somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেখুন, বুঝুন এবং সতর্ক থাকুন

৩১ শে মার্চ, ২০১৬ দুপুর ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“মিষ্টি কুমড়া ৯ টাকা, ডিম টাকা/পিস, চম্পা কলা ২ টাকা/পিস, মিনিকেট চাল ৩৭ টাকা/কেজি, পিঁয়াজ ১৮ টাকা/কেজি, রুই ১৮৫ টাকা, পাঙ্গাশ ৯৫ টাকা, তেলাপিয়া ১৪৫ টাকা, গরুর মাংস ৩৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ২০৮ টাকা এবং তরমুজ ১৭০ টাকা”। প্রায় প্রত্যেক সপ্তাহেই মোবাইলে অনেক জনপ্রিয় একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে এরকম খুদে বার্তা আসে।

স্বাভাবিকভাবেই দামটা অনেক আকর্ষণীয়ও মনে হয়! সব কিছু একটি সুন্দর পরিবেশে গুছানো, তাও আবার তুলনামূলকভাবে কম দামে পাওয়া যায় বলে খুবই খুশী মনে কেনাকাটা করার আগ্রহ জেগে উঠে। তো অনেক আগ্রহ নিয়ে খুশী মনে গেলেন কেনাকাটা করতে! সুন্দর করে সব উপাদান গুলো গুছানো, একই জায়গাতে সব কিছু পাওয়া যাচ্ছে, দামও কম মনে হচ্ছে, মোটকথা সবই এ প্লাস। তো কেনাকাটা শেষে যখন বিল দিতে গেলেন তখন দেখলেন ৫% ভ্যাটসহ বিল হয়েছে ৪৭৬.২৪ টাকা। আপনি আপনার কাছে থাকা ৫০০ টাকার একটা নোট দিলেন এবং তারা ফেরত দিলো ২৩ টাকা। এবার? ৫% ভ্যাট দিতে আপনার কোন আপত্তি নেই! কিন্তু সেটা পরিশোধ করেও হিসেবে আপনার ফেরত পাওয়ার কথা ২৩ টাকা ৭৬ পয়সা। কিন্তু বাংলাদেশে পয়সার লেনদেন একেবারেই বাদ হয়ে যাওয়াতে ঐ পয়সাটা নিয়ে কেউ কোন প্রশ্ন করে না। কিন্তু একবার ভেবে দেখেন তো, ঐ দোকানে তো সারাদিনে আপনি একা কেনাকাটা করছেন না! কম করে হলেও দৈনিক ৫০০ লোক কেনাকাটা করে থাকে। প্রত্যেকের কাছ থেকেই যদি এভাবে গড়ে ৭৬ পয়সা করে রেখে দেয় তাহলে দিন শেষে কত টাকা ওদের উপরি আয় হল? ৩৮০ টাকা। ভাবুন তো, সারাদেশে তাদের যতগুলো স্টোর আছে তাহলে সবগুলো মিলিয়ে তাদের দৈনিক কত টাকা উপরি আয় হচ্ছে? শুধু এখানেই শেষ না! মুদির দোকানে ১ টাকা খুচরা না থাকলে তারা অন্তত ১ টা চকলেট দেয়। কিন্তু এসব ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ১ টাকা খুচরা না থাকলে কোন চকলেট দেয়ার ও সিস্টেম নেই। একটু ভেবে দেখুন তো, এরা কি তাহলে প্রত্যেকটা পণ্যের দাম এভাবেই নির্ধারণ করে যেন ৫% ভ্যাট যোগ করার পর দামটা পয়সায় গিয়ে শেষ হয়?

এবার আসুন ঢাকার অন্যতম ব্যায়বহুল, আধুনিক ও ব্যস্ততম হসপিটালগুলোর মধ্যে একটির গল্প বলি। এটি অনেক নামকরা একটি হসপিটাল, যেখানে রয়েছে মনোরম পরিবেশে ভালো মানের খাবারসহ একটি ক্যান্টিন। আপনি সেখান থেকে ১ টি বিফ বার্গার এবং একটি চিকেন স্যান্ডউইচ নিলেন। বিল দেয়ার সময় কাউন্টারের লোকটি বলল “ম্যাডাম, এটার সাথে আপনি একটা জুস পাবেন”। আপনি ভাবলেন যে, বাহ! কমপ্লিমেন্টারি জুস! ভালো তো! কিন্তু বিল পরিশোধের সময় দেখলেন ঐ জুসের বিলটাও তাতে যোগ করা। হ্যাঁ, ইহা তাদের একটি কম্ব প্যাকেজ। আপনি চান বা না চান, খেতে হলে ঐ জিনিসের বিল পরিশোধ করেই আপনাকে খেতে হবে। খুব দারুন এবং ধূর্ত একটি মার্কেটিং পলিসি। যেহেতু এমন জায়গায় গিয়ে নিজের ঠাট বজায় রাখতে গিয়ে কেউই আর এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলে না, তাই তারা ঐ সুযোগটাই ব্যবহার করছে।

এভাবে এসব সেবা নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে লিখতে গেলে কখনই শেষ করা যাবে না। কিন্তু তার পিছনে শুধু এসব প্রতিষ্ঠানগুলোই দায়ী নয়। দায়ী আছে সরকারি কর্তৃপক্ষও। এসব বিষয়গুলো তদারকি করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নেই কোন আলাদা প্রতিষ্ঠান। তবে মাঝে মাঝে যদিও মোবাইল কোর্ট অমাবস্যার চাঁদের মত উঁকি মারে! কিন্তু বাংলাদেশে একটা বড় অংশ রয়েছে যারা যে যেখান থেকে পারছে সাধারণ জনগণকে ঠকিয়ে নিজের পাল্লা ভারী করছে। আর কেউ যদি সেটা সবার সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করে, তবে ঐ ব্যক্তির মুখও যেভাবে হোক বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে কেউ কেউ নিজেও আবার এসবেরই অংশ হয়ে যাচ্ছে। জানিনা এর শেষ কোথায়!
একটি সুন্দর সমাজের অপেক্ষায় রইলাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০১৬ দুপুর ১২:১৪
২২টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×