somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীরবেই নতুন রূপে গুগল......

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৭:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিভিন্ন উপলক্ষে নতুন নতুন লোগো নিয়ে হাজির হওয়া গুগলের জন্য নতুন কিছু নয়। কোনো বিজ্ঞানীর জন্মদিন হোক বা কোনো সামাজিক উৎসব অথবা প্রিয় দুই দলের খেলা—নতুন লোগো বানিয়ে সবাইকে চমকে দেওয়াতেই যেন গুগলের আনন্দ। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাপী লোগোতে পরিবর্তন করল গুগল। গত মাসে প্রতিষ্ঠানটিতে বড় ধরনের রদবদলের পর লুকে বদল আনতে লোগো পরিবর্তন করল ‘সার্চ ইঞ্জিনের দৈত্য’ নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ লোগো পরিবর্তন করেছিল গুগল ।

গতকাল ১লা সেপ্টম্বর ২০১৫ তারিখে গুগল তাঁর নতুন লোগো উন্মোচন করেছে। নতুন গুগল লোগোটিতে ছয়টি বর্ণের ‘Google’ লেখাটি রয়েছে আগের মতই। তবে তার ডিজাইনে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটিতে Sans-Serif ফন্ট ফ্যামিলি ব্যবহার করা হয়েছে। লোগোর রঙ একটু নমনীয় করা হয়েছে। এর ফলে লোগোটি আরো আকর্ষনীয় মনে হচ্ছে। একটি হাত মুছে দিচ্ছে পুরনো লোগো। তারপর রঙিন পেন্সিল দিয়ে লিখে দিচ্ছে গুগল শব্দটির প্রতিটি অক্ষর। লাল, হলুদ, সবুজ, নীল— চার রঙে তৈরি হয়ে যাচ্ছে নতুন লোগো। ১৯৯৮ থেকে এই সার্চ ইঞ্জিনের যাত্রা শুরু হয়। তার পর এই নিয়ে মোট সাত বার লোগো পরিবর্তন করা হল। আগের মাসেই গুগল তাদের ব্যবসায়িক মূল কোম্পানী ‘আলফাবেট’ এর ঘোষনা দেয়। এরপর গুগলে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। এই লোগো পরিবর্তনটিও তারই একটি অংশ।

গুগলের নতুন লোগোটিতে আগের মতই চারটি রঙের সংযোগ ঘটানো হয়েছে। লোগো পরিবর্তনের কারণ হিসেবে গুগলের মতে, গুগল এখন শুধু একটি সার্চ ইঞ্জিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গুগল এখন ডেস্কটপ,মোবাইল,গাড়ি সহ প্রতিটি ডিভাইসের সাথে জড়িয়ে রয়েছে। সব ধরনের ডিভাইসে একই ধরনের আমেজ আনার জন্যই এই লোগো পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়াও নতুন লোগোটির সাইজও অনেক কম যার ফলে খুব কম ব্যান্ডউইথের কানেকশনে লোগোটি লোড হতে সময় কম লাগবে। নতুন লোগোটির সাইজ মাত্র ৩০৫ বাই, যেখানে আগের লোগোটি ছিলো ১৪,০০০ বাইট। বর্তমানে গুগলের সকল সুবিধায় এই নতুন লোগোটি দেখা যাবে। চারটি রঙের সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি অসাধারণ এনিমেশন শীঘ্রই দেখা যাবে গুগলে সকল সেবায়। এছাড়া শুধুমাত্র ‘G’ অক্ষরটিতে চারটি রঙ্গের কম্বিনেশন করে বিভিন্ন সেবার লোগো দেখা যাচ্ছে। গুগলের লোগোর ইতিহাসে সবথেকে বড় পরিবর্তনটি করা হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। তার আগে 'Google' এর পরে একটি বিস্ময়বোধক চিহ্ন (!) থাকত, সেটি বাদ দেওয়া হয়। ২০১৫ এর নতুন এই লোগোতে গুগলের ‘G’ অক্ষরটি বড় করা হয়েছে। এতদিন এটি ছোট ও পাতলা হরফে লেখা হত। এবং ‘G’ অক্ষরে উজ্জ্বল নীল রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এন্ড্রয়েডের গুগল সার্চ ও গুগল+ আ্যপে ব্যাপারটি বেশ লক্ষ্য করা গেছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের ইনকরপোরেটের অধীনে যাওয়ার তিন সপ্তাহ পর গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন আনল গুগল। নতুন লোগোতেও সাদা দৃশ্যপটে চার রঙের অক্ষর থাকছে ঠিক আগের মতোই। নতুন লোগোতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অ্যালফাবেটের লোগোও। এখন থেকে গুগলের লোগোর এই চার রং দেখা যাবে গুগল মাইক্রোফোনেও। অর্থাৎ গুগলের যেসব সেবায় গুগল ভয়েস ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, সেখানে মাইক্রোফোনের ছবিতে এই চার রঙের দেখা মিলবে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক গুগলের লোগো নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

