somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুড়িগঙ্গার পানিতে অ্যান্টিবায়োটিক!

১৩ ই জুন, ২০১২ রাত ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নানা ধরনের বর্জ্যে অনেক আগেই দুষিত হয়ে উঠেছে বুড়িগঙ্গার পানি। এবার নদীটির পানিতে হাসপাতাল বর্জ থেকে নি:সৃত অ্যান্টিবায়োটিক মিশে যাওয়ার আতঙ্কজনক খবরও পাওয়া গেছে।

এমেক্সাসিলিন, পেনিসিলিন, সিপ্রোফ্লোক্সাক্সিন আর অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিবায়েটিক ভাসছে এ নদীর পানিতে মিশে। এর ফলে ঢাকাবাসীর শরীরে কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক।

স্বাস্থা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে ট্যাবলেট-ক্যাপসুলের খোলস, স্যালাইন, সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ, সিরাপ ইত্যাদি হাসপাতাল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গায়। এর ফলে পানিতে মিশছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক।

যারা সরাসরি এ পানি ব্যবহার করছেন তারা তো বটেই, যারা ব্যবহার করছেন না তারাও পড়ছেন এর ক্ষতির আওতায়। প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের কারণে এসব দ্রব্য ঢাকাবাসীর দেহে কোন না কোনভাবে প্রবেশ করছে। শাকসব্জি, বায়ু, বন্যার পানি বা মানবদেহ থেকেও মানবদেহে বিস্তার লাভ করছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক।

এছ‍াড়া ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিরাজ করছে নানারকম অব্যবস্থাপনা। ফলে পাইপ লাইন দিয়ে সুয়ারেজের ময়লা এসে সরাসরি মিশে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গার পানিতে। নদীতে চলাচলকারী নৌযান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার কালো তেল, পোড়া মবিল ফেলে বুড়িগঙ্গার পানিকে আরো বেশি দূষিত করা হচ্ছে।

উপরন্তু নদী তীরবর্তী লালবাগ, সোয়ারীঘাট, শহীদনগর, চাঁদনীঘাট, লালকুঠি, মালিটোলা, মিলব্যারাক ইত্যাদি এলাকায় অভ্যন্তরীণ পয়:লাইনের সংযোগ রয়েছে পুরনো ড্রেনেজ লাইনে। বাদামতলী ও শ্যামবাজারের কাঁচা সবজির বাজার থেকে পরিত্যক্ত সবজি ও ময়লা ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গার পানিতে। পাশের শিল্প কারখানার সায়ানাইড, পারদ, ক্লোরিন, নানারকম এসিড, দস্তা-নিকেলসহ মোট ৬২ প্রকারের রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে মিশে যাচ্ছে। এছাড়া টেক্সটাইল, ব্যাটারি, লোহা, রঙ, রাবার কারখানার বর্জ্য মিশছে নদীতে।

বুড়িগঙ্গার এই পচা পানির কারণে আমাশয়, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে ভুগে প্রতিদিনই কোনো না কোনো হাসপাতালে ছুটছে মানুষ।

২০১১ সালের ১ জুন হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছিলো- বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এই পানিকে আর পানি বলা যায় না৷ আদালত মনে করেন- এতে সারা দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে৷’

আদালত বলেন, ‘এ অবস্থার আশু সমাধান না হলে নাগরিকরা আরো ব্যধিগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে পরিবেশ রক্ষা যেন কারোরই দায়িত্ব নয়৷`

ওই সময় বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত সব পয়ঃপ্রণালী এবং শিল্প কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশন লাইন এক বছরের মধ্যে বন্ধ করতেও ওয়াসা চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন আদালত। নদী দূষণরোধে কোন গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়। কিন্তু এ উদ্যোগ ওই পর্যন্তই। বরং দিনে দিনে আরো বেড়েছে নদী দূষণ। কিন্তু অবস্থা পরিবর্তিত হয়নি, বরং দূষণ আরও বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আনোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা বারবার হাসপাতাল বর্জ্য নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু সরকার কর্ণপাত করেনি। বুড়িগঙ্গার পানি আর পানি নেই। বিষ হয়ে গেছে। কারণ, বুড়িগঙ্গা নদীর পানিতে এখন এমেক্সাসিলিন, পেনিসিলিন, সিপ্রোফ্লোক্সাক্সিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়েটিক মিশে আছে।’

