somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করুন

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দয়া করে গোলাপি-সাদা-নীলের বিভাজন থেকে বেড়িয়ে আসুন

আমরা মাঝে মাঝেই এমন কিছু কাজ করি যেটা সফল হোক সেটা চাই না। এমন অনেক কাজ করতে হয়, যা কেবল অন্যকে বিভ্রান্ত করা বা অন্যের কাছে নিজেকে ভাল মানুষটি সাজানোর উদ্দেশ্যেই মূলত করা। আর তাই সে সব ক্ষেত্রে সফলতা অর্জিত না হলেও আমাদের কোন দুঃখবোধ থাকে না। বরং ক্ষেত্র বিশেষে অসফলতাকেই আসলে সফলতা বলে ধরে নেয়া হয়।

এ দেশের ছাত্র রাজনীতির নামে যে অরাজকতা, যে উচ্ছৃঙ্খলতা চলছে তা দমন করাটা যে কোন সরকারের জন্যই কঠিন কিছু নয়। সব সরকারের আমলেই ক্ষমতাসীনরা তাদের আশির্বাদ পুষ্ট ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে বিপাকে পরেছেন, বিব্রত হয়েছেন। প্রকাশ্যে এ নিয়ে অনেক উচ্চ বাচ্য শোনা গেলেও কোন সময়েই এদের দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি তা বুঝতে গবেষণার প্রয়োজন নেই। এটা বোঝা খুবই সহজ। ক্ষমতাসীনরা মনে করে চর দখলের মত করে তাদের সংগঠনের লাঠিয়ালরা যেভাবে সব কিছু কব্জা করে রাখে। এদের দমন করলে সে সব হাতছাড়া হয়ে যাবে। শুধু যে হাতছাড়া হবে তা নয় একই সাথে বিরোধী শক্তির দখলে চলে যাবে। কাজেই এই নষ্টদের পুষতেই হবে। ফল যা হবার, তাই।
যখন যে দল ক্ষমতায় তখন সে দলের কব্জায় বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন। বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন নানাবিধ গবষনা, মানব কল্যাণে ব্যবহার উপযোগী উদ্ভাবন নিয়ে খবরের শিরোনাম হয় তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খবরের শিরোনাম হচ্ছে প্রতিপক্ষের সাথে রক্তাক্ত যুদ্ধ বাধিয়ে, সহপাঠীকে খুন করে।

এসব আমাদের অনেক আগেই গা সওয়া হয়ে গেছে। আমাদের রাজনীতিবিদগণ মিথ্যের ফুলঝুরি দিয়ে খুব সহজেই ভোলাতে পারেন। তারা জুজু’র ভয় দেখালে আমরা বাধ্য ছেলের দল ঘরে খিল এঁটে বসে থাকি। তারা অলিক স্বপ্ন দেখাতে চাইলে আমরা চোখ মুদী। এমন বাধ্য জাতিকেই তো ভোলাতে হয়।
বোধকরি সৃষ্টিকর্তাও সব থেকে বেশী অপছন্দ করে বেকুবকে। আর এই বেকুবের দলের পরে পরে মার খাওয়াটাই একমাত্র ভবিতব্য।

নয়ত আমরা নব্বইয়ের স্বৈরাচার পতনের পর থেকে আজ পঁচিশটি বছর যাবত দেখছি ছাত্র রাজনীতির নামে যা হচ্ছে তা আগামীর নেতা বানানোর চেষ্টা নয়। ছাত্র রাজনীতির নামে অজস্র মেধাবী ছাত্রকে স্রেফ মুল দলের ভ্যান গার্ড বানিয়ে রাখা হচ্ছে। তারপরেও নেতাদের কথায় ভুলে আমরা এই ছাত্র রাজনীতির মাঝে আগামীর রাজ্জাক, তোফায়েল, রব, ইনুদের ছায়া খুঁজে ফিরি। একে ভ্রান্তিবিলাস বললেও অনেক কম বলা হয়ে যায়।

আচ্ছা ঠিক আছে, আমরা না হয় অনন্তকাল সেই ভ্রান্তিবিলাসেই পড়ে থাকব। কিন্তু নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নীল-সাদা-গোলাপিতে বিভক্ত করে রেখেছেন কেন? সে ব্যাপারে তাদের ব্যাখ্যাটি কি। শিক্ষকতার জীবন শেষে যাতে তারা যোগ্য রাজনৈতিক নেতা হতে পারেন। সে জন্যেই কি শিক্ষক রাজনীতির তালিম দেয়া হচ্ছে?

