সকালের দিকে ১টা ব্যাক্তিগত কাজে ঢাকা ভার্সিটির দিকে গিয়েছিলাম । ব্যাক করার সময় ৮টার দিকে মৎস ভবনে ১টা জটলার মত দেখলাম । কাছাকাছি আগাতেই বুঝলাম এক্সিডেন্ট । একবারে কাছকাছি যেতে বুঝলাম এটা স্বাভাবিক এক্সিডেন্ট না, স্পট ডেড । পুলিশ আমাকে ইশারা দিল পাশ কাটিয়ে চলে যেতে । কিত্নু আমার হাত দিয়ে গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরছিল না । শক্তি পাচ্ছিলাম না । পড়ে থাকা নিথর দেহটির দিকে তাকাতেও সাহস হচ্ছিল না । তবুও একবার তাকালাম গোলাপী পায়জামা পড়া ১টি মেয়ে । মগজগুলো ছিটকে পড়ে আছে । পাশে ১জন মহিলা বিলাপ করে কাঁদছে । পুরো রাস্তা রক্তে ভিজে আছে । পুলিশের তাড়ায় আর পেছনে গাড়ির হর্নে সে রক্তের উপর দিয়ে চালিয়ে চলে এলাম । পরে শুনলাম মেয়েটি সেগুন বাগিচা স্কুলের ক্লাশ নাইনের ছাত্রী ছিল । সেকি বাসা থেকে বের হবার সময়ও জানত যে শেষবারের মত আজ বাসা থেকে বের হচ্ছে ?
একটু আগে নিউজ ফিডে ১টা খবর আসলো । নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইল এলাকায় একই পরিবারের পাঁচ জনকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে । সকাল থেকে বাসায় নাকি কোন সারা শব্দ ছিল না না। সন্ধার দিকে প্রতিবেশীরা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় । পুলিশ থেকে দেখে এই অবস্থা ।নারায়ণগঞ্জের যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সে জায়গাটি আমার দাদাবাড়ি থেকে ওয়াকিং ডিস্টেন্স । বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠছে একটু পর পর । টিভি খুলে সাংবাদিকগুলোকে দেখলাম কেউ হাসতেছে । কেউ একবারে রুমের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি করতেছে । সবাই যে যার ধান্দায় ব্যাস্ত । ৫টা মানুষ যারা গতকালো এই সময় জীবিত ছিল কিত্ন এখন আর নেই এ ব্যাপারে কারো কোন হুশ নেই । এটি কেবলই একটি নিউজ ।
দুনিয়াতে ১টা জিনিসই সার্টেন আর তা হল মৃত্যু । অথচ আমাদের চারপাশের সব কিছুই সে চিরত্নন সত্যকে ভুলিয়ে রাখার চেস্টা করে যাচ্ছে । আমরা এমনভাবে বাচার চেস্টা করছি যেন কোনদিনই মরব না ! কি আজব না ! নিজেদের সাথে কি প্রতারণাটাই না আমরা করে যাচ্ছি । এতো আরাম, এত ভোগ, এত সাজ-সজ্জা যে শরীরকে আরাম দেয়ার জন্য, সে শরীর জাস্ট ১টা রুহ বের হবার সাথে সাথেই মূল্যহীন হয়ে যাবে । যে জিনিসগুলোর মুল্য তখন থাকবে তাকে কতটুকু মুল্যায়ন আমরা জীবিত অবস্থায় করছি ?
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