তিনি বলেন, ‘মিটফোর্ড হাসপাতাল ও ঢাকার প্রাইভেট হাসপাতালগুলো তাদের বর্জ্য গোপনে এই নদীতে ফেলে। আবার তাদেরও না ফেলে উপায় নেই। কারণ, এগুলোর রিসাইকেল করার মতো আধুনিক ডাম্পিং ব্যবস্থা নেই। ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনে ফেললেও সেখানে এসব হাসপাতাল বর্জ্য একইভাবে থাকছে। সেহুলো আবার কোন না কোনভাবে পানিতে গিয়ে মিশছে। সুতরাং এখান থেকেই সমস্যা।’

এ ধরনের অ্যান্টিবায়েটিক মানবদেহে বি ধরনের প্রভাব রাখে এ ব্যপারে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ‘এসব অ্যান্টিবায়েটিক মানবদেহের ভীষণ প্রভাব রাখে। এসব বর্জ মানবদেহে নানাভাবে প্রবেশ করার ফলে দেহে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে অ্যান্টিবায়েটিক। তাই হয়তো কোন রোগে অ্যান্টিবায়েটিক খেলেও কাজ হচ্ছে না।’

এ ব্যপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শফিকুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদীকে গিলে খাচ্ছে পলিথিন, ট্যানারিসহ শিল্পকারখানার বিষাক্ত ক্যামিকেলস ও বর্জ্য, হাসপাতাল-ক্লিনিকের পরিত্যক্ত ক্যামিকেলস, লঞ্চ-জাহাজের পোড়া তেল, মবিল, ওয়াসার পয়ঃবর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য ও নদীর পাড়ে নির্মিত কাঁচা পায়খানা।’

তিনি আরও বলেন, বুড়িগঙ্গায় স্রোত না থাকায় বিষাক্ত বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সে সঙ্গে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীর তলদেশ। ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম এমনকি পারদের মতো ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থের ভারে নদীর অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পরিশোধন করেও এ পানি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। আজ থেকে ৫০ বছর আগেও বিকাল-সন্ধ্যায় ঢাকার মানুষ চলে যেত বুড়িগঙ্গার নির্মল বায়ু সেবনের জন্য। অনেকে নৌকা ভাড়া করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে বেড়াত নদীর বুকে। সেই সদরঘাট, সোয়ারিঘাট ও বাকল্যাণ্ডের বাঁধের ধারে ভ্রমণ আর নির্মল বায়ু সেবন এখন অকল্পনীয়।’

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী এ ব্যপারে বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক রোগে অ্যান্টিবায়েটিক কাজ করে না। কারণ, নানাভাবে অ্যান্টিবায়েটিক আমাদের শরীরে জমে থাকছে। এতে শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। ফলে রোগাক্রান্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিক খেলেও কাজ হচ্ছে না। এ ব্যপারে আমাদের দেশের ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট ও সাধারণ মানুষ প্রত্যেকেই দায়ী।’

তিনি আরও বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানিতে এখন অ্যান্টিবায়েটিক আগে থেকে কম পরিমাণে থাকলেও এখন এর মাত্রা বেড়েছে। উন্নতমানের ও দামি অ্যান্টিবায়োটিক এখন কাজ করে না।’

নগর গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রতিদিন ১০ হাজার ঘণমিটারের বেশি বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গা নদীতে। এছাড়াও নদীর তলদেশে জমা হয়েছে ৮ ফুট পলিথিনের স্তর। বর্তমানে বুড়িগঙ্গার পানির বিষাক্ত মাত্রা এতই বেশি যে, নৌকার মাঝিরা পর্যন্ত হাতে-পায়ে গ্লাভস ব্যবহার করে নৌকা চালাচ্ছেন। কিন্ত তাতেও রেহাই পাবার উপায় নেই। কারণ, পানি কোন না কোনভাবে মানবদেহে মিশে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বুড়িগঙ্গার পানি দূষন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যে এভাবে একদিন এ নদী হয়তো হারিযে যাবে। ঢাকা বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত একথা হয়তো আর বলা যাবে না।’

