somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টিআইবি'র এজেন্ডা কি?

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কতটা ট্রান্সপারেন্ট সেটা আমি বলতে পারব না। তবে জোয়ারের নায়ে তাদের বাদাম তুলে দেয়া দেখে এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে যে মাষ্টার মাইন্ড কাজ করছে সেই একই মাষ্টার মাইন্ডের নির্দেশনায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালও সময়ানুযায়ী তাদের ব্রিফিং সমূহ দিয়ে থাকেন। তবে তাদের এবারের ঔধত্য বোধ করি সব সীমাই ছাড়িয়ে গেছে। কাজেই এদের লাগামটা টেনে ধরাটা জরুরী বলেই মনে করি। আর যদি তা না করা হয় সামনে যে কোন দিন মহান সংসদকে এরা আরও নিচে নামাতেও দ্বিধা করবে না।

আজ দেশে যে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে তার পেছনের উদ্দেশ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা। সর্বোপরি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা। যদি তারা তাতে সফল হয় লাভটা কাদের হবে?
এই এক সমীকরণেই এর হোতাদের চিনে নিতে আর কষ্ট হয় না। ঠিক একইভাবে টিআইবির এই রিপোর্ট এর ফলে কারা লাভবান হবে তাও সহজেই অনুমেয়। উদ্দেশ্য অভিন্ন নাটকের মঞ্চগুলি কেবল আলাদা।

তবে কি পুতিনের পথটাই সঠিক? রাশিয়া যখন ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত। যখন সেখানে রাজনৈতিক সমস্যা প্রকট। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দারুণ এক সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল ঠিক সে সময় সাবেক এই কেজিবি প্রধান রাষ্ট্রের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
পুতিন প্রথমেই প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল ঘটিয়ে নিজের বিশ্বস্ত লোকদের বসিয়েছিলেন। গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত গভর্নরদের সরিয়ে নিজের আস্থা ভাজনদের নিয়ে এসেছিলেন। তিনি রাশিয়ার গোটা মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দেশের মধ্যে শুধু শৃঙ্খলাই ফিরিয়ে আনেন নি। দেশের অর্থনীতিকেও মজবুত ভিত্তির উপর দার করাতে সক্ষম হন। সামরিক শক্তিকে নিয়ে যান ভিন্ন মাত্রায়।
আজও পুতিন রাশিয়ার ৮০ শতাংশ জনগণের সমর্থন পুষ্ট রাষ্ট্র নায়ক। শুধুমাত্র একজন রাষ্ট্র নায়ক না বলে এখন তাকে বলতে হবে একবিংশ শতাব্দীর অপ্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্ব নেতা। তার ইস্পাত কঠিন মনোবল আর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সাহসী সিদ্ধান্ত সমূহই তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সেদিনও পশ্চিমা মিডিয়া সহ বিশ্বের তাবৎ মিডিয়াই তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। বলতে গেলে বিশ্বব্যাপী তার একটি নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিল পশ্চিমা মিডিয়া গুলি। পুতিন তাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধান্বিত হয়েছেন বলে তার কার্যক্রমে মনে হয়নি।

আজ বিশ্বের যে কোন রাষ্ট্রনায়কই তাকে আইকন হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। কেননা দেশের ভিতর এবং বাইরে থেকে তাকে যত প্রতিকূলতা পেড়িয়ে আসতে হয়েছে তা হয়ত তার পক্ষেই সম্ভব ছিল। আজ তার এই যে বিশ্ব মোড়ল আমেরিকাকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার ক্ষমতা তা তিনি নিজেই তৈরি করে নিয়েছেন। তাই এখন এটা তো বলাই যায়। যে গণতন্ত্রের জোয়ারে স্বচ্ছ ধারার পরিবর্তে লতা-গুল্ম-আগাছাই বেশী ভেসে আসে তাকে আটকে ফেলাই সমীচীন। তাতে অন্তত পানিটা ব্যবহার উপযোগী থাকে।

আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে যুদ্ধটা চালিয়ে যাচ্ছেন তাও কেবল তার পক্ষেই সম্ভব। তবে তিনি এখনো যতটা নমনীয়তা প্রদর্শন করে চলেছেন তা কতদিন তিনি চালিয়ে যেতে পারবেন তা সময়ই বলে দেবে। আর সে ক্ষেত্রে তাকেও যদি পুতিনের পদাঙ্কই অনুসরণ করতে হয় সে জন্য দায়টা এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কারীদের ঘাড়েই বর্তাবে। যারা আওয়ামী সরকারকে একটি দিনের জন্যও সুস্থির থাকতে দিতে চান না।

আজ যদি এই সরকারের পতন হয় তাহলে কি হবে? যদি আওয়ামীলীগ সরকারই পুনরায় নির্বাচিত হয়। তাহলেও কি এই জঙ্গিবাদী হামলা বন্ধ হয়ে যাবে? সে গ্যারান্টি কে দিল? সেক্ষেত্রে সংসদে আজ যারা প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদের কত শতাংশ বাদ পড়বেন? সেই সাংসদদের একই কার্যক্রমের বিরোধিতা কি আজকের সমালোচকরা করবেন না?
আর যদি বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে তাহলে মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচারের কি হবে? পদ্মা সেতু সহ আওয়ামী সরকারের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পগুলি কি চালু থাকবে? পূর্বের ইতিহাস কিন্তু তা বলে না। উন্নয়নের যে ধারায় এখন দেশ তা স্তিমিত হয়ে পড়বে না সে গ্যারান্টি কোথায়?

তার মানে এই নয় যে আমরা চাই এ সরকারই দেশে চিরস্থায়ী হোক। আওয়ামীলীগই চিরকাল এ দেশের ক্ষমতায় থাক। আমরা চাই নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হোক। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ব্যাহত না হোক। এরপরে নির্বাচনে জনসাধারণ যা চাইবে তাই হবে। কিন্তু যেই ক্ষমতায় যাক তাকে কাজ করতে দিতে হবে। টিআইবির এটা বোঝা উচিৎ নাট্যশালা কাজের জায়গা নয় বিনোদনের জায়গা। আজ বাংলাদেশে কাজ হচ্ছে, দেশব্যাপী সার্কাস হচ্ছে না। আর সে কাজটির কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু ঐ মহান সংসদই।

বিনোদনের আসল আসর তো টিআইবিই বসায়। তা দেখে আমরা পুলকিত হই। আনন্দ লাভ করি। আবার বাস্তবমুখী বয়ান না হলে ক্ষুব্ধও হই। কিছু পত্রিকা আছে যারা সর্বদাই সরকারের সমালোচক। সেটা করতে গিয়ে তারা সত্য মিথ্যের মিশেলে চটকদার খবর প্রকাশ করে থাকেণ। উদ্দেশ্য পত্রিকার কাটতি বাড়ানো। টিআইবিও নিজেদের কাটতি বাড়তেই কি এমন সব চটকদার কথা বার্তা বলেন; নাকি তারাও কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষেই কাজ করে যাচ্ছেন। টিআইবি’র কার্যকলাপে এ প্রশ্নটা আজ জাগতে বাধ্য।

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১০:৩৬
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×