জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হুমায়ুন আহমেদের ধানমন্ডির বাসায় রহস্যজনকভাবে দুবর্ৃত্তরা ঢুকে সবকিছু লন্ডভন্ড করে ফেলেছে। শুত্রক্রবার রাত 10টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো কিছু নিয়ে যাওয়ার আলামত পায়নি পুলিশ। তবে দুবর্ৃত্তরা প্রচন্ড আক্রোশে বাসার সবকিছু ভাংচুর করেছে। ঘটনার সময় হুমায়ুন আহমেদ ও তারসত্রী মেহের আফরোজ শাওন বাসায় ছিলেন না। হুমায়ুন আহমেদের বইয়ের প্রকাশক অন্য প্রকাশের স্ট্বত্দ্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম হুমায়ুন আহমেদের পাশের ফ্ল্যাটেই থাকেন। তিনি সমকালকে জানান, 1 আগসদ্ব থেকে হুমায়ুন আহমেদ বাসায় ছিলেন না। তিনি একটি ছবির শুটিংয়ের কাজে গাজীপুরের নুহাশ পল্ক্নীতে অবস্ট্থান করছিলেন। শাওন অসুস্ট্থ থাকায় তার মায়ের বাসায় অবস্ট্থান করছিলেন। ধানমন্ডির 3/এ নল্ফ্বর সড়কের 48 নল্ফ্বর বাসার 6/এফ নল্ফ্বর 'দখিন হাওয়া' নামের হুমায়ুন আহমেদের 6 তলার ফ্ল্যাটটি তালাবদব্দ ছিল। চাবি ছিল মাজহারুল ইসলামের কাছে। শুত্রক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে তিনি নুহাশ পল্ক্নী থেকে তার কাজের ছেলে মোস্টস্নফাকে বাসা দেখতে পাঠান। মোস্টস্নফা জানান, তিনি পাশের ফ্ল্যাটের মাজহারুল ইসলামের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তালা খুলতে গিয়ে দেখেন দরজা খোলা। ভেতরে ঢুকে দেখেন সবকিছু ল-ভ-। তিনি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীদের ডাক দেন। প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখেন বাসার তিনটি কক্ষের সব ফার্নিচার, ত্রেক্রাকারিজ, টেবিল-চেয়ার ল-ভ-। দুবর্ৃত্তরা আলমারি খুলে আনুমানিক 50 ভরি ওজনের সোনার গহনা পুরো বাসায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছে। 5শ' টাকার নোটের একটি বান্ডিল খুলে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে পুরো ঘরে ছড়িয়ে রেখেছে। এছাড়া বাসার কাপড়চোপড়, কাগজপত্র, বইপত্র, লেখার সরঞ্জাম, বইয়ের পা-ুলিপি সবকিছু তারা বিনষদ্ব করেছে। ড্রইংরুমে হুমায়হৃন আহমেদের লেখার টেবিলটিকে দুবর্ৃত্তরা ভেঙে চুরমার করেছে। খবর পেয়ে সল্পব্দ্যায় ধানম-ি থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও পুলিশের ঊধর্্বতন কর্মকর্তারা ওই বাসায় হাজির হন। তারা প্রথমে পুরো বাসার সিজারলিসদ্ব তৈরি করেন। রাত 10টা পর্যনস্ন তারা বাসার বিভিল্পম্ন জায়গায় রাসায়নিক পরীক্ষা ও ফিঙ্গার প্রিন্ট নেন। খবর পেয়ে রাতে হুমায়হৃন আহমেদ ও তার স্ট্পী শাওন বাসায় ফিরে আসেন। এ ঘটনায় তারা হতভল্ফ্ব হয়ে পড়েছেন। হুমায়হৃন আহমেদ বলেন, তার জানা মতে কোনো শত্রু নেই। কী উদ্দেশ্যে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তিনি ধারণা করতে পারছেন না। ধানম-ি থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ভাংচুর ও ল-ভ- করা ছাড়া দুবর্ৃত্তরা কিছু নিয়ে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিষয়টিকে তারা স্ট্বাভাবিক মনে করছেন না। হুমায়ুন আহমেদকে ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার জন্য কেউ এ কাজ করে থাকতে পারে। হুমায়ুন আহমেদের ফ্ল্যাটটি সুরক্ষিত এবং গেটে সার্বক্ষণিক 4 জন দারোয়ান থাকে।
উল্ক্নেখ্য, বুধবার হুমায়ুন আহমেদের ছোট ভাই সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. জাফর ইকবালকে ক্যামঙ্াসে শিবির ক্যাডাররা জিহ্বা কেটে নেওয়ার হুমকি ও তার কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার চেষদ্বা করে। বৃহসঙ্তিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান আজিজুল হককে শিবির ক্যাডাররা কেটে টুকরো টুকরো করে বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



