somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনন্য আজাদের লেখায় বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থার উল্টো চিত্র এবং বাস্তবতা

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ক’দিন আগে ‘বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা ভয়ংকর ভাবে নারী বিদ্বেষী’ শীর্ষক একটা নিবন্ধ লিখেছেন অনন্য আজাদ। লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে দয়েচে ভেলেতে। এমনই এক সময়ে লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে যখন বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে এসে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে নারীর এই অগ্রযাত্রা আজ বিশ্ব স্বীকৃত। নারীর অগ্রযাত্রা ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ যখন বিশ্বের বুকে রোল মডেল। ঠিক তখনই অনন্য আজাদ একটি বিদেশী অনলাইনে লিখলেন এখানে প্রতিটা নিয়ম রীতি সংস্কার প্রথা সবই নারীর বিপক্ষে যায়৷ কি অদ্ভুত কথা!

সমাজ যখন প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় তখন একা রাষ্ট্র যে খুব বেশী কিছু করতে পারে না তার সবথেকে বড় উধাহরন আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর নারীরাই। আর বাংলাদেশের নারীদের এই অগ্রযাত্রার পেছনে রাষ্ট্রের পরেই রয়েছে পরিবার এবং সমাজের সহযোগিতা। অথচ কি অবলীলায় বলে দেয়া হল বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা ভয়ংকর ভাবে নারী বিদ্বেষী। মিথ্যারও তো একটি সীমা থাকা উচিৎ।
একটু পেছন থেকেই শুরু করি ২০১১ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর। ডেইলি নিউজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস (ডিএনএ) নিউজ উইক/ডেইলি বেস্টের একটি জরিপের বরাত দিয়ে লিখেছে, পৃথিবীতে নারীর বসবাসযোগ্য ১৬৫ দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান ১৪১-এ। ঐ জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান দেখানো হয়েছিল ১৩৯। যা ছিল ভারতের থেকে দুই ধাপ উপরে। যেখানে চীনকে দেখানো হয়েছে ২৩ নম্বরে। উদ্যোগটি ছিল নিউজউইক ম্যাগাজিন ও ডেইলি বেস্ট সংবাদপত্রের। পত্রিকা দুটির অনুসন্ধানের বিষয় ছিল- কোন দেশ নারীকে সবচেয়ে বেশি অধিকার দিচ্ছে এবং নারীর জীবন মান কোথায় বেশি। তাদের বিচারে- প্রথম দশটি দেশ হলো- ১. আইসল্যান্ড ২. সুইডেন ৩. কানাডা ৪. ডেনমার্ক ৫.ফিনল্যান্ড ৬ সুইজারল্যান্ড ৭. নরওয়ে ৮. যুক্তরাষ্ট্র ৯.অস্ট্রেলিয়া ১০. নেদারল্যান্ডস।
আর তালিকার শেষ দশটি দেশ হলো- ১৬৫.চাদ ১৬৪. আফগানিস্তান ১৬৩. ইয়েমেন ১৬২. কঙ্গো ১৬১. মালি ১৬০. সলোমন দীপপুঞ্জ ১৫৯. নাইজার ১৫৮. পাকিস্তান ১৫৭. ইথিওপিয়া ১৫৬. সুদান।
এই জরিপে দেখা যায় আজ থেকে চার বছর আগেই বাংলাদেশের নারীদের অবস্থান ছিল আফগানিস্তানের থেকে ২৫ ধাপ এগিয়ে। পাকিস্তানের থেকে ১৯ ধাপ এগিয়ে আর ভারতের থেকে ২ ধাপ এগিয়ে। যা যথেষ্টই ইতিবাচক।
উল্লেখিত জরিপটি ছিল চার বছর আগের বাস্তবতা। আর বর্তমান বাস্তবতা হল- “অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিতে নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশটির উন্নতি অভূতপূর্ব”, মন্তব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ)। তারা বাংলাদেশকে নারীর উন্নয়নে একটি আদর্শ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বাংলাদেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের উন্নয়ন এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। শিক্ষা নীতির পাশাপাশি নিশ্চিত হয়েছে ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী প্রায় শতভাগ মেয়ে শিশুর শিক্ষা প্রাপ্যতার হার। কমেছে উচ্চ শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার, নারী শিক্ষার প্রসারে দেওয়া হচ্ছে বৃত্তি এবং অর্থ সহায়তা। যা এ দেশের মেয়ে শিশু ভোগ করছে সম্পূর্ণ বাধাহীন ভাবেই। ১৯৯১ সালে প্রাথমিকে মেয়েদের অংশগ্রহণ ৬০ দশমিক ০৫ শতাংশ থাকলেও এখন প্রায় ৯৮ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে।

