক
অরুণালোক প্রকাশনী
বাজার রোড, সাভার, ঢাকা- ১৩৪০।
মোবাইল ঃ ০১৯৪২-৮৪৭২০৭
ই-মেইল: [email protected]
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×