:তুমি?
-হ্যাঁ,"আমি" বা "আমরা"।
:আবার এসেছ?
-আমি তো সবসময়ই আছি।
মাঝে মাঝে শুধু আড়াল নেই।আবার
দরকারমত বেরিয়ে আসি।
:তা এখন বেরিয়ে এলে কেন?
-
আমি নিজে থেকে তো বেরোইনি,তুমিই
বের করে এনেছ।
:আমি?কক্ষনো না!!
-নিজের
আড়ালে অবচেতনে ডেকে ফেলেছ,টেরই
পাওনি।
:জাহান্নামে যাও!!!
-"জাহান্নাম" কী?
:ন্যাকামো ছাড়ো।তুমি ভাল করেই
জানো।
-তা ঠিক।তুমি যতটুকু জানো,ততটুকুই
আমার জ্ঞান,কিন্তু... ..
:কিন্তু কী?
-আমার প্রশ্ন করার
ব্যাপারটা ন্যাকামি না।
:ন্যাকামি না তো কী?
-তোমার জ্ঞানটুকুর ব্যবচ্ছেদ
করে তোমার জানার
মাঝে গভীরতা আনতে চাই বলেই
প্রশ্ন করি।
:এবারে তো জ্যাঠামি শুরু
হয়ে গেল!!
-তুমি যা ধরে নাও।
:তোমার কি লাজলজ্জার বালাই
নেই?সময়ে অসময়ে কেবলই আমার
হাড় জ্বালাচ্ছ।
-হ্যাঁ,জ্বালাচ্ ছি।আরো জ্বালাবো।
জ্বালি য়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেব।
সেই ছাই বাতাসে উড়িয়ে দেব।
তারপর ছাইয়ের গুঁড়োয়
চেপে বাতাসে ভেসে তোমার
নাসারন্ধ্রের
পথে ঢুকে পড়বো ফুসফুসে।এরপর
লোহিত কণায় ভর
করে রক্তস্রোতে ভেসে ভেসে সোজা তোমার
মগজে।শক্ত করে চেপে বসব তোমার
স্নায়ুকোষে,যেখ ানে "আমরা"
সবসময় ছিলাম।
:তুমি তাহলে মগজে খুঁটি গেড়েছো?
-হ্যাঁ।
:বেশ!আমি ব্যস্ততার জলে আচ্ছামত
ধোলাই করব মগজটাকে।কোথায়
ভেসে যাবে তুমি খড়কুটোর মত!!
-অত সহজ না।
:কেন?
-মগজ থেকে ধুয়ে ফেলে কি লাভ!!
আমি যে অনাদি অনন্তকালে ধরে তোমার
অস্থিমজ্জায় মিশে আছি।তোমার
প্রতিটা নতুন রক্তকণায় নতুন
করে জন্ম নেই আমি,তোমারই
রক্তস্রোতে ভেসে বেড়াই
প্রতিনিয়ত...
:উফফ!!বকবকানিটা এবার
থামাবে!!!
-কিন্তু আমি "বকবকানি"টা শুরু
করেছিলাম বলেই তুমি আজকের এই
তুমি-এটা স্বীকার কর তো?
:জানি না!!
-বাহ!!ভুলে গেলে!!প্রথম যখন
কথা বলতে শিখলে,এই আমিই তোমার
মুখ দিয়ে বের
করিয়েছি হাজারটা জিজ্ঞাসা।
:করিয়ে তো উদ্ধার করেছ!!
জিজ্ঞাসার বিপরীতে চোখ
রাঙানি,বকুনি আর পিটুনির
সংখ্যাও নেহায়েত কম ছিল না।
-হতে পারে।চারপাশের জগৎ
পরিবর্তন আর
কৌতুহলে অনভ্যস্ত,তাই শক্ত
হাতে কৌতুহল দমন করে।আর
আমি চাই
তোমাকে ছড়িয়ে দিতে,রহস্যের
বিশাল জগতের দ্বার তোমার
সামনে খুলে দিতে।
:কী দরকার!!জগতের
দমনটাকে মেনে নেওয়াই বরং ভাল
না?
-কীভাবে?
:সীমিত আকারের জগতে বেশ
কটা দিন
নির্ঝঞ্ঝাটে টিকে থাকা যায়।
-কিন্তু টিকে থাকাটাই কি সব?
:কেন নয়!!!
-তাহলে তো তেলাপোকাই পৃথিবীর
শ্রেষ্ঠতম প্রাণ।
:ঠাট্টা রাখো।আর জেনে রাখো শুধু
তোমার কারনেই আমার যত
বিড়ম্বনা।
-কিন্তু তুমি কি অস্বীকার
করতে পারবে-এই আমার কারনেই
তুমি আর দশজন থেকে আলাদা নও?
:হ্যাঁ,স্বীকার করছি আমি আলাদা।
এবং খুব অস্বাভাবিকভাবে। আমার
প্রতিটা কাজের
মাঝে তুমি এসে বাগড়া দাও খুব
বিশ্রী ধরনের এলোমেলোভাবে।
নিয
়মমেনে পরিপাটিভাবে উপস্থিত
হওয়ার কোন প্রবণতাই তোমার
মাঝে নেই।
-এই অভিযোগ
আমি মাথা পেতে নিলাম।
:এখন অভিযোগটাকে মাথার
সাথে শক্ত করে চেপে ধরে বিদায়
হও।
-ঠিক আছে।তবে সময়মত আবার
বেরোব। বিদায়।।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