২০১৪ সালে ডব্লিউইএফ’র লিঙ্গ বৈষম্য সূচকের বার্ষিক প্রতিবেদনে ১৪২টি দেশের মধ্যে ৬৮তম স্থান দখল করে বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে ১৩৬ দেশের মধ্যে যা ছিল ৭৫ তম, ২০১২ সালে ৮৬ এবং ২০০৯ সালে ৯৩। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে ক্রমাগত উন্নতির দিকে বাংলাদেশ। এ দেশে ক্রমশই কমছে নারী-পুরুষের বৈষম্য। এশিয়ার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, জাপানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের এ অর্জন। কেননা ডব্লিউইএফ’র তথ্যমতে, ২০১৩ সালের সূচকে ভারতের অবস্থান ছিল ১০১, পাকিস্তান ১৩৫, জাপান ১০৫ ও চীন ৬৯। রাজনীতিতে অংশগ্রহণ,অর্থনৈতিক সমতা,শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ২০০৬ সাল থেকে এ তালিকা প্রকাশ করে আসছে ডব্লিউইএফ।
শুধু তাই নয়, সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের প্রতিযোগিতামূলক সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। মোট ৩ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশ ১০৯ থেকে ১০৭’র ঘরে প্রবেশ করেছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বিশ্বের ১৪০টি দেশের উৎপাদনশীলতার ওপর ভিত্তি করে ২০১৫-১৬ সালের জন্য এ তালিকা প্রকাশ করে। এখানে ১১৩টি বিষয়কে বিবেচনা করে সূচক তৈরি করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে লিঙ্গ বৈষম্যের দিক দিয়ে বাংলাদেশ ১১১তম যেখানে পাকিস্তান ১২৩ এবং ভারত ১৩৩ নম্বরে। রাজনীতিতে লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাস করে আঞ্চলিক নেতৃত্বে সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ মর্যাদাপূর্ণ ওমেন ইন পার্লামেন্টস (ডব্লিউআইপি) গ্লোবাল ফোরাম অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জোনাল ক্যাটাগরিতে রাজনীতিতে লিঙ্গ বৈষম্য কমিয়ে আনায় অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ এ বিজয় গৌরব অর্জন করে।
আপনি জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকের দিকে তাকান। দেখবেন সেখানেও এগিয়েছে বাংলাদেশ। উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন সূচকে চলতি বছর বাংলাদেশ ১৪২ নম্বরে উঠে এসেছে। ১৮৭টি দেশের মধ্যে আগের বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৩। গতবারের মতো এবারও দ্রুত এগিয়ে চলা ১৮ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম। নারী উন্নয়ন,প্রত্যাশিত আয়ু,সাক্ষরতা,শিক্ষা এবং মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে সারাবিশ্বে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউএনডিপি।
বাংলাদেশে নারী শিক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া সবগুলো পদক্ষেপকে আধুনিক বলে ব্যাপক প্রশংসা করেছে ইউনেস্কো। যে রাষ্ট্র যত সভ্য, সে রাষ্ট্রে মা তত নিরাপদ, তত নিশ্চিন্ত। সেই বিচারে বিশ্ব মাতৃ পরিস্থিতি সূচকে ২০১৪ সালে ১৭৮ দেশের মধ্যে ১৩০তম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ২০১২ সালে ১৬৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩৬।

