somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আইন হাতে তুলে নেয়ার শাস্তি যেন হয় ভয়াবহ এবং দৃষ্টান্তমূলক।

১৪ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গতকাল বেলা ২ টা কমলাপুর রেল ষ্টেশন থেকে মুল সড়কে উঠেছি। পুরো রাস্তা রিকশার জ্যাম। হঠাত দেখতে পেলাম একটি ১০/১১ বছরের ছেলের (যাকে আমরা সাধারণত টোকাই বলে চিনি) এক হাত ধরে আছড়ে ফেলল এক রিকশাওয়ালা। মাথায় রক্ত উঠে গেল, দৌড়ে গিয়ে ছেলেটাকে ওর হাত থেকে ছাড়ালাম। চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলাম এই ওকে এভাবে মারছিস ক্যান?
ছেলেটার হাতে একটা কাঠের ব্রাশ নির্দেশ করে সে উল্টো জানতে চাইল দেখেছেন কত জোড়ে আমার রিকশাটার উপর বাড়ি মারছে?
বললাম, তাই বলে ওকে মেরে ফেলবি?

বাচ্চা ছেলেটা ততক্ষণে ছুটে পালিয়েছে রিকশাওয়ালা রাগে গজগজ করে চলে গেল। ২/৩ মিনিটের নাটকটি আশেপাশে অন্তত শ'খানেক লোক ভাবলেশহীন উপভোগ করল।

যদি ঐ মুহুর্তে ঐ দানবটাকে নিবৃত্ত করতে না পারতাম কে জানে আরেকটা রাজন কাহিনীর জন্ম হত না। যদি তেমনি মর্মান্তিক কিছু হত। আমরা অনলাইনে-অফলাইনে প্রতিবাদে ফেটে পড়তাম। নিজেদের মানবিক সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। অথচ চোখের সামনে একটি ঘটনা ঘটতে দেখে আমরা কেমন নির্বিকার হয়ে যাই।

ময়না তদন্তের রিপোর্টে রাজনের শরিরে চৌষট্টিটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটা তো অল্প সময়ের ঘটনা হতে পারে না। ঐ এলাকায় কি একজন মানবিক মানুষ ছিল না যে শুরুতেই দানবদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করতে পারত। তাহলে তো শিশুটিকে এমন নির্মম মৃত্যুর স্বীকার হতে হত না। আমরা এত অমানবিক কেন ?

কেন এতটা এককেন্দ্রিক হয়ে উঠেছি? আমরা কিছুতেই অন্যের সন্তানকে নিজের সন্তান ভাবতে পারছি না। অন্যের ভাইকে ভাবতে পারছি না নিজের ভাই বলে।

আজ একটি আন্দোলন গড়ে তোলা খুব জরুরী, আর তা হল মানবিক হয়ে ওঠার আন্দোলন। তবে তারও আগে আসুন আমি-আপনি আমরা মানবিক হই।

আমাদের রাজনীতি, আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমনকি পরিবার থেকে পর্যন্ত মানবতা বোধ ভয়াবহ আকারে লোপ পেয়েছে। এর থেকে বেড়িয়ে আসতে না পারলে এ সমাজ মানুষের বাসযোগ্যতা হারাবে।

আজ আই এস এর নৃশংসতা দেখে। ইসরাইলের নৃশংসতা দেখে আমরা আঁতকে উঠি। প্রতিবাদে ফেটে পড়ি। অথচ আমার ঘরের পাশেই অথবা আমার ঘরেই লালন করছি একই রকম নৃশংস ঠাণ্ডা মাথার খুনি!

পচন ধরেছে আমাদের বোধে, তাই প্রাণের স্পর্শ নেই কোথাও। ভব্যতা আমাদের ভালবাসতে উদ্বুদ্ধ করছে না অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে উদ্বুদ্ধ করছে। আমাদের প্রতিবাদ আমাদের প্রতিরোধ পর্যন্ত আজ যন্ত্র নির্ভর! এতটাই যান্ত্রিক হয়ে পড়েছি আমরা।
রাজনকে মেরে ফেলা হয়েছে প্রকাশ্যে। আমি ভয়ে আজ অবধি ভিডিওটা দেখিনি শুধু স্থির চিত্র গুলো দেখেছি। আর সেখানেই দেখা গেছে উপস্থিত দর্শকরা শিশুটির মৃত্যু যন্ত্রণা দেখে হাসছে! তারা কি মানুষ? তারাও কি খুনি নয়?

বাংলাদেশে এমন ঘটনাও কি এই প্রথম ঘটল?
আমরা ভুলে গেছি ২০১১ সালের ১৭ জুলাই সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি গ্রামে গণপিটুনিতে ছয় ছাত্র নিহতের কথা। সূত্রঃ প্রথম আলো।
একই বছর ৯ আগস্ট নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কিশোর শামছুদ্দিন মিলনকে (১৬) পুলিশের একটি গাড়ি থেকে নামিয়ে জনতার হাতে তুলে দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সূত্রঃ প্রথম আলো।
২৮ জুলাই, ২০১৪ - ক্ষুব্ধ জনতার হাতে তুলে দিয়ে গণপিটুনির মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায় পুলিশের বিরুদ্ধে। এ সময় ছেলেহারা বাবা সাইফুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বুক চাপড়ে বলছিলেন, 'আমার চোখের সামনেই পুলিশ রবিনকে লোকজনের হাতে তুলে দিল। সূত্রঃ কালের কণ্ঠ।
আজ আমি মহামান্য সর্বোচ্চ আদালতের কাছ থেকে এমনতর একটি নির্দেশনা চাই, যেখানে যে কোন গণপিটুনির সাথে জড়িত প্রত্যেককে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। আইন হাতে তুলে নেয়ার শাস্তি যেন হয় ভয়াবহ এবং দৃষ্টান্তমূলক।

সেই সাথে এই ধরনের ঘটনার চার্জশীট প্রদানের ক্ষেত্রে কোন রকমের কোন শৈথিল্যের বিরুদ্ধেও যেন একই রকম শাস্তির বিধান রাখা হয়।
কোন জাতি বর্বর হয়ে উঠে তাদেরকে মানবিক করতে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের বিকল্প থাকে না। যদি নিজে থেকে মানবিক না হতে পারি সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র তার সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে এ সমাজকে এ রাষ্ট্রকে বাসোপযোগী করবে রাষ্ট্রের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এটা আমাদের প্রাণের দাবী।

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×