ভুয়াপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জলিল ভুইয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছেন। রাত নয়টা। রাম্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। মফস্বলের জন্য বেশ রাত। ভুয়াপুর স্কুলে তার শিক্ষকতার বয়স প্রায় বারো বছর। এলাকার সবাইকে তিনি চিনেন। অনেকেই তার ছাত্র। এছাড়া তিনি ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করেন না। তাই রাতবিরোতেও নিঃশঙ্কে তার চলাফেরা। বাজার থেকে ফসলান্দির দিকে যে রাস্তাটি চলে গেছে সেটিই তার বাড়ির শর্টকাট পথ। তিনি সে পথেই হাঁটতে শুরু করলেন। কিছুদূর এগুতেই রাস্তার মোড়ে রাখা ইটের ঢিবির পেছন থেকে নারী কন্ঠের আর্তনাদ ভেসে আসলো, 'বাঁচাও, বাঁচাও...'
কন্ঠটি তার চেনা। কালাম ব্যাপারীর মেয়ে রাজিয়া। এ বছরই এস এস সি পাশ করেছে। মেয়েটির আবেদনে সাড়া দিতেই তিনি দ্রুতই ঢিবিটির দিকে এগিয়ে গেলেন। ধস্তাধস্তির শব্দের সাথে মেয়েটির গোঙানী স্পষ্টতঃই শুনতে পাচ্ছেন। হঠাৎ চোখে পড়ে ঢিবিটির সামনে পিস্তল উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শামিম চেয়ারম্যানের সাগরেদ হান্নানকে। হান্নান তার স্কুলেরই ছাত্র ছিল। নেশাখোরদের পাল্লায় পড়ে লেখাপড়া হয়নি। এখন শামিম চেয়ারম্যানের পেছন পেছন ঘুরে। স্যারকে দেখে হান্নান সালাম দিয়ে ধাতব কন্ঠে বলে, 'চেয়ারম্যান সাব অপারেশনে আছেন। স্যার আপনি চলে যান, আপনি কিন্তু কিছুই দেখেননি, কিছুই শুনেননি '। কথা শেষ করেই পিস্তলে হাত বুলাতে শুরু করে সে।
জলিল ভুইয়া একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ভূতগ্রস্তের মত বাড়ির দিকে দৌঁড়াতে শুরু করেন। কেউ পাশে থাকলে নিশ্চিত শুনতে পেতো স্যারের অসহায় বিড়বিড়, 'আমি কিছু দেখিনি, আমি কিছু শুনিনি।'
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