২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৮৬০ মিলিয়ন ডলার ৫৭ হাজার ৭২২ জন নারীকে ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এতে তারা গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প।
৩০ লাখ নারী শ্রমিক কাজ করছেন পোশাক খাতে। এছাড়া মোট নারী শ্রমশক্তির হার ২০১০ সালে ছিল ২৪ শতাংশ যা ২০১৩ সালে বেড়ে ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একটি পশ্চাৎপদ সমাজে এই চিত্র কল্পনা করাও অসম্ভব। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নকে বিশ্বের তাবৎ মেধাবীরা যে মিরাকল বলছেন। সেই মিরাকলটা হল এ দেশের সাধারণ মানুষের ইতিবাচক মানসিকতা।
রাষ্ট্র সাধারণ মানুষের কল্যাণে যে কর্মসূচিই হাতে নিচ্ছে সাধারণ মানুষ তা সফল করতে সর্বাধিক চেষ্টা চালাচ্ছে। এখানে ধর্ম, সামাজিক রীতি নিতি কিংবা সংস্কার কোনটাই তিল পরিমাণ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে না। আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাও যুগোপযোগী হয়ে ওঠার লড়াইয়ে লিপ্ত। তথাপিও এ দেশের সমাজ ব্যবস্থাকে পশ্চাদমুখি বলে প্রোপ্যাগান্ডা চালানোর প্রবণতা সর্বদাই লক্ষ করা যায়। এটা সত্যিই দুঃখজনক। এরা আবার আমাদের কাছে মুক্তমনা, প্রগতিশীল বলেই পরিচিত। সমস্যাটা সেখানেই। এরা দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে এমন কিছু অসত্য তথ্য প্রচার করে যা বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণ তৈরি করে। কি উদ্দেশ্যে বা কেন তারা কাজটি করেন সে দিকে আমি যাব না। তবে তাদের এই মিথ্যাচার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী। অন্তত এই সব মিথ্যার জবাব দেয়াটা একান্ত অপরিহার্য্য বলেই মনে করি।

ডয়েচে ভেলেতে আমার এ লেখা প্রকাশিত হবে না। কিন্তু যারা সেখানে নিয়মিত লেখেন তাদেরকে অনুরোধ করব আপনারা দয়া করে চুপ করে থাকবেন না। এর সঠিক জবাবটুকু দিন।
অনন্য আজাদ তার লেখায় নারীর প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দার করিয়েছেন ধর্মকে। অত্যন্ত গর্হিত ভাবে তিনি ইসলাম ধর্মীয় অনুশাসনের কিয়দংশ তুলে ধরেছেন যেমন তিনি বলছেন, নারী দেখলে পুরুষ উত্তেজিত বোধ করে৷ সেজন্য নারীকে থাকতে হবে পর্দার আড়ালে৷ তিনি এটা বলেননি যে ইসলাম পুরুষের দৃষ্টিকেও একইভাবে সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করেছেন পুরুষের চার বিয়ের অধিকার থাকলেও মেয়েদের নেই। তিনি কি তাহলে এটিই বলতে চান যে চারটি বিয়ের অনুমতিই মেয়েদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে? তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
তার ভাষায় “...........................আর এত সব অন্তরায়ের মধ্যে নারী দিন দিন ভীত হচ্ছে৷ সে পড়ালেখা করে ঘরে বসে থাকছে বা স্বামীর রান্নাঘরে উনুন ঠেলছে৷ কিন্তু বাইরে বের হয়ে কাজ করতে এদের মধ্যে কেউ কেউ ভয় পাচ্ছে৷ কারণ বাইরে তার জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ংকর পরিস্থিতি৷ সে যে কাজ শেষে নিরাপদে বাসায় ফিরে আসবে, তার কোন নিশ্চয়তা নেই৷ যে কোন সময় তার উপর হামলে পড়তে পারে পুরুষ নামক নরখাদক৷” উপরে উল্লেখিত পরিসংখ্যানই তার এই মিথ্যার উপযুক্ত জবাব দেয়ার জন্য যথেষ্ট। নতুন করে আর কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না।

তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে এ দেশের সমাজ ব্যবস্থা এখনো ততটা উন্নতি লাভে সক্ষম হয়নি যার সাথে আমরা আইসল্যান্ড, সুইডেন বা কানাডার সাথে তুলনা করতে পারি। এ ক্ষেত্রে আর্থ সামাজিক অবস্থা একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। আমাদের এ দেশটা অর্ধ শতাব্দীরও কম সময় স্বাধীনতা লাভ করেছে। তারই মধ্যে আবার দুই তৃতীয়াংশ সময় দেশটাকে চালানো হয়েছে উল্টোরথে। এরপরেও আমরা যে ভারত সহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের থেকে এগিয়ে গিয়েছি এটা কি স্বস্তির নয়?
অস্বীকার করার উপায় নেই এ দেশে এখনো হেফাজতে ইসলামের মতো কট্টর ধর্মীয় সংগঠন দাবি তোলে নারীদের ক্লাস ফাইভের বেশি পড়তে না দিতে৷ নারীদের তুলনা করা হয় তেঁতুলের সাথে৷ কিন্তু তাদের সে দাবী যে ফাকা বুলি মাত্র তা কে না জানে? তারা সমাজে নারীর পথ চলাকে কি থামাতে পেরেছে? পারেনি। তাহলে তাদের কথাকেই প্রধান উপজীব্য করে কেন এমন মিথ্যের অবতারণা করা?
আমাদের সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নারীরা নানা ভাবে হয়রানীর স্বীকার হন, নিপীড়নের স্বীকার হন এটাও সত্য কিন্তু সেটা ব্যক্তিগত লোভ আর লালসার কারণে। যেখানে এ সমাজ সর্বদাই সেই আক্রান্তের পাশে গিয়ে দারায় এবং আক্রমণ কারীকে কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। অতএব এখানে ব্যক্তির দায় সমাজের উপরে চাপিয়ে দেয়ার কোন সুযোগ নেই। আর তা সমীচীনও নয়।

আমাদের নারীদের অগ্রযাত্রা নিরবচ্ছিন্ন ও বহমান। যদিও বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ তবে আমরা সত্যিকারের ইসলামিক আদর্শেই আদর্শিত। যে আদর্শ নারী-পুরুষকে সমান মর্যাদাই দান করেছে। ইসলাম নারীকে কখনোই অবরুদ্ধ করেনি। ইসলাম বেলেল্লাপনাকে নিরুৎসাহিত করেছে। নারীকে আত্মমর্যাদা শীল হতে নিরুৎসাহিত করে নি।
স্ত্রীকে যেমন স্বামীর নিচে রাখা হয়েছে। তেমনি পুত্রকে আবার বলা হয়েছে, মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত। এমনকি সন্তানের কাছে মায়ের মর্যাদা দেয়া হয়েছে বাবার থেকেও বেশী। কাজেই ধর্মীয় অনুশাসন আপনি মানবেন কি মানবেন না সেটা আপনার বিষয় কিন্তু ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াবেন সেটাও মনুষ্যত্বের পরিচায়ক নয়।

ওয়ায়েস কুরনীর কথা আমরা জানি। ওফাতের পূর্বে নবিজী(সঃ) যার কাছে নিজের পরিধানের কাপড় দান করে মহা সম্মানিত করেছিলেন। যে পরিধেয় তিনি তার কাছে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই ওয়াস কুরনী কোন ধর্ম যুদ্ধে অংশ নেননি! এমনকি মহানবী (সঃ) দরবারেও কখনো হাজির হন নি। অথচ শুধুমাত্র মহানবী (সঃ) কে অকৃত্রিম ভালবাসা আর তার মায়ের সেবার কারনে তিনি এতটা মর্যাদাশালী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। অতএব ইসলামে নারীর মর্যাদা দেয়া হয়নি এটা পাগলের প্রলাপ বৈ আর কিছু নয়।
সবশেষে অনন্য আজাদের শেষ কথাটি উদ্ধৃত করেই বলছি। তিনি লিখেছেন, “কিছুদিন আগে এক নারী রিকশাচালক খুব দৃঢ়তা সাথে বলেছিলেন, ‘‘মানুষের কথায় কান দেই না, সমাজ কি খাওয়ায় নাকি?” তার এই কথাতেই প্রমাণ হয়, এ দেশের নারীরা শৃঙ্খল ভেঙে বেড়িয়ে এসেছে আর তাদেরকে সেই বেড়িয়ে আসার পথে কেউ প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি করছে না।

কৃতজ্ঞতায়: কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক,মাহবুব মোর্শেদ
scribd.com/fullscreen/65645520
bdnews24.com

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:০১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত ৪৮ ঘণ্টায় সামু'র সর্বোচ্চ পঠিত ২ ব্লগার হচ্ছেন - অপলক এবং সৈয়দ কুতুব

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১৭

গতকাল রাত ৮টা ১২ মিনিট থেকে এখন রাত ৯ টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত সামুতে পোস্ট এসেছে মোট ১৬টি, আমার এই পোস্টটি ছাড়া।
এই পোস্টগুলোতে উত্তর ও প্রতিউত্তর মিলিয়ে কমেন্টেসের সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×