somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিপ্লবের এই সরকার থেকে মানুষের আশা কি ছিল

১৬ ই অক্টোবর, ২০২৪ রাত ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যদি এক লাইনে বলতে বলা হয় বিপ্লবের এই সরকার থেকে মানুষের আশা কি ছিল তাহলে কি বলবেন?
উত্তরটা সহজ, কয়েক বছর পিছনেই দেওয়া আছে।
আমি বারবারই বলি সমসাময়িক বাংলাদেশে ১৮ এর সড়ক আন্দোলন খুবই সিগনিফিকেন্ট। এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অর্গানিক ছিল, কোনো বিদেশী শক্তির উপস্থিতি ছিলোনা। বেকুব বিএনপি ছিলো না, ভেড়ার খোলস পড়া শিবির ছিলোনা। ছিল শুধু হেলমেট পড়া আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তান্ডব।

অনেক অর্জনের মধ্যে একটা ছিলো, চাইলে দেশ কেমন হইতে পারে- নতুন প্রজন্ম রাস্তায় সেইটা দেখতে পেরেছে খুব সাকসেসফুল ভাবে। পৃথিবীর অন্যতম বিশৃঙ্খল সড়ককে কয়েকদিনের জন্য ঠিক করে দিয়ে দেখায়ে দিয়েছিলো, চাইলেই পারা যায়।

এই সরকারের মেন্ডেটটাও খুবই সিম্পল ছিল, দেখায়ে দেওয়া যে, চাইলেই পারা যায়। এবং সেটা সহজেই করা যেত বিপ্লবের স্পিরিটটাকে জাগায়ে রেখে।
এই জাগায়ে রাখাটাও খুব সহজেই করা যাইতো যদি এই সরকার বিপ্লবের মতনই শক্তিশালী আর সাহসী হইতো। সবার মন রক্ষার সরকার হইতে গিয়ে তারা এতটাই ব্যার্থ হইসে যে দুই মাস না যাইতে হাসিনার নাম স্লোগান দেওয়ার সাহস করতে পারেওর স্বয়ং আদালত প্রাঙ্গনে, হাসিনা নিজে ফোনে ফোনে দেশের মানুষকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার সাহস করতে পারে, অনলাইনে আওয়ামী বট আইডি সয়লাব হয়ে প্রোপাগান্ডা চালাইতে পারে।

যেহেতু সাময়িক সময়ের সরকার, তাই সাময়িক সময়ের জন্য দেখায়ে দেওয়া দরকার ছিল যে চাইলেই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া যায়, বিশৃঙ্খল রাস্তাকেও নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা যায়, জিনিসপত্রের দাম কমানো যায়, কৃষককে নেয্য মূল্য দেওয়া যায়, দেশ পরিষ্কার রাখা যায়- এমন সব জিনিসে রেডিকেল পরিবর্তন আনা যেগুলো মানুষের জীবনে ডিরেক্ট ইম্পেক্ট ফেলে।
কিন্তু এগুলোকে সেকেন্ডারিতে রেখে এই সরকার বারবার ভারী ভারী জিনিসকে সামনে নিয়ে আসছে। সংবিধান, আইন ব্যবস্থা, রাজনীতি- এগুলো নিয়ে মানুষের মাথা ব্যাথা আছে? খাইতে না পেরে কিছুদিন পর যদি স্লোগান দেয়- ভাত দে, নাইলে সংবিধান চিবিয়ে খাবো- তাইলে কারো কিছু বলার থাকবে?

ড: ইউনূসের বায়ো দেখলে যতটুকু বুঝা যায় এবং ইন্টারভিউ গুলোতেও তিনি বারবার যেই কথাটা বলছেন, তিনি বিগার পিকচারটা দেখতে চান। সাসটেইনেবল একটা সমাধান দিয়ে যাইতে চান। কিন্তু তাকে এটাও মাথায় রাখতে হবে সরকার হইলে সবদিক সামাল দিতে হবে। সাসটেইনেবল বিগার পিকচার'ও দেখতে হবে, টেকটিকাল জিনিস যেগুলো মানুষের জীবনে ডিরেক্ট প্রভাব ফেলে ওগুলা নিয়েও দ্রুত কাজ করতে হবে।

শুধু একটা জিনিসেই সফল হচ্ছে এরা, হাসিনার একের পর এক কঠিন ষঢ়যন্ত্র গুলো সামাল দিচ্ছে।
আর এখন পর্যন্ত আমার কাছে ১/১১ সরকারি সবচেয়ে সফল সরকার যারা দেখতে পেরেছিলো দুর্নীতি মুক্ত একটা দেশ কেমন হতে পারে।

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৪ রাত ১০:২১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই মে, ২০২৬ রাত ১:৫১


মাইলস্টোন স্কুলের কথা কি এখনও মনে আছে? একটা ট্রেনিং জেট ক্রাশ করেছিল স্কুলের ওপর। ছোট ছোট বাচ্চারা ক্লাস করছিল, হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে এল মৃত্যু। ঠিক যেমনটা আমরা সিনেমাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রমাটিক নন্দনতত্ত্বের ব্যবচ্ছেদ

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১১ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৪০


শহুরে জ্যামিতির প্রতিটি কোণে আজ এক বিমূর্ত হাহাকার, যেখানে আমাদের ছায়াগুলোও বড্ড বেশি অচেনা আর পরাবাস্তবতার মতই নির্জীব। রক্তিম গোধূলির কার্নিশ বেয়ে চুইয়ে পড়ে এক আধো-চেনা ট্রমা, যেন কোনো এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাওড়া স্টেশনের স্মৃতি

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১১ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৫৮



মায়ের সাথে স্মৃতির শেষ নেই। আজ মা দিবস উপলক্ষে, মাকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম সেই স্মৃতি নিয়ে কিছু কথা লিখছি।

হাওড়া স্টেশন। মা, সাহস, নিপু, আমি। প্রচণ্ড ভীড়ের ভিতর আমরা হাঁটছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অতল সমুদ্রের প্রতিধ্বনি: ছায়ার প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩২

হাতিয়ার লক্ষ্মদীয়া গ্রামে ৫ মে-র বিকেলটা ছিল অস্বাভাবিক গুমোট। মেঘের আড়ালে সূর্য লুকানোর আগেই খবর এল—৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ছৈয়দ আহম্মদ ফিরে এসেছেন। বাড়ির উঠানে ৮৩ বছরের এক বৃদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মি মোদিজ্বির দেশ বাঁচাও আহবান এবং বাংলাদেশ সরকারকে কিছু কথা!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:০৭

কার্য্যত গত কয়েক দিন আগে হায়দারাবাদে এক জনসভায় মি মোদি প্রথম স্বীকার করেন যে, বর্তমানে ইন্ডিয়ার আর্থিক অবস্থা এখন অত্যন্ত দূর্বল এবং সেখানে তিনি ভাষনে দেশবাসীকে কিছু কথা বলেন যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×