আমি উই পোকার ডিবিতে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা পাণ্ডুলিপি,
আমার জমিনে ক্ষয়ে ক্ষয়ে আছে পূর্বের ইতিহাস।
আমি মিথ্যা বেসাতির কানা গলির লুকায়িত সরঞ্জাম
আমার সড়কে হেঁটে গেছে খটখটে সহস্র পায়ের পদদলিত খড়ম।
আমি তল ফুটো হয়ে যাওয়া নাবিকের দলচ্যুত কেনু,
আমার সর্বাঙ্গে ফুটে আছে দাপিয়ে বেরানো যৌবনের সৃতিচিহ্ন।
আমি অদুরে বসে থাকা নির্বাসিত দলহিন পাখি,
আমার একাকি শেষ বেলার ডাক, অট্টহাসির হাসির রুপরেখা মাত্র।
আমি হাওয়ায় মেলানো বাতাস, কেউ আমাকে দেখে না
ঝাঝতলা কর্পূরের ঠাণ্ডা জল, মিশে থাকি মৃত মানুষের প্রানে।
আমি মানে খুজে বেরানো প্রকৃতির এক ঐচ্ছিক উপহাস
দিন শেষ ম্রিয়মাণ হয়ে যাই হতাশায় পরিশ্রান্ত মাঝির গানে।
আমি আষাঢ় রাতে ভাসিয়ে দেয়া কোনও এক বেহুলার লাশ
নির্বাসিত শীর্ণ পূজারীর প্রত্যাখ্যাত নির্বোধ বিবেক
শেষ রাতে যার ঢুকরে উঠা বুকফাটা কান্না
ছমছমে ভোরের নীরবতাকেও ছাপায়।
আমি ফুঁসতে থাকা মরুর বুক তুচ্ছ করা ধাবমান
ফোস্কা পায়ে হেঁটে চলা বেদুঈনের কারবালা
যার সীমানা প্রান্তের গন্তব্য সমাধি খোঁদাই হয়ে থাকে
মাথার উপর ভাসতে থাকা জ্বলজ্বলে তারাদের মিছিলে।
আমি সহস্র বছরের দণ্ডায়মান পুরনো পেন্ডুলাম,
গোধূলি লগ্নের শেষ সমাধিতে আশ্রিত নিস্প্রান সাম্যাবস্থা
যার ধুলোয় একাকার মরচে ধরা ঘণ্টাধ্বনিতে মিশে থাকে
ফেলে আসা মানবতার এক মলিন ইতিহাস।
আমি নোংরা নাটাইয়ের খেলনা আকাশের উড়ে বেড়ানো ঘুড়ি,
পাখির দৃষ্টিতে খুঁজে নিয়ে জমিনের পর পার হই জমিন
হঠাত ঝড়ো হাওয়ায় খেই হারিয়ে যখন সুতোটা ছিড়ে যায়
তখন বুঝতে পারি, হায়! একি আমিতো জন্মান্ধ।
আমি কেউ না, কেউ আমার না,
আমি সভ্যতার চলমান রূপকথা
আমি প্রকৃতির হাত ধরে বয়ে যাওয়া
এই আবহমান পৃথিবীর ইতিকথা।
টু কিল এ মকিং বার্ড
৬/৭/১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