নানা ধরনের বর্জ্যে অনেক আগেই দুষিত হয়ে উঠেছে বুড়িগঙ্গার পানি। এবার নদীটির পানিতে হাসপাতাল বর্জ থেকে নি:সৃত অ্যান্টিবায়োটিক মিশে যাওয়ার আতঙ্কজনক খবরও পাওয়া গেছে।

এমেক্সাসিলিন, পেনিসিলিন, সিপ্রোফ্লোক্সাক্সিন আর অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিবায়েটিক ভাসছে এ নদীর পানিতে মিশে। এর ফলে ঢাকাবাসীর শরীরে কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক।

স্বাস্থা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে ট্যাবলেট-ক্যাপসুলের খোলস, স্যালাইন, সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ, সিরাপ ইত্যাদি হাসপাতাল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গায়। এর ফলে পানিতে মিশছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক।

যারা সরাসরি এ পানি ব্যবহার করছেন তারা তো বটেই, যারা ব্যবহার করছেন না তারাও পড়ছেন এর ক্ষতির আওতায়। প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের কারণে এসব দ্রব্য ঢাকাবাসীর দেহে কোন না কোনভাবে প্রবেশ করছে। শাকসব্জি, বায়ু, বন্যার পানি বা মানবদেহ থেকেও মানবদেহে বিস্তার লাভ করছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক।

এছ‍াড়া ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিরাজ করছে নানারকম অব্যবস্থাপনা। ফলে পাইপ লাইন দিয়ে সুয়ারেজের ময়লা এসে সরাসরি মিশে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গার পানিতে। নদীতে চলাচলকারী নৌযান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার কালো তেল, পোড়া মবিল ফেলে বুড়িগঙ্গার পানিকে আরো বেশি দূষিত করা হচ্ছে।

উপরন্তু নদী তীরবর্তী লালবাগ, সোয়ারীঘাট, শহীদনগর, চাঁদনীঘাট, লালকুঠি, মালিটোলা, মিলব্যারাক ইত্যাদি এলাকায় অভ্যন্তরীণ পয়:লাইনের সংযোগ রয়েছে পুরনো ড্রেনেজ লাইনে। বাদামতলী ও শ্যামবাজারের কাঁচা সবজির বাজার থেকে পরিত্যক্ত সবজি ও ময়লা ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গার পানিতে। পাশের শিল্প কারখানার সায়ানাইড, পারদ, ক্লোরিন, নানারকম এসিড, দস্তা-নিকেলসহ মোট ৬২ প্রকারের রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে মিশে যাচ্ছে। এছাড়া টেক্সটাইল, ব্যাটারি, লোহা, রঙ, রাবার কারখানার বর্জ্য মিশছে নদীতে।

বুড়িগঙ্গার এই পচা পানির কারণে আমাশয়, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে ভুগে প্রতিদিনই কোনো না কোনো হাসপাতালে ছুটছে মানুষ।

২০১১ সালের ১ জুন হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছিলো- বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এই পানিকে আর পানি বলা যায় না৷ আদালত মনে করেন- এতে সারা দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে৷’

আদালত বলেন, ‘এ অবস্থার আশু সমাধান না হলে নাগরিকরা আরো ব্যধিগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে পরিবেশ রক্ষা যেন কারোরই দায়িত্ব নয়৷`

ওই সময় বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত সব পয়ঃপ্রণালী এবং শিল্প কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশন লাইন এক বছরের মধ্যে বন্ধ করতেও ওয়াসা চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন আদালত। নদী দূষণরোধে কোন গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়। কিন্তু এ উদ্যোগ ওই পর্যন্তই। বরং দিনে দিনে আরো বেড়েছে নদী দূষণ। কিন্তু অবস্থা পরিবর্তিত হয়নি, বরং দূষণ আরও বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আনোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা বারবার হাসপাতাল বর্জ্য নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু সরকার কর্ণপাত করেনি। বুড়িগঙ্গার পানি আর পানি নেই। বিষ হয়ে গেছে। কারণ, বুড়িগঙ্গা নদীর পানিতে এখন এমেক্সাসিলিন, পেনিসিলিন, সিপ্রোফ্লোক্সাক্সিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়েটিক মিশে আছে।’

