শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড । কথাটি বহুল প্রচলিত এবং ব্যবহৃত । আর এই মেরুদন্ড তৈরির গুরু বা ডাক্তার হচ্ছেন শিক্ষকরা । এবং বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে এই মেরুদন্ডের সর্বশেষ পেরেকটি মারা হয় । কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ই হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান । এবার আসি এখানকার শিক্ষক- ছাত্র সম্পর্কে....। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, প্রাচীনকাল থেকেই গুরু- শিষ্য সম্পর্ক খুবই মধুর এবং বিশ্বাস বা সম্মানের ধরা হয় । হ্যাঁ, এটা অবশ্যই শ্রদ্ধার বা সম্মানের হওয়া বাঞ্চনীয় । কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন । ছাত্রদের কাছে শিক্ষক মানেই বিশাল ক্ষমতাধর কোন প্রাণী । তাঁর হাতে বিশাল ক্ষমতা, তিনি যা ইচ্ছা ছাত্রদের সাথে তাই করতে পারেন । আর ছাত্রীদের সাথে শিক্ষকদের সম্পর্কের মাত্রা তো আরো ভয়াবহ । পেপার খুললেই শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণের মতো ঘটনা দিয়েই পেপার ভর্তি থাকে । কিছুটা ঘটনা তুলে ধরলাম _____
১) ধরুন, কোন শিক্ষক -এর ক্লাস ছিল সকাল ১০ টায় কিন্তু তিনি তাঁর ব্যক্তিগত কারণে ক্লাস নিবেন না । সেই ক্লাস তাঁর ইচ্ছামত নিবেন বিকাল ৫ টায় । কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের ওই সময় ক্লাস করার কোন মন-মানসিকতা থাকার কথা নয় ।
২) যেদিন ক্লাস থাকে সেদিন ক্লাস না নিয়ে অফডে তে ক্লাস নিবেন তারা । কিন্তু শিক্ষার্থীদের ওই অফডে তে ক্লাস করতে ভাল না লাগতেও পারে । কিন্তু তারা যদি রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নেন, তাহলে কিন্তু অফডে তে ক্লাস করা লাগেনা ।
এছাড়া আরো অনেক ঘটনা আছে যা বললে শিক্ষকরা মনঃক্ষুণ্ণ হতে পারে । যেমন, ছাত্ররা তাদের পরিক্ষার ফি, হল ফি অন্যান্য ফি কমানোর জন্য আন্দোলন করলে পুলিশ দিয়ে হামলা করা হয় । কিন্তু শিক্ষকরা যখন বেতনের দাবিতে দিনের পর দিন ক্লাস কর্মবিরতি দেন, তখন পড়াশুনা নষ্ট হয় না। বরং তারা বলেন, এটাও শিক্ষার অংশ ।
কোন ছাত্র শিক্ষকদের এই বঞ্চনার বিপক্ষে কথা বললে শিক্ষকরা ঐ শিক্ষার্থীর পুরো শিক্ষাজীবন নষ্ট করে দেওয়ার ভয় দেন । কারণ তাদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তুলে দিয়েছে Internal Evaluation -এর ২০ মার্ক্স এর প্যাড়া । যা বিজনেজ ফ্যাকাল্টির ছাত্রের জন্য আরো বেশি । এই ২০ মার্কের প্যাড়ায় পরে না পারি বলতে না পারি চলতে । বড়ই বিচিত্র এ শিক্ষাজীবন, বিচিত্র এ বিশ্ববিদ্যালয় ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



