
করোনা কালীন লক ডাউনে সকল মানুষেরই নাভিশ্বাস উঠলেও একটু লক্ষ করলেই দেখবেন মসজিদ মাদ্রাসার দানের পরিমাণ বেড়েছে বৈ কমে নি। তার কাড়ন হল এই বিপদের সময় মানুষ আরও বেশি আল্লাহ্ ভীরু হয়ে পড়ে এবং দান খয়রাতের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। যদিও সেটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জায়গা মত নয