somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

হাবিবুর রহমান তানভীর
If Allah be with us,then who is to harm us?(যদি আল্লাহ আমাদের সাথে থাকেন,তাহলে কে আছে ক্ষতি করার?)

তাকদির বনাম স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দুইটা বিষয়ে কী সামঞ্জস্য আছে?

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন হলেন অনন্ত অসীম। তাঁর কোনো আদি অন্ত নেই। তিনি সময়ের ঊর্ধ্বে। সময় দ্বারা তিনি আবদ্ধ নন। বরং সময় তাঁরই সৃষ্টি এবং মহাবিশ্বকে তিনি সময়ের ফ্রেমে আবদ্ধ করেছেন।
.
সময়ের ফ্রেম বলতে মূলত ‘Present’ বা ‘বর্তমান’ এর ফ্রেম বোঝাচ্ছি। আমরা কখনোই বর্তমানকে অতিক্রম করে যেতে পারি না। আপনি প্রতি মুহুর্তে বর্তমানেই আছেন। কিছুক্ষণ আগের অতীতেও ফিরে যেতে পারবেন না, বর্তমানকে পাশ কাটিয়ে ভবিষ্যতেও চলে যেতে পারবেন না। ফিকশনগুলোতে সময় অতিক্রমের আজগুবি ঘটনা দেখানো হলেও এটাই ফ্যাক্ট। আমাদের জন্য সময় ধীরে বা দ্রুত যেতে পারে – সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু সময়ের ঊর্ধ্বে উঠে একে অতিক্রম করা আমাদের জন্য অসম্ভব।
.
তাহলে ভাবুন তো, সময়ের ঊর্ধ্বে কোনও একজন সত্ত্বার জন্য কি একই জিনিস খাটে? উত্তরটা সহজ – না, খাটে না। যখন সময়ই ছিল না তখনও আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন ছিলেন। তিনি আমাদেরকে সময় দ্বারা আবদ্ধ করেছেন কিন্তু তিনি সময়ের ঊর্ধ্বে বলে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত তাঁর কাছে একইসাথে বিরাজ করে। তাই আল্লাহ অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত সবকিছু সম্পর্কে পূর্ণজ্ঞান রাখবেন – সেটাই স্বাভাবিক।
.
এখন তিনি যদি আপনার ভবিষ্যত দেখে সেটা লিখে রাখেন তাহলে সেটা মোটেও আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে না, বরং আপনার নিজ থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তই হবে। কারণ আপনি ভবিষ্যত সম্পর্কে জানেন না বলে একটু পর ডানে যাবেন নাকি বামে যাবেন সেটা আপনার নিকট সিদ্ধান্ত হিসেবেই আবির্ভূত হবে। আমরা বর্তমানের ফ্রেমে বন্দি বলে আমরা যে ভবিষ্যত সম্পর্কে কিছু জানি না – এই না জানাই আমাদেরকে নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর জন্য এককভাবে দায়ী করে।
.
এই হল আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘Free will বা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি’ দেওয়া সত্ত্বেও তাঁর আগে থেকে সবকিছু জানা থাকার একটি ব্যাখ্যা – তিনি সময়ের ঊর্ধ্বে, আমরা নই। বর্তমানের ফ্রেমে বন্দি আমাদের কাছে বিকল্প কাজগুলো সব অজানা Option বা সিদ্ধান্ত হিসেবেই আসছে। তাই আল্লাহ আগে থেকে জেনে থাকলেও আমাদের সমস্ত কাজের দায়ভার আমাদেরই। এখন কেউ বলতে পারে, স্রষ্টা চাইলে আমাদেরকে দিয়ে জোর করে শুধু ভালটাই করিয়ে নিতে পারতেন – কিন্তু তা হলে সেটা আর আমাদের Free will থাকত না।
.
তাহলে আল্লাহ আগে থেকেই জানেন বলে তিনি তো দুনিয়ার জীবন ছাড়াই সরাসরি জান্নাত বা জাহান্নাম – যার যেখানে ঠিকানা হবে সেখানে দিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তাহলে জাহান্নামীরা তো প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়ে যেত - তাদেরকে সুযোগ না দিয়েই কেন সরাসরি জাহান্নামে দিয়ে দেওয়া হল। আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন এই প্রশ্ন করার সুযোগ রাখলেন না। তিনি জানা সত্ত্বেও দুনিয়ার জীবন দিলেন।
.
তাই কিয়ামতের দিন আল্লাহর ফয়সালা হয়ে যাওয়ার পর কেউ বলবে না যে তার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। বরং হাহাকার করে বলবে,
.
“...যদি কোনরূপে একবার ফিরে যেতে পারি, তবে আমি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে যেতাম।” (সূরা যুমার, ৫৮)
লেখক ঃ তানভীর আহমেদ
(fb id: fb.com/abdullah.tanvir.ahmed)

ধন্যবাদান্তেঃ তানভীর
(fb id: fb.com/TanvirBD1971)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×