somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কমে যাচ্ছে সুজনের সংখ্যা

২১ শে এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা ইতিমধ্যে যে শিক্ষিত(!) জাতি তৈরি করেছি তাদের হাতে ক্ষমতা প্রদানের সাথে সাথে যদি তার প্রায়োগিক অধিকারের মাত্রা সুনির্ধারিত না করে দেয়া হয় তাহলে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন, এটা নিশ্চিত। কারন তারা শিক্ষিত(!) এটা ঠিক তবে সুশিক্ষিত এটা বলার কোন কারণ নেই।
আমরা তাদেরকে সনদ সর্বস্ব শিক্ষা দিয়েছি আমরা তাদেরকে নিদিষ্ট কাজের জন্য নির্ধারিত শিক্ষায় শিক্ষিত করেছি সার্বিক শিক্ষায় শিক্ষিত করি নি। ফলে তাদের যেমন ঘুষ নিতে বাধে না তেমনি সুদকে হালাল করতেও বাধে না। আবার লুট পাট আর ক্ষমতার অপব্যবহারকে তারা দক্ষতা বলে মনে করে। রোগীকে চুষে নিতে ডাক্তারের বাধে না, মক্কেলকে সর্বস্বান্ত করতে উকিলের খারাপ লাগে না। এ সব তারা তাদের অধিকার বলে মনে করে। এটাই আমরা তাদেরকে শিখিয়েছি।
যেহেতু শিষ্টাচার, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা তথা মানবিক গুণাবলীকে আমরা আমাদের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করিনি কাজেই কাউকে ক্ষমতা প্রদান করলে সাথে সাথে তাকে কিছু মানবিক গুণাবলী শিক্ষা প্রদানও জরুরী।
একজন ব্যক্তির যদি অপরের প্রতি মমত্ববোধ, সম্মানবোধ, ভালবাসা এবং সাধারণ শিষ্টাচার পর্যন্ত না জানা থাকে আর তার হাতে যদি ক্ষমতা প্রদান করা হয়। তাহলে সে আর মানব থাকে না দানবে পরিণত হয়। কাজেই এ সময়ে কাউকে ক্ষমতা প্রদানের আগেই তার মানবিক মূল্যবোধের বিচার করে নিতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে ঘাটতি পরিলক্ষিত হলে তাকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে নিতে হবে। নয়ত নির্বাচিত ব্যক্তিকে দিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ হাসিল সম্ভব হবে না। কে কার নাতি কে কোন দলের এটাই হবে নিজেকে উৎকৃষ্টতর প্রমাণের একমাত্র উপায়। অথচ আমরা ভুলে যাই আলেমের ছেলেও জালেম হয়! হযরত আদম (আঃ) এর প্রথম ছেলেই পৃথিবীর প্রথম হত্যাকারী। নুহ(আঃ) তার ছেলে কেনানকে আল্লাহর পথে ফেরাতে পারেন নি। অতএব বাবা ভাল হলেই যে তার সন্তান ভাল হবে এমন কোন কথা নেই। তাদের এই যে পিতার পরিচয়ে নিজেকে ভাল প্রমানের চেষ্টা এ সবই সু শিক্ষার অভাব।
আমাদের শিক্ষা পাঠ্যক্রমে সব থেকে অবহেলিত নৈতিক শিক্ষা। একজন সফল মানুষ হতে গেলে তাকে সবার আগে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। অথচ এই সবথেকে গুরুত্বপুর্ন বিষয়টিকে আমরা আমাদের পাঠ্যক্রমে রাখিনি। এটা যে সুপরিকল্পিত তার সবথেকে বড় প্রমান হল পূর্বে যে টুকুও ছিল ক্রমান্বয়ে আমরা সেটুকুও বাদ দিয়ে দিয়েছি।
আমাদের এই পাঠ্যসূচি দেখলে মনে হয় আমরা এমন এক উপনিবেশিক শাসনে আছি যেখানে আমাদের প্রভুরা মানব নয় কিছু যন্ত্র মানব তৈরি করতে চান যারা তাদের ইচ্ছানুযায়ী যন্ত্রের মত কাজ করে যাবে। মারতে বললে মারবে, বাচাতে বললে বাঁচাবে। হাসতে বললে হাসবে। হাসাতে বললে হাসাবে। মোট কথা "হীরক রাজার দেশ" এর সেই মগজ-ধোলাই প্রক্রিয়ায় আমাদের দেশে শিক্ষিতের নামে ক্রমাগত যন্ত্র মানব তৈরি করে যাওয়াই এই পাঠ্যক্রমের লক্ষ। যন্ত্র মানবদের মধ্যে যারা সরকারের এবং শাসক দলের বিভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছে যেতে সক্ষম হয় তারা তখন হয়ে যায় মনস্টার। যাদের মধ্যে নেই সততা, নেই মমত্ববোধ, নেই আত্মসম্মান পর্যন্ত। এরা যে কোন উপায়েই হোক অর্থ চায়, প্রতিপত্তি চায়। চায় ক্ষমতা। এরা তখন দুর্নিবার হয়ে পড়ে। শাসক গোষ্ঠী বিষয়টা খুব ভালভাবেই জানে আর সে কারণেই এক দলকে অন্য দল দিয়ে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করে। এবং একই সাথে এই ধারাকে তারা এগিয়ে নিয়ে যায়।
এর ফলে পরিবার থেকে এবং ধর্মীয় পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা মানুষগুলো মূলত দুই ধরনের শিক্ষা পায়। পরিবার থেকে ইতিবাচক, পাঠ্যক্রম থেকে নেতিবাচক। এর মধ্যে যে শিক্ষা তার মনোজগতের উপর বেশি প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয় সেই মানুষটা সেই রকম হয়েই বেড়ে ওঠে। যে কারণে সমাজের সর্বস্তরে আমরা দুই ধরনের মানুষই দেখতে পাচ্ছি। প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে মাঝে মাঝেই তাদের মাঝে সংঘাত হয়। আর এ ভাবেই এগিয়ে চলছে আমাদের এই পঙ্গু সভ্যতা। তবে সব থেকে শঙ্কার বিষয় হল প্রতিনিয়ত সুজনের সংখ্যা কমে যাচ্ছে পক্ষান্তরে বেড়ে যাচ্ছে দুর্জন।
আমার এই আশংকার সত্যতা নিয়ে যদি সন্দিহান হন। তাহলে বলুন আমাদের কেন আদর্শ খুজতে পেছনে যেতে হয়? কেন সমসাময়িক আদর্শ আমরা খুজে পাচ্ছি না। যত পেছনে যাবেন সে সংখ্যাও তত বৃদ্ধি পায়। কেন?
বুকে হাত দিয়ে বলুন - আপনার সন্তান ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রাজনীতিবিদ , সমাজসেবী যাই হোক না কেন তার আদর্শ হিসেবে সমসাময়ীক কাউকে পান?
মোটাদাগে এর জন্য দায়ী আমাদের বর্তমান রাজনীতিবিদগন। সম্ভবত তারা মানুষকে বড় বেশি ভয় পান। কারন মানূষ অন্ধ হয় না, টাকার গন্ধে মুখে কুলপ আটে না, মানুষ অন্যায়-অবিচারকে খুব বেশিদিন সইতে পারে না। সে বিদ্রোহ করে। একবার যদি সে জেগে ওঠে সে তখন সম্পুর্ন সিস্টেমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। আর সেখানেই এই রাজনিতিবীদদের যত ভয়। কারন তারা সুজনদের নিয়ে সুরাজনীতি করেন না। দুর্জনেরাই তাদের একমাত্র ভরসা। আর তাই "হিরক রাজা" কল্পকাহিনিতে নয় সব যুগে সর্বত্রই ছিল। হয়ত সংখ্যায় কম ছিল।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫৪
১৩টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×