somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন ফিরে যাই শেকড়ে

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আপনাকে ফিরতেই হবে। হ্যাঁ ফিরে আসতেই হবে শেকড়ে। যে স্বার্থ রক্ষার্থে যৌথ পরিবার ছেড়ে একক পরিবারের ভিত গড়েছেন। সেই পরিবার আপনাকে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন করে তুলেছে। আপনি এখন সম্পূর্ণ একা। আপনার পরিবারের প্রতিটি সদস্য একা। কেউ কাউকে নিয়ে মুহূর্ত মাত্র ভাবে না। কেউ কাউকে একটুকু অনুভব করতে চায় না। যে যার মত থাকতে শিখেছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া এঁকে অপরের খোঁজটুকু পর্যন্ত রাখে না।

আপনার সন্তান জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে, আপনার সন্তান সমাজ বিরোধী হয়ে গড়ে উঠছে। আপনার সন্তান আপনার শেষ বয়সে আপনাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে ঝামেলা মুক্ত হতে চাইছে। এটাই তোঁ স্বাভাবিক। এটাই তোঁ হওয়ার কথা ছিল।

আপনি তাকে শিখিয়েছেন কি করে শুধুমাত্র নিজেকে নিয়ে ভাবতে হয়। কি করে মা বাবাকে অশ্রদ্ধা করতে হয়। কি করে তাদেরকে একাকী করে দিতে হয়। আজ আপনার সন্তানেরা কেবল আপনার দেয়া শিক্ষাকেই বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। দুঃখ করার কিছু নেই।

একবার ভাবুন তোঁ আপনি নিজে কিভাবে বেড়ে উঠেছেন। কারা আপনাকে একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। শুধু কি আপনার মা-বাবারই অবদান ছিল নাকি নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশীদেরও অবদান ছিল?

একটা সময় ছিল যখন একটা শিশু তার কৈশোরে পদার্পণ করত অনেকগুলি বিশ্বস্ত এবং সদা সতর্ক চোখের সম্মুখে। তাকে বেড়ে উঠতে হত এই চোখগুলির সামনে। যারা অহর্নীষ তাকে পাহারা দিত, আগলে রাখত। কোন ভুল তাকে স্পর্শ করতে গেলে কারো না কারো চোখে পরতেই হত। ফলাফল, একই সাথে শাসন এবং বুঝ দান। ছেলেটা নষ্ট হতে পারত না। সে বখাটে হয়ে উঠত না।

একটা সময় ছিল যখন রাস্তা ঘাটে চলাচলের ক্ষেত্রে কেউ তার মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করত না। তখন সবটা পথ জুড়েই একদিকে যেমন অসৎ লোক ছিল অন্যদিকে তার কয়েকগুণ বেশি ছিল সৎ লোকের চলাচল।

কার মেয়ে সেটা কেউ ভেবে দেখত না প্রথমেই সবাই মেয়েটার নিরাপত্তা বিধানের চেষ্টা করত। যে সামাজিক বলয় তখন ছিল তা আজকের সময়ের আধুনিকতার মশালবাহক স্বার্থান্ধ মানুষগুলোই ভেঙ্গে ফেলেছেন। তাতে করে তারা কি ভাল কিছু অর্জন করেছেন? মোটেই না।

আপনার সন্তান অন্যায় করেছে আপনি তাকে শাসন করতে গেলেন। আপনার স্ত্রী তাকে বাঁচাতে চাইল আপনি তাকেও ধমকে সরিয়ে দিলেন, ছেলেটাকে পেটালেন। কি লাভ হল? তার ভয়টা কেটে গেল। সে মার খেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠল। কি করবেন আপনি?

অথচ এই একই ঘটনার সময়ে যদি আপনার মা উপস্থিত থাকতেন। তাহলে তিনি আপনাকে নিবৃত্ত করতে পারতেন, ছেলেটাও মার খেত না তার মধ্যে ভয়টাও থেকেই যেত। সে বেপরোয়া হয়ে উঠত না। উপরন্তু আপনার দ্বারা আপনার সন্তান শিখত বয়োজ্যেষ্ঠদের কিভাবে সম্মান করতে হয়। আপনার মা আপনার সন্তানকে শেখাতে পারত মূল্যবোধ। শুধরে দিতে পারত তার ভুলগুলো।

আপনি মায়ের প্রতি কর্তব্য তোঁ দূরের কথা, নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করেও মা’কে নিজের কাছে রাখেন নি। ভাই-বোন আপনার কাছে সাহায্য চাইবে সেই ভয়ে তাদের সাথে সম্পর্ক পর্যন্ত রাখেন নি। অথচ অসুস্থ আপনার অসহায় চোখজোড়া কিন্তু রক্তের সম্পর্কের এই মানুষগুলোকেই এক সময় খুঁজে ফিরবে। তখন তাদের পাশে পাবেন তোঁ?

কার জন্য, কিসের জন্য আপনার এই পাষাণ বৃত্তি? কি লাভ এই ছন্নছাড়া জীবন যাপনে? ফিরে যান শেকড়ে। ভালবাসুন কাছের মানুষগুলোকে। এগিয়ে যান সকলের সাহায্যার্থে, ভাল থাকবেন। আমার এক নিকটাত্মীয়া আছেন যাকে আমি মহামানবী বলি। নিঃসন্তান এই মানুষটি প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে দিনের দুই তৃতীয়াংশ সময় হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে আত্মীয় অনাত্মীয় রোগীদের সেবা করে চলেছেন সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ ভাবে। নিজের টাকা খরচ করে এই যে অর্ধ শতাব্দী ধরে মানুষের সেবা করে চলেছেন তার কি কোন বিনিময় নেই? অবশ্যই আছে, তিনি হয়ত খেতাব পান নি। কিন্তু অজস্র মানুষের ভালবাসা পেয়েছেন। এখনো পাচ্ছেন। পরিচিতরা তাকে সাহায্য করতে পেরে ধন্য হন। স্বাবলম্বীরা নিজেদের খরচে তাকে হজ্জ্ব করতে পাঠান। আপনাকে এমন মহামানব হতে হবে না অন্তত মানবিকগুনাবলি সমৃদ্ধ একজন আদর্শ মানুষ তোঁ হন।

নিজে ভালবাসুন, সন্তানকে ভালবাসতে শেখান। একটুখানি নিঃস্বার্থ হওয়ার চেষ্টা করুন। নিজে ভাল থাকবেন, আপনার সন্তান ভাল থাকবে। ভাল থাকবে এ সমাজ।

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৪৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×