
ত্রয়োদশ শতাব্দির শেষের দিকে স্বার্থগত কারণে টমাস একুইনাসের মত পাদ্রিরা নিজেদের চিন্তা-যুক্তিকে ধর্মের পোশাক লাগিয়ে বাজারজাত করতেন। ঠিক তেমনি ইসলাম ধর্মেও কিছু লোক নিজেদের স্বার্থের জন্য অধর্মকেও ধর্ম বলে প্যাঁক প্যাঁক করে যাচ্ছেন। আমরা স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বাস করি, ব্লগারদের মধ্যে এমন মানুষের সংখ্যা শূন্যের কোঠায়। কিন্তু আমার কিছু প্রিয় ব্লগার আছেন, যারা ইতিপূর্বে ধর্ম সম্পর্কে খুব একটা জানেন না বলে স্বীকার করেও ধর্ম নিয়ে পোস্টাচ্ছেন। আবার অনেকে ধর্ম নিয়ে লেখেন ঠিকই, তবে তাদের লেখা পড়লে ধর্ম সম্পর্কে তাদের রিসার্চের ডিপ যে অতি স্বল্প সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠে। অনেকদিন যাবত এবিষয়গুলো লক্ষ করতে গিয়ে যেমন অবাক হয়েছি তেমন খারাপও লেগেছে। মুলত তাদের এমন প্রজ্ঞাপূর্ণ পোস্টগুলো তাদেরই সংশয় দর্শন প্রকাশ করে।
আসলে ধর্ম কী? ধর্মের মূল বাণী কী?
ধর্ম হল পরকাল তথা মৃত্যু পরবর্তী সময় কিংবা আত্মিক বিষয়ের তত্ত্ব। এবং সকল ধর্মের মূল বাণী হচ্ছে "মানুষের মুক্তি"। এই সজ্ঞায় খ্রিষ্ট ধর্ম, হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম সহ সকল ধর্মই শামিল। কেবল ইসলাম ধর্ম ছাড়া।
ইসলাম ধর্ম এতটুকুতেই তৃপ্ত নয়। ইসলাম পৃথিবীর সকল ধর্ম এবং দর্শনের মৌলিকত্বকে তার নিজের অবস্থানের সাথে সমন্বয় করে ধর্ম থেকে 'দ্বীনে' রূপ ধারণ করেছে। ধর্ম হলো, আত্মা কিংবা পরকালীন বিষয়াদির তাত্ত্বিক আলোচনা। 'দ্বীন' হল ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সার্বিক বিষয়ের তত্ত্ব। পার্থিক জীবনবিমূখতাকে ইসলামি পরিভাষায় 'রুহবানীয়্যাত' বলে। নিছক রুহবানিয়্যাতের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। ইসলাম সম্পর্কিত কোথাও তার পরিচয়ে 'মাযহাব' শব্দ ব্যবহার করা হয়নি, সব স্থানেই দ্বীন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। 'রাব্বানিয়্যাত' আর 'দ্বীন' ভাবের দিকে সমার্থক শব্দ; যার সম্পর্ক ইহকাল ও পরকাল এর সাথে। আরবি 'মাযহাব' শব্দের সংস্কৃত শব্দ 'ধর্ম' এবং ইংরেজি 'রিলিজিয়ান'। প্রকৃত অর্থে 'ধর্ম' বা 'রিলিজিয়ন' দিয়ে 'দ্বীন' শব্দের পূর্ণাঙ্গ অর্থ হয় না। দিনের মধ্যে আছে 'হাসানাত দুনিয়া ওয়াল আখেরাহ' অর্থাৎ দুনিয়া ও আখেরাতের সুন্দর জীবনের বিধান। দ্বীন বললে বস্তু ও ভাবের সমন্বয় হয়ে যায়। ধর্ম বললে শুধু ভাব বুঝায়। সুতরাং বুঝা গেল, ইসলাম হচ্ছে দুনিয়া ও আখেরাতের সমন্বয়কারী ও সফলতা দানকারী একটি 'দ্বীন'।
'ইসলাম' শব্দ ব্যুৎপত্তিগতভাবে 'সালাম' শব্দ থেকে এসেছে। আর 'সালাম' শব্দের অর্থ শান্তি।আচ্ছা, শান্তি কাকে বলে?
অনেকে বলেন শান্তি আপেক্ষিক বিষয়। এটা একেকজনের কাছে একেকরকম। আসলে শান্তি হচ্ছে যন্ত্রণা অপসারণের নাম। একটু এগিয়ে বললে 'যন্ত্রণা অপসারণের সাথে সাথে জীবন সংগ্রামে আনন্দলাভের নাম হচ্ছে শান্তি।' উপরের আলোচনা থেকে বুঝা গেল, ইসলামের শান্তি শুধু পরকালীন নয়, ইহা ইহকালীনও বটে।
আমরা মানুষজাত সাধারণত যে ভুলটা করি তা হচ্ছে, ধর্ম, দর্শন, শিল্প, বিজ্ঞানের পরিপূর্ণ বিষয়গুলো না বুঝেই সমালোচনা শুরু করি। আবার সমালোভচনার সময় নিজেদের চোখের চশমা না খোলেই পুরো বিশ্বকে নিয়ে বিবেচনা করে বসি।
চাইলে চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ১১:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