আমাদের তখনই সবথেকে বেশি কষ্ট হয়, যখন দেখি নিজেদের স্বার্থে বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে চলেছেন।
শিক্ষকরা রাজনীতির কারণে নিজ দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীদের সাথে মিশে যাচ্ছেন। ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে কোন প্রভেদ থাকছে না। এরা একে অন্যের বন্ধু এমনকি স্বার্থ আদায়ে একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠছে। আপনি এই ছাত্র শিক্ষকের সম্পর্কের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ-স্নেহ কি করে খুঁজে পাবেন?
শিক্ষক যখন ভোগবাদী, ছাত্র তখনো উদারনৈতিক মানসিকতার। অথচ রাজনীতির এই চালে পরে সব একাকার। ছাত্র শেখার কথা ভুলে ভোগে মেতে উঠছে। যার সাথে প্রয়োজন সখ্যতা গড়ে তুলছে যাকে প্রয়োজন পিষে মারার চেষ্টা করছে। এখানে সম্পর্কের বিষয়টা গৌণ।

এক দলের ছাত্র-শিক্ষকের মাঝে যে লেনদেনের সম্পর্কটা গড়ে ওঠে ঠিক তার বিপরীত সম্পর্ক স্থাপিত হয় বিরোধী মতের ছাত্র শিক্ষকের সাথে। কাজেই সংঘর্ষ অনিবার্য।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটা কি আলাদা কিছু? মোটেই না। এখানে কেবল একটাই পার্থক্য আর তা হল একই দল বা মতের সমর্থকদের মাঝেই দ্বন্দ্ব।
এটাই তো স্বাভাবিক? এখানে একদল ভোগবাদী একদল দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত উদারপ্রান। এই নীতিবান মানুষগুলোর জয় মানেইতো ভোগের অবসান। সেটা তারা কেন মেনে নেবেন?
কাজেই এখানেও দুষ্টের কাছে শিষ্ট হেরে গেছে। আজ এখানে জাফর ইকবাল স্যার আছেন, তার স্ত্রী আছেন বলেই এতো বেশী প্রতিবাদের ঝর উঠেছে। কিন্তু এই অবস্থা তো অন্যত্রও। তাই নয় কি?

আমরা কিন্তু আসল সমস্যাটা খুঁজতে যাচ্ছি না। আর এটাই সব সমস্যার মূল। এই ছাত্র রাজনীতি ছাত্রনেতা তৈরি করবে না এটা আমরাও জানি তথাপিও ছাত্র রাজনীতি চালু রাখার পক্ষে এমন কিছু যুক্তি দার করানো যায় যা এই মুহূর্তে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। কাজেই বলতে পারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী আগাছা উপড়ে ফেলে যদি সংগঠন চালানো সম্ভব হয় তাহলে ছাত্র রাজনীতি চলুক তবে শিক্ষক রাজনীতির নামে একটি আদর্শিক পেশাকে এভাবে অসুস্থ করে রাখা একেবারেই উচিৎ হচ্ছে না। শিক্ষকদের রঙ যদি এতই পছন্দ তাহলে তা হোক লাল-সবুজের এক অনবদ্য দ্যোতনা। যা আমাদের গর্ব, যা আমাদের অহংকার। এভাবে গোলাপি-সাদা-নীলে বিভক্ত জাতির বিবেক হতে পারে না। এই অসুস্থ মানসিকতা থেকে দয়া করে বেড়িয়ে আসুন।

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১৯
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০১



এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

কিছু জায়গা শুধু জায়গা নয়—সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আমাদের জীবনের একটি সময়, কিছু মানুষ, কিছু অভ্যাস আর অসংখ্য ছোট ছোট স্মৃতি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×