তিনি বলেন, ‘মিটফোর্ড হাসপাতাল ও ঢাকার প্রাইভেট হাসপাতালগুলো তাদের বর্জ্য গোপনে এই নদীতে ফেলে। আবার তাদেরও না ফেলে উপায় নেই। কারণ, এগুলোর রিসাইকেল করার মতো আধুনিক ডাম্পিং ব্যবস্থা নেই। ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনে ফেললেও সেখানে এসব হাসপাতাল বর্জ্য একইভাবে থাকছে। সেহুলো আবার কোন না কোনভাবে পানিতে গিয়ে মিশছে। সুতরাং এখান থেকেই সমস্যা।’

এ ধরনের অ্যান্টিবায়েটিক মানবদেহে বি ধরনের প্রভাব রাখে এ ব্যপারে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ‘এসব অ্যান্টিবায়েটিক মানবদেহের ভীষণ প্রভাব রাখে। এসব বর্জ মানবদেহে নানাভাবে প্রবেশ করার ফলে দেহে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে অ্যান্টিবায়েটিক। তাই হয়তো কোন রোগে অ্যান্টিবায়েটিক খেলেও কাজ হচ্ছে না।’

এ ব্যপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শফিকুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদীকে গিলে খাচ্ছে পলিথিন, ট্যানারিসহ শিল্পকারখানার বিষাক্ত ক্যামিকেলস ও বর্জ্য, হাসপাতাল-ক্লিনিকের পরিত্যক্ত ক্যামিকেলস, লঞ্চ-জাহাজের পোড়া তেল, মবিল, ওয়াসার পয়ঃবর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য ও নদীর পাড়ে নির্মিত কাঁচা পায়খানা।’

তিনি আরও বলেন, বুড়িগঙ্গায় স্রোত না থাকায় বিষাক্ত বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সে সঙ্গে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীর তলদেশ। ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম এমনকি পারদের মতো ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থের ভারে নদীর অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পরিশোধন করেও এ পানি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। আজ থেকে ৫০ বছর আগেও বিকাল-সন্ধ্যায় ঢাকার মানুষ চলে যেত বুড়িগঙ্গার নির্মল বায়ু সেবনের জন্য। অনেকে নৌকা ভাড়া করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে বেড়াত নদীর বুকে। সেই সদরঘাট, সোয়ারিঘাট ও বাকল্যাণ্ডের বাঁধের ধারে ভ্রমণ আর নির্মল বায়ু সেবন এখন অকল্পনীয়।’

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী এ ব্যপারে বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক রোগে অ্যান্টিবায়েটিক কাজ করে না। কারণ, নানাভাবে অ্যান্টিবায়েটিক আমাদের শরীরে জমে থাকছে। এতে শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। ফলে রোগাক্রান্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিক খেলেও কাজ হচ্ছে না। এ ব্যপারে আমাদের দেশের ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট ও সাধারণ মানুষ প্রত্যেকেই দায়ী।’

তিনি আরও বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানিতে এখন অ্যান্টিবায়েটিক আগে থেকে কম পরিমাণে থাকলেও এখন এর মাত্রা বেড়েছে। উন্নতমানের ও দামি অ্যান্টিবায়োটিক এখন কাজ করে না।’

নগর গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রতিদিন ১০ হাজার ঘণমিটারের বেশি বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গা নদীতে। এছাড়াও নদীর তলদেশে জমা হয়েছে ৮ ফুট পলিথিনের স্তর। বর্তমানে বুড়িগঙ্গার পানির বিষাক্ত মাত্রা এতই বেশি যে, নৌকার মাঝিরা পর্যন্ত হাতে-পায়ে গ্লাভস ব্যবহার করে নৌকা চালাচ্ছেন। কিন্ত তাতেও রেহাই পাবার উপায় নেই। কারণ, পানি কোন না কোনভাবে মানবদেহে মিশে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বুড়িগঙ্গার পানি দূষন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যে এভাবে একদিন এ নদী হয়তো হারিযে যাবে। ঢাকা বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত একথা হয়তো আর বলা যাবে না।’
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ব্লাইন্ড স্পট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭



ঘন কুয়াশার চাদর আর আঁকাবাঁকা সড়কের আড়ালে ‘পদ্মাডাঙা’ গ্রামটা দেখতে আর দশটা নীরব, নিরুপদ্রব পল্লীর মতোই। কিন্তু সাইবার অপরাধের মানচিত্রে এই জায়গার পরিচয় ভিন্ন। ফিশিং, ব্যাংক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×