somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেতন বৃদ্ধি নয় লভ্যাংশ প্রদান বাধ্যতামূলক করাই হত উপযুক্ত পন্থা

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এটা এমনই একটি সমস্যা যার হাজারটা মাথা। সমস্যা হল আমরা আবেগে ভেসে যাই কোনটার যে কি প্রভাব সেটা ভাবি না। আমাদের চোখের সামনেই তো চিন খরচ কুলাতে না পেরে আরএমজি সেক্টর থেকে সরে আসছে। রাজনৈতিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে বার বার বেতন বৃদ্ধির মত এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের আরএমজি সেক্টরও বন্ধ হয়ে যাবে। সেটা কি এর শ্রমিকদের জন্য ভাল কিছু বয়ে আনবে?

চিন তো বিকল্প কর্মসংস্থানের আদর্শ দেশ, তাঁদের শ্রমিকদের বিকল্প ব্যবস্থা হয়ে যাবে। আমদের দেশের শ্রমিকদের কি হবে। সেটা কি আমরা ভাবছি? আমাদের নীতিনির্ধারক গন তো কেবল বর্তমানকে বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সুদূর প্রসারী চিন্তা করেন না। ফলে সব জায়গায় কেবল জট লেগে যায়। এত এত জট খুলবে কে?

একটা প্রতিষ্ঠান তার আয় অনুযায়ী ব্যয় করে। এখানে চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। চাপিয়ে দিতে গেলে প্রতিষ্ঠান সে ভার বহন করতে পারবে না। এক পর্যায়ে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। তাতে প্রতিষ্ঠানের মালিকের থেকে তার কর্মকর্তা কর্মচারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরএমজি সেক্টরে বছরে চার মাস প্রায় বন্ধ্যা সময় কাটে। সে সময়ে আয় না হলেও খরচটা কিন্তু প্রায় একই থাকে সেটা কি আমরা জানি? অসংখ্য ছোট ছোট কারখানা আছে যারা মূলত বড় বড় প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করে থাকে। যাদের প্রফিট মার্জিন আহামরি কিছু নয়। এমন অনেকগুলি বিষয় আছে যেগুলো বিবেচনায় নিয়েই এই সেক্টর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিৎ।

৫০০ হাজার ৩০০ থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ৮০০০ টাকা ন্যুনতম মজুরী কি সবগুলো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দেয়া সম্ভব? যেটা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষ করে ছোট ছোট কারখানা যারা চুক্তিতে বড় প্রতিষ্ঠানের কাজ করে দেয়। হয় তাঁদের শ্রমিক ছাটাই করতে হবে। শ্রমিকদের উপর কাজের চাপ বাড়িয়ে দিতে হবে নয়ত নতুন নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে হবে। যার অবশ্যম্ভাবী ফল হল শ্রমিক অসন্তোষ। আসছে বছরের শুরু থেকেই হয়ত আমরা সেটা দেখতে পাব। তার থেকে কি এটা অনেক বেশি গ্রহণ যোগ্য হত না, যদি সরকার এমন একটি বিধান চালু করত। যেখানে প্রতিষ্ঠানের লাভের একটি নির্দিষ্ট অংশ তার কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া বাধ্যতামূলক করা হত।

যদি সেটা করা হত তাহলে একদিকে যেমন কর্মচারীরা তাঁদের কাজের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হত। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানও লাভবান হত। একইসাথে লাভবান হত কর্মকর্তা কর্মচারীরাও। প্রতিষ্ঠানের মালিকের উপরও বাড়তি চাপ পড়ত না।
তখন দেখা যেত প্রতিষ্ঠান ভেদে ন্যূনতম মজুরি ৮০০০ নয় ১০,০০০ হাজার বা তারও অধিক হতে পারত। যে সব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরি এর থেকে কম হত সে দায় যৌক্তিক ভাবেই শ্রমিকদের উপরেও বর্তাত। আর তা তাঁদের কাজের প্রতি আন্তরিকতা বাড়াত বৈ কমাত না। উলটো রাজপথ গরম করার প্রবণতা কমত।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো শিক্ষার্থী কখনো পরীক্ষা পেছাতে চায় না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

কারণ একজন প্রস্তুত শিক্ষার্থী জানে, পরীক্ষা যত দ্রুত শেষ হবে, সে তত দ্রুত জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবে। অনিশ্চয়তা, বারবার সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষা—এসব কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।

বৃষ্টি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপপোকায় খাওয়াচ্ছ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮


তোমার ফসলী মাঠের ফসল.
কেন উইপোকায় খাওয়াচ্ছ
কিছুদিন পর করবেটা কি
পাগল পাগল হবেই. শুনি!
পড়ালেখা করে একদিন বড় হবে
এটাই তো স্বপ্ন দেখি ওগো সোনাধন
তোমার সুনাম ভরে যাবে পাড়ায় পাড়ায়
গর্বে ভরে ওঠবে বাবা মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×