১) এই প্রথম ডুডলের মাধ্যমে লোগো পরিবর্তন করল গুগল।
২) গুগলের লোগোতে শিশুপাঠ্যের প্রিন্টের সঙ্গে মিল রয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে জ্যামিতিক নকশাও।
৩) গুগল শব্দের শেষ অক্ষর ‘e’ আগের মতোই একটু বেঁকিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে।
৪) নতুন লোগোতে ব্যবহার হয়েছে নতুন ফন্ট।
৫) এর আগে মোবাইল ব্যবহারকারীরা একটু অন্য ভাবে গুগলের লোগো দেখতে পেতেন। এ বার থেকে সব ফরম্যাটেই সমান ভাবে দেখা যাবে।
৬) নতুন লোগোতে লাল, হলুদ, সবুজ রঙের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
৭) লাল, হলুদ, সবুজ, নীল চার রঙের বিন্দু দিয়ে তৈরি প্রথম ‘G’ অক্ষরের মধ্যে এই চারটি রংই রয়েছে। ওই অক্ষরটি স্ক্রিন থেকে মিলিয়ে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে নতুন লোগোটি।

বি.দ্রঃ গুগল এর যাত্রা শুরু হয়ে ছিল সেই ১৯৯৫ সালে ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন এর গবেষণা প্রকল্প থেকে, তখন তারা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন । ১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে ওয়েব ক্রলার কাজ করা শুরু করে। ওয়েব ক্রলার মুলত ওয়েব সাইটের তথ্য গুলোকে খোজার কাজ করে থাকে। অনেক গবেষণা এর পর আজকের এই গুগল। আমরা চাইলেই এখানে বসে পৃথিবীর ওপর পাশের তথ্য নিমিষেই হাতের মুঠোয় পাই। মুলত এই সার্চ ইঞ্জিন টি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এর ওয়েব সাইট google.stanford.edu. ডোমেইন ব্যবহার করত। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখে http://www.google.com এর রেজিষ্ট্রি করা হয়।

লোগো ইতিহাসঃ
৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ সালে Larry Page ও Sergey Brin যখন Google প্রতিষ্ঠা করেন তাদের Stanford University graduate project-এ এই লোগোটি প্রথম ব্যবহার করেন।



এরপর ৩০ আগষ্ট ১৯৯৮ সালে গুগল লোগোটি পরিবর্তন আসে এবং নিচের লোগোটি ব্যবহার করে।



এরপর সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ সালে গুগল যখন google.com নামে পরিবর্তন হয়ে যায়, তখন তৃতীয় ধাপে গুগলের লোগোটিতে পরিবর্তন আসে এবং গুগল Beta রিলিজ করে নিচের লোগোটি সারা পৃথিবীতে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে।



এরপর মে ১৯৯৯ সালে খুব সুন্দর ও প্রাণবন্ত একটি লোগো তৈরী করে, যা খুবই জনপ্রিয় হয়। চতুর্থবারের লোগোটি নিচের মতো।



মে ১৯৯৯ সালের তৈরী করা লোগোটি দীর্ঘ ১১ বছর স্থায়ী ছিল। পরে মো ২০১০ সালে আগের লোগোর চাইতে উজ্জল করা হয় এবং ড্রপ শ্যাডো মুছে দেওয়া হয়। লোগোটি ছিল নিচের মতো।



এরপর আবার সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে তাদের লোগোটি’কে একেবারে সাদাসিধে করে ফেলে। ফলে সেটি দেখতে অনেকটা সাধারণ লেখার মতো হয়ে যায়। নিচের লোগোটি সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালের।



সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালের পর আবার সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালের ১ তারিখে নতুন লোগো তৈরী করল গুগল। এই লোগোটির বিশেষ বৈশিষ্ট হলো ‘G’ icon. যা বর্তমানে আপনারা গুগলে দেখতে পাচ্ছেন।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৭:৩৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০১



এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

কিছু জায়গা শুধু জায়গা নয়—সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আমাদের জীবনের একটি সময়, কিছু মানুষ, কিছু অভ্যাস আর অসংখ্য ছোট ছোট স্মৃতি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×