somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবশেষে বাংলাদেশের একজন ঐন্দ্রজালিক

২২ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লাল সবুজের একটি দেশে এ রীতি ও নীতি বহু প্রাচীন। সরকারী দল ও বিরোধী দল নামেও যেমন বিপরীত, কাজেও ঠিক তেমনি কিংবা আরেকটু বেশী বিপরীত। প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি বিষয়ে তাদের মতবিরোধ যেন অলিখিত নিয়ম। বামকে ডান, ডানকে বাম বলার মধ্যেই যেন তাদের সর্বোচ্চ সন্তোষ নিহিত। এতো গেল দলীয়, তথা সমষ্টিগত আচার উপাখ্যান। ব্যক্তিক বিরোধ গাঁথা আরও নিদারুণ। দলীয় প্রধাণগণ পারস্পারিক ছায়া পর্যন্ত মাড়াতে চান না, সৌজন্য মূলক বাক্যালাপ কিংবা অধর নিঃসৃত মুচকি হাসি নিখাদ অকল্পনীয়।

সে দেশটি বাংলাদেশ, যে দেশের জন্ম হয়েছিল একতা আর সম্প্রীতির উদ্বাহু দৃষ্টান্ত প্রদর্শনীতে। সেই বাংলাদেশে বহুদিন পর যেন প্রীতির ফল্গুধারা বইছে। রাষ্ট্রপতির প্রয়াণে এক কাতারে শামিল হয়েছে কোটি জনতা নির্দ্বিধায়, এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছে শত মতের ধারাপাত। অশ্রু বিসর্জনে, শোকের বিনীত মাতমে, সান্ত্বনার মোলায়েম প্রলাপে রাষ্ট্রপতি তিরোধানের পর্ব গুলো এগিয়ে চলেছে। রাজপথ থেকে রাষ্ট্র প্রাসাদ- কোথাও কোন বিরোধের চিহ্নটুকু নেই আজ, নেই দলীয় কোন্দলের গোমরামি, নেই সমালোচনা বক্র শর। আরে উনি তো দলীয় লোক, দলের অন্ধ উগদাতাই শেষতক- এরকম একটি উপলব্ধিও প্রকাশিত হয়নি এখনো।

যদিও সৌহার্দের এই মাহেন্দ্রক্ষণেও দুই প্রধান দলের দুই রমণী কর্ণধারের সৌজন্য খাতিরতা আরও একবার অনুপস্থিত, তবুও অন্তত কয়েকটি দিনের জন্য দেশ মাতা যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। এই কয়েকটি দিন সবুজ চরাচরে ধ্বংসলীলা, হরতালের পয়গাম নেই; নেই বিশদ্গার কিংবা নিন্দাঝড়ের আলামত। রাষ্ট্রপতির দাফন অন্তেই আবার হয়তো মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে রাজনীতির মরণকামড়, প্রাণসংহারী পদক্ষেপগুলো। তবু তো একটু শুকরিয়ার ঢেঁকুর তোলা গেল। প্রমাণিত হল, আমরা ইচ্ছা করলেই পারি অনেক কিছু করতে, কারণ আমরা বাঙ্গালী, বহিঃবিশ্বের অনেক দৃষ্টিতেই আমরা বীরের জাতি।

এই মহতি ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ যিনি ঘটিয়ে দিয়ে গেলেন- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান, একজন নীরব যাদুকর। যাকে নিয়ে উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি কখনো, যিনি হননি নানা মুনির নানা মতের বিতর্ক বিন্দু। নিভৃত পথচলায়, দেশমাতৃসেবার সাধনায়, জনদাবী আদায়ের আরাধনায় সদারত এক যোদ্ধা কিংবা সাধক। জাগতিক মায়া ছেড়ে তিনি না ফেরার দেশে প্রস্থান করলেন, তবে সমগ্র বাংলাদেশকে এবং বিশ্ব পরিসরকেও একটি বিন্দুতে মিলিয়ে দিয়ে গেলেন কিছুদিনের জন্য হলেও। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায়, জান্নাতের উদ্যানে আত্মার আশ্রয়ণে প্রার্থনা করি; তবে কায়মনোবাক্যে এও প্রার্থনা করি, যেন তার রেখে যাওয়া আদর্শের শিক্ষায় অনুপ্রেরণার রসদ খুঁজে পাই আমরা, খুঁজে পান আমাদের রাজনৈতিক কর্ণধারেরা।


চাঁদের হাটে ভাঙ্গন

অনিবার্য মহাযাত্রার ইশারায়
নশ্বর জীবন হাটে বৈরাগ্য তান-
সব ভেঙে যায়, স্মৃতি ফেলে যায়;
অগণিত সান্ধ্য দেয়ালি, দিনপঞ্জিকা
স্মৃতির স্মারক- স্থান পায় শেলফে।

এতো সরগরমের উপলক্ষ, সে মানব কই?
সুখ ছোঁয়া রয়ে যায়, কীর্তি হেসে যায়-

কুঁড়ের অলিন্দে পায়রা বন্দনা বসেছে,
গ্রামোফোনে বেজে যায় রাগসঙ্গীত,
বিদায়ী পথিকের ছায়াটুকুও থাকেনা
তবু চিহ্ন থেকে যায়, সুখ ছোঁয়া থাকে।

কালো কালো অক্ষরে শোকগাঁথার ভীড়
ক্যামেরা লেন্স জুড়ে হারানোর মাতম-
যাকে ঘিরে, সে তো সময় রথে সওয়ার
সপ্তাকাশ চুমী ক্যারাভানে একা থাকা

স্মরণিকা, দেয়ালিকাময় স্মৃতিচারণ সারা,
চা বৈঠকে আড্ডা সীমাহীন- একটাই বিষয়,
কীর্তিমান থাকেনা, কীর্তিও মোছে না-
তবু কিছু পিছুটান থাকে, সুখছোঁয়া থাকে।


সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:০১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×