
এটা এমনই একটি সমস্যা যার হাজারটা মাথা। সমস্যা হল আমরা আবেগে ভেসে যাই কোনটার যে কি প্রভাব সেটা ভাবি না। আমাদের চোখের সামনেই তো চিন খরচ কুলাতে না পেরে আরএমজি সেক্টর থেকে সরে আসছে। রাজনৈতিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে বার বার বেতন বৃদ্ধির মত এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের আরএমজি সেক্টরও বন্ধ হয়ে যাবে। সেটা কি এর শ্রমিকদের জন্য ভাল কিছু বয়ে আনবে?
চিন তো বিকল্প কর্মসংস্থানের আদর্শ দেশ, তাঁদের শ্রমিকদের বিকল্প ব্যবস্থা হয়ে যাবে। আমদের দেশের শ্রমিকদের কি হবে। সেটা কি আমরা ভাবছি? আমাদের নীতিনির্ধারক গন তো কেবল বর্তমানকে বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সুদূর প্রসারী চিন্তা করেন না। ফলে সব জায়গায় কেবল জট লেগে যায়। এত এত জট খুলবে কে?
একটা প্রতিষ্ঠান তার আয় অনুযায়ী ব্যয় করে। এখানে চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। চাপিয়ে দিতে গেলে প্রতিষ্ঠান সে ভার বহন করতে পারবে না। এক পর্যায়ে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। তাতে প্রতিষ্ঠানের মালিকের থেকে তার কর্মকর্তা কর্মচারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরএমজি সেক্টরে বছরে চার মাস প্রায় বন্ধ্যা সময় কাটে। সে সময়ে আয় না হলেও খরচটা কিন্তু প্রায় একই থাকে সেটা কি আমরা জানি? অসংখ্য ছোট ছোট কারখানা আছে যারা মূলত বড় বড় প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করে থাকে। যাদের প্রফিট মার্জিন আহামরি কিছু নয়। এমন অনেকগুলি বিষয় আছে যেগুলো বিবেচনায় নিয়েই এই সেক্টর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিৎ।
৫০০ হাজার ৩০০ থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ৮০০০ টাকা ন্যুনতম মজুরী কি সবগুলো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দেয়া সম্ভব? যেটা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষ করে ছোট ছোট কারখানা যারা চুক্তিতে বড় প্রতিষ্ঠানের কাজ করে দেয়। হয় তাঁদের শ্রমিক ছাটাই করতে হবে। শ্রমিকদের উপর কাজের চাপ বাড়িয়ে দিতে হবে নয়ত নতুন নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে হবে। যার অবশ্যম্ভাবী ফল হল শ্রমিক অসন্তোষ। আসছে বছরের শুরু থেকেই হয়ত আমরা সেটা দেখতে পাব। তার থেকে কি এটা অনেক বেশি গ্রহণ যোগ্য হত না, যদি সরকার এমন একটি বিধান চালু করত। যেখানে প্রতিষ্ঠানের লাভের একটি নির্দিষ্ট অংশ তার কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া বাধ্যতামূলক করা হত।
যদি সেটা করা হত তাহলে একদিকে যেমন কর্মচারীরা তাঁদের কাজের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হত। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানও লাভবান হত। একইসাথে লাভবান হত কর্মকর্তা কর্মচারীরাও। প্রতিষ্ঠানের মালিকের উপরও বাড়তি চাপ পড়ত না।
তখন দেখা যেত প্রতিষ্ঠান ভেদে ন্যূনতম মজুরি ৮০০০ নয় ১০,০০০ হাজার বা তারও অধিক হতে পারত। যে সব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরি এর থেকে কম হত সে দায় যৌক্তিক ভাবেই শ্রমিকদের উপরেও বর্তাত। আর তা তাঁদের কাজের প্রতি আন্তরিকতা বাড়াত বৈ কমাত না। উলটো রাজপথ গরম করার প্রবণতা কমত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

