somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইলেকট্রনিক্স পার্টস পরিচিতি - ১ (ছবি ব্লগ) !!! ইলেকট্রনিক্সপ্রেমী দের জন্য। B-) B-)

০৮ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন ইলেকট্রনিক্স নিয়ে ব্লগ দেয়া হয়না। লেখালেখির আগ্রহটা কেন যেন কমে গেছে। তার উপর সময় এর বড় অভাব। তবে ভাবছি আবার একটু একটু করে শুরু করব। আপাতত আজকে কিছু দরকারী এবং বহুল ব্যাবহৃত পার্টস এর পরিচিতি দিয়ে শুরু করলাম। আশা করি সবার ভাল লাগবে। :):):)

১। রেজিস্টর (রোধক)
এই জিনিসটা এর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতকে বাধা দেয়। কোন সার্কিটে বিদ্যুত প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করতে এটা কাজে লাগে। রেজিস্টর সাধারনত কার্বন দিয়ে তৈরি করা হয়।


রেজিস্টর এর মান বের করার জন্য দরকারি কালার কোড
বাম থেকে প্রথম ২ বা ৩ টা দাগ অনুযায়ী নম্বর পাশাপাশি বসিয়ে যে সংখ্যা পাওয়া যাবে তাকে গুনক দিয়ে গুন করলে মান বের হবে। টলারেন্স দিয়ে বুঝায় তাপমাত্রাভেদে মান শতকরা কতখানি বদলাতে পারে। :)


আরও কয়েক ধরনের রোধক


২। ক্যাপাসিটর (ধারক)
ক্যাপাসিটর জিনিসটা বৈদ্যুতিক চার্জ জমা রাখতে কাজে লাগে। এটা বানানো খুবই সোজা। যেকোন ২ টা বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থকে কোন অপরিবাহী পদার্থ দিয়ে আলাদা করে রাখলেই তা ক্যাপাসিটর হিসাবে কাজ করে। সেই হিসাবে আমাদের চারপাশের মোটামুটি অনেক বস্তুই ক্যাপাসিটর এর মত কাজ করে। B-)
বাসায় বড় ধাতব থালা থাকলে ২টা থালা নিয়ে মাঝে কাগজ রেখে দিলেই তা ক্যাপাসিটর হয়ে যাবে। এমন কি বাসায় ক্যাপাসিট্যান্স (চার্জ জমা রাখার ক্ষমতার একক) মাপার সুবিধা সহ ডিজিটাল মিটার থাকলে তা দিয়ে মেপেও দেখতে পারেন। ;);)


হরেক রকমের ক্যাপাসিটর। উপরের গুলা ভেরিএবল ক্যাপাসিটর যা দিয়ে রেডিও টিউনিং করা হয়। নিচের দিকে ডানের গুলা সিরামিক ক্যাপাসিটর, এগুলার মান কম হয়ে থাকে। ডানের দিকের গুলা ইলেক্ট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর। এরা অনেক ছোট প্যাকেজে অনেক বড় মানের ক্যাপাসিটর।


আরও একটা ইলেক্ট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর। খেয়াল করুন এর ছোট পা টা বা যেদিকে ব্যান্ড আঁকা থাকে সেই পা টা নেগেটিভ। এই ক্যাপাসিটর কিন্তু নেগেটিভ পজেটিভ ঠিক করে লাগাতে হয়।না হলে সমস্যা করবে। :|


৩। ইন্ডাকটর (আবেশক)
ইন্ডাক্টর হল এমন একটা যন্ত্রাংশ যা কিনা বিদ্যুত প্রবাহ পেলে তড়িতচৌম্বকক্ষেত্র তৈরি করে তাতে শক্তি জমা করে রাখতে পারে।
উল্লেখ্য যে যেকোনো তড়িৎবাহী পদার্থই ইন্ডাক্টর হিসাবে কাজ করে। B-)
তবে সোজা তারের ইন্ডাকট্যান্স (তড়িতচৌম্বকক্ষেত্র তৈরির ক্ষমতা) খুবই কম হয়। তাই এই ক্ষমতা বাড়াতে তারকে পেঁচিয়ে কুন্ডলি বানানো হয়। এ সময় আসলে এটা একটা তরিতচুম্বক হিসাবে কাজ করে।


তারের পেঁচান কুন্ডুলি


অল্প যায়গায় বড় মানের ইন্ডাক্টর পেতে হলে তখন কুন্ডুলির ভিতরে ফেরোম্যাগ্নেটিক পদার্থের কোর ব্যাবহার করতে হয়। এটা তড়িতচৌম্বকক্ষেত্র কে শক্তিশালী করে।


৪। ট্রান্সফর্মার (দুঃখিত এটার সঠিক বাংলা জানিনা) /:)
ট্রান্সফর্মার হল একে অপরের চৌম্বকক্ষেত্রের নাগালে থাকা ২ টা তারের কুন্ডুলি। সোজা কথায় ২ টা ইন্ডাকটরের ভিতরে মিউচুয়াল ইন্ডাকট্যান্স ঘটলেই তাকে ট্রান্সফর্মার বলা চলে। এই জিনিশ এমন কোন সার্কিট নাই যেখানে ব্যাবহার হয়না। কি পাওয়ার লাইন, কি রেডিও টিভি, আন্টেনা, কি কম্পিউটার সবখানেই। এটার কাজ হল, এক সার্কিট থেকে আরেক সার্কিটে কারেন্ট আর ভোল্টেজ এর মান পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ শক্তি প্রবাহিত করা।
দুঃখের বিষয় হল গুগলে এটার ছবি খুজতে যেয়ে আমার গলদ ঘর্ম অবস্থা। শুধু সিনেমার ছবি আসে। অনেকক্ষন পর সত্যিকারের ট্রান্সফর্মার খুজে পাইছি। X((X((




--------------------------------------

আজকের মত এইটুকুই। পরের পর্বে আরও নতুন পার্টস এর সাথে পরিচয় হবে।

-------------------- :) :) :) ----------------------------------------

যারা আমার ইলেকট্রনিক্স এর খুঁটিনাটি সিরিজ টা পড়েন নি, তাদের জন্য নিচে রইল লিঙ্ক--------------

ইলেকট্রনিক্স এর খুঁটিনাটি - পর্ব ১(সূচনা সাথে ভোল্টেজ ও কারেন্ট এর ধারনা। )
Click This Link

ইলেকট্রনিক্স এর খুঁটিনাটি পর্ব ২( ভোল্টেজ -কারেন্ট শেষ পর্ব + রেজিস্টর নিয়ে আলোচনা )
Click This Link

ইলেকট্রনিক্স এর খুঁটিনাটি পর্ব ৩( রেজিস্টর কালার কোড + আপেক্ষিক রোধ)
Click This Link

ইলেক্ট্রনিকসের খুঁটিনাটি - পর্ব ৪ (সিরিজ - প্যারালাল আলোচনা)
Click This Link

ইলেক্ট্রনিক্সের খুঁটিনাটি -পর্ব ৫(ভোল্টেজ ডিভাইডার + কারেন্ট ডিভাইডার)
Click This Link

ইলেক্ট্রনিক্সের খুঁটিনাটি –পর্ব ৬ ( কার্শফ’স কারেন্ট ল )
Click This Link

ইলেক্ট্রনিক্সের খুঁটিনাটি –পর্ব ৭ ( কার্শফ’স ভোল্টেজ ল )
Click This Link

ইলেক্ট্রনিকসের খুঁটিনাটি - পর্ব ৮ (ওয়াই-ডেল্টা কানেকশন)
Click This Link

ইলেকট্রনিক্সের খুঁটিনাটি – পর্ব ৯ (সার্কিট সলভ - নোডাল এনালাইসিস)
Click This Link

ইলেকট্রনিক্সের খুঁটিনাটি – পর্ব ১০ (সার্কিট সলভ - মেশ এনালাইসিস)
Click This Link
২৯টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×