কবিতার চেয়ে বরং তোমাকে আমার গল্প শোনাই। রাত দেড়টা। অনেকদিন পর ছাদে এসেছি। আগে ছাদে আসতাম সিগ্রেট খেতে। এখন বাড়িতে সিগ্রেট খাওয়া হয়না। তাই ছাদেও যাইনা। আজকে সিগ্রেট খেতে আসিনি। এসেছি শীত পোহাতে। আমি চাচ্ছি প্রচন্ড ঠান্ডাজ্বর লাগুক। কয়েকদিন ঘোরের মধ্যে থাকি। আমি আসলে আমাকে খুব ভালোবাসি। নিজের প্রতি মুগ্ধতা নিয়ে ঘুরি সবসময়। প্রেমিকেরা ফ্যান্টাসির জগতে থাকে। প্রেমিকার জন্য তেতলার স্যাঁতসেঁতে ছাদ থেকে লাফ দেয়। হাত কেটে চিঠি লেখে। ব্যক্তিগত কোন লাভ ছাড়াই প্রেমিকাকে অভিভূত করার কি আপ্রান চেষ্টা। আমিও তেমনি আমার প্রেমিক। আমার প্রেমিকা আমার আত্বা। আমি মাঝে মাঝে রোদে পুড়ি। বৃষ্টি আওড়াই। ঠান্ডাজ্বর বাধাই ইচ্ছে করেই। এগুলো আমাকেই খুশি করার জন্য।
সকালের বৃষ্টির জন্য এখনো ছাদ কেমন ঠান্ডায় পাথর হয়ে আছে। আমার গায়ে যে টিশার্ট পরা সেটা পরে একদিন নৌকাবাইচ দেখতে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে শুনলাম আমার চাচী মারা গেছেন। অথচ তার কিছুক্ষন আগেও তাকে জীবীত দেখেছিলাম বিশ্বাস কর!
আমার অনেক টিশার্টের সাথে অনেক স্মৃতি মিশে আছে তুমি জানো। প্রথম যেদিন আমাদের দেখা হল সেদিনের সেই গেঞ্জির কথা মনে আছে?
একদিন বৃষ্টি ভিজেপুড়ে খিচুড়ি খেতে গিয়েছিলাম। ঐ যে সবুজ টিশার্ট। রুবেলের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে নিয়েছিলাম। রুবেল অবশ্য অনেকদিন নিখোঁজ ছিল। আমরা আসলে নিজস্ব ব্যক্তিসত্তার কাছে নিখোঁজ হতে চাই মাঝেমাঝে।
র্যাগ ডের কালো গেঞ্জিটার কথা মনে আছে? আমার কপাল কেটে পিচকিরির মত রক্ত বেরোচ্ছে। তুমি শক্ত করে ধরে রেখেছো আমাকে।
আমার দাদী যেদিন মারা গেল সেদিন সম্ভবত প্রথম দিনের গেঞ্জিটাই পরে ছিলাম।
আমাদের জীবন হল হাওয়াই মিঠাইয়ের মত। ঝিলমিল করতে করতেই উবে যায়। আজ আর লিখতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। দুর্বোধ্য এর চিঠি পেলাম। আমাকে কঠিন কোন এক সিদ্বান্ত নিতে হবে। এক্ষুনি। কিছুক্ষনের মধ্যে। হাওয়াই মিঠাইয়ের ঝিলমিল শেষ হয়ে যাবার আগেই...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




