
বহমান এ জীবনে আবহমান আমারএ এলোমেলো ভাবনাগুলো আমার নিজের মতো করে ভাবলেতো হবে না। হয়তোবা আমি যাদের নিয়ে নিতান্তই ভেবে থাকি, তাদের কাছে আমার ভাবনাগুলোর কোনো মূল্যই নেই বা আমার ভাবনার সাথে তাদের ভাবনার বিস্তর ফারাক। ক্ষণিকের এ ট্র্যাজেডিক জীবনে আমার আগমন একাই হয়েছিল এবং বরাবরই একাই আমার জীবনের নাশ হবে। মানুষ যেহেতু সংঘবদ্ধ জীব সেহেতু এই “একা টু একা” জীবনে অনেক পরিস্থিতির অবতারণা হবে শুধুমাত্র এই সংঘবদ্ধতার কারণেই। সকল পরিস্থিতিতেই নিজেকে স্বাভাবিকভাবে মেলে ধরার নামই জীবনের আরো একটি সজ্ঞা। জীবন এবং আমি দুটোই আপন গতিতে ধাবমান। এই ধাবমানতায় কখনো আমি যেমনটি চাইব তেমনটি হবে আবার কখনো বা আমার পাওয়ার যোগ্য বিষয়টি না পেয়ে অহেতুক হতাশ হব। আর হতাশাগুলোকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই অগ্রসরমানতা। এ হতাশাগুলোকে স্বাভাবিক গতিতে মোকাবেলা করতে না পারায় আমরা অনেকেই আজ মানবেতর জীবনযাপন করছি।
মাঝের মাধ্যে নিজেকে প্রশ্ন করি, প্রথম দিন যখন আমি আমার বিদ্যাপীঠে গমন করেছি আমি কি একা থাকিনি? হয়তোবা সংঘবদ্ধতার কারণেই এক সময় আমার অনেক আপনজন হয়ে উঠেছে। একটু ভেবে দেখলেই বোঝা যায় আমার সেই আপনজনগুলো হয়তোবা গ্রুপ বিভক্তি, মানসম্মত বিদ্যাপীঠ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার কারণে কোনো না সময় আমার সাথে আর থাকতে পারে না।
এক পর্যায়ে আমার চেয়ে আমার আপনজনগুলোর সাথে অন্য কারো ভালো সম্পর্ক বিকশিত হয়। আমি তখন চাইলেও আর আমার পূর্বাবস্থার সেই সম্পর্কটুকু আর রক্ষণ করতে পারি না। কেননা সবকিছু আমি আমরা নিজের মতো করে ভাবলেতো হবে না। অতি সম্পর্ক কাছেও টানে না আবার দূরেও ঠেলে না। তাই কারো সাথেই অতি সম্পর্কে না জড়াটাই শ্রেয়। আর যদিও আমরা সময়ে সাথে জড়িয়ে পড়ি, আল্টিমেটলি আমরা কারো ভালোবাসার ফাঁকিতে অবহেলিত হই । যখন দেখি আমি আর আমার আপনজন এক পর্যায়ে নেই তখন সে সম্পর্কগুলোতে পাটল ধরতে শুরু করে।
সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে নিজ অবস্থানের দিকে লক্ষ্য রেখে সম্পর্ক স্থাপন করলে সম্পর্ক অটুট থাকে। বর্তমান সমাজে আমরা আমাদের চেয়ে বিন্দুমাত্র পর্যায় বিভক্তির কারো সাথে সম্পর্কে আবদ্ধ হলে ইন ফিউচারে আমরাই বিপদে পড়ি। তখন সম্পর্ক ঘিরে যত ভাবনায় দেখি বাস্তবে তা আকাশ-কুসুম কল্পনা। আমাদের কোনো ভাবনাই বাস্তবে রূপান্তরিত হবে না এমনকি নিজের ভাবনাগুলোর ম্লানে নিজেই অসহ্য যন্ত্রণা কাটবে, কেননা সবকিছু আমি আমার নিজের মতো করে ভাবলেতো হবে না।
পর্যায় বিভক্তির সম্পর্কগুলোতে যখন আমি নিজেকে সচল রাখতে চাই ঠিক তখনই আমি আমার আপনজনের অবহেলার পাত্র হই। আমার সাথে আমার আপনজনের ভাবনাগুলোর কোন মিলবন্ধনই খুঁজে পাই না। প্রাচুর্য থাকা মানেই কিন্তু ভালোবাসার দাবীদার নয়। ভালোবাসা শব্দটি ৮টি বর্নের সমষ্টি হলেও এটার অর্থ কিন্তু ব্যাপক, যাকে আমি মনে করি আমার প্রিয় কোন বস্তু ত্যাগ করে কারো প্রতি উদাত্তভাবে দেওয়াই হলো ভালোবাসা।আর ত্যাগের ভালোবাসাটুকু বিকশিত হোক সবার জীবনে।
আমরা আমাদের জীবনকে এমনভাবে সাজানো উচিত যাতে আমাদের চলাফেরায় কেউ কোন প্রকার কষ্ট না পায়। যাতে কেউ আমার অগোচরে আমার চলাফেরা নিয়ে বিন্দুমাত্র মন্তব্য না করে। তবে এখানেও একটি বিষয় রয়েছে- যারা আমাকে নিজ থেকে ভালোবাসবে তারা কখনোই আমার ত্রুটিগুলো আমার অগোচরে বলবে না। আমি কষ্ট পেলেও আমার সম্মুখেই পেশ করবে।
জীবনে আমি কখনোই এটা বিশ্বাস করিনা, No risk but gain. আমাদের চলমান এ জীবন কুসুমাস্তীর্ণ নয় বরং কন্টকাকীর্ণ। আর এ কন্টকাকীর্ণ জীবনের প্রতিটি ধাপেই রয়েছে সীমাহীন ঝুঁকি। আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই ঝুঁকিময়। যেখানে অসংখ্য ঝুঁকি প্রতিনিয়ত আমাদের তাড়া দেয়।
তাই বলছি- হয়তোবা আজ আমার স্বপ্নগুলো ধূলিস্মাৎ, হয়তোবা আজ আমি অবহেলিত, হয়তোবা আজ আমার মেহনত আমাকে যোগ্য চাহিদাটুকু দেয় না তবে একটি বিষয় মনে প্রাণে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করি- “জগতের সকল কর্মই সৃষ্টিকর্তার ইশারায় সংঘঠিত হয়।
একদিন আমার স্বপ্নের বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে, একদিন আমার অবহেলাগুলোর মোচন হবে, একদিন আমার মেহনত আমাকে যোগ্য স্থানে আসীন করবে বলে স্বপ্ন দেখে যাই আর একটা করে দিন চলে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৮:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





