ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি শুভ জন্মাষ্টমীর কৃষ্ণপ্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজকের দিনটি অশেষ মাহাত্ম্য ও তাৎপর্যপূর্ণ। যে প্রসঙ্গে ভগবান নিজেই বলেছেন-
"অজোহপি সন্নব্যায়াত্মা ভূতানামীশ্বরোহপি সন্ ।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া ।।
য়দা য়দা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত ।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্ ।।
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্ ।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি য়ুগে য়ুগে ।।
জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং য়ো বেত্তি তত্ত্বতঃ ।
ত্যক্ত্বা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সোহর্জুন ।।"
(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা- ৪/৬-৯)
বাংলা অর্থ:-
আমি জন্মহীন, অব্যয় আত্মা, ভূতগণের শাসক, স্রষ্টা ও নিয়ামক হয়েও নিজ অনির্বচনীয়া মায়া শক্তিকে আশ্রয় করে আত্মমায়ায় জন্মগ্রহণ করি। হে ভারত যখন যখনই ধর্মের পতন হয় ও অধর্মের বৃদ্ধি হয়, তখন তখন আমি নিজেকে সৃজন করি। সাধুগণের রক্ষার জন্য, দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ ও ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমি যুগে যুগে অবতার রূপ ধারণ করি। হে অর্জুন, যিনি আমার এই প্রকার দিব্য জন্ম ও কর্ম তত্ত্বের সহিত জানেন, দেহ ত্যাগের পর তিনি পুনরায় জন্মগ্রহণ করেন না, আমাকেই প্রাপ্ত হন। (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা- ৪/৬-৯)
ঈশ্বরাবতার সম্পর্কিত এই নিগূঢ় তত্ত্বের প্রবক্তা সনাতন ধর্ম ও সমাজ ব্যবস্থার প্রাণপুরুষ, দ্বাপর যুগের লীলা পুরুষোত্তম, ভক্তজনের ক্লেশ হরণকারী ও পরম আশ্রয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। বেদে যাকে সচ্চিদানন্দ ব্রহ্ম এবং তন্ত্রে যাকে সচ্চিদানন্দ শিব বলা হয়েছে তিনিই এই পুরাণ পুরুষ সচ্চিদানন্দ কৃষ্ণ। আজ সেই পরমকরুনাময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি "জন্মাষ্টমী"। আজ থেকে সহস্র সহস্র বছর পূর্বে এই পূন্য তিথিতে তিনি আবির্ভূত হয়ে শাশ্বত সনাতন ধর্মকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, অধার্মিক ও পাপাচারীদের বিনাশ করে পৃথিবীকে ভারমুক্ত করেছিলেন। বিশ্ববাসীকে দিয়েছিলেন তাদের অমূল্য সম্পদ শ্রীমদ্ভগবত গীতার জ্ঞান। এ জ্ঞান শুধু ধর্মতত্ত্ব বা আধ্যাত্মিকতাবাদ নয়, এ জ্ঞান পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থাপকীয় জ্ঞান। যা মানুষকে জন্ম-কর্ম-বৃদ্ধি থেকে শুরু করে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে ঈশ্বরের কাছে পৌছে দেয়। এখানেই ভগবান ঘোষণা করেছেন-
"সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ ।
অহং তাং সর্বপাপেভ্য মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ ।। (১৮/৬৬)
মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদ্য়াজী মাং নমস্কুরু ।
মামেবৈষ্যসি সত্যং তে প্রতিজানে প্রিয়োহসি মে ।। (১৮/৬৫)
বাংলা অর্থ: সর্বধর্ম পরিত্যাগ করে একমাত্র আমার শরণ গ্রহণ কর; আমি তোমাকে সকল পাপ থেকে মুক্ত করব, তুমি শোক কর না। (১৮/৬৬)
তুমি আমার চিত্তগত (মন্মনা) হও, আমার ভক্ত হও, আমাকে নমস্কার কর। তাহলেই আমাকে পাবে- একথা আমি তোমার কাছে প্রতিজ্ঞা করে বলছি, কারণ তুমি আমার প্রিয়। (১৮/৬৫)"
আসুন আজকের এই পূন্য দিনে আমরা সকলে ভগবানের শরণাগত হয়ে প্রার্থনা জানাই- হে ভগবান, এই সংকটময় ঘোরকলি ক্লেশ থেকে আমাদের পরিত্রাণ কর। হে প্রভু তুমি আবার এসে এই ধরার ভার হরণ কর। তোমার সৃষ্টিতে ধর্ম শান্তি ও মানবতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত কর।
কৃষ্ণায় বাসুদেবায় হরয়ে পরমাত্মনে ।
প্রণত ক্লেশনাশায় গোবিন্দায় নমো নমঃ ।।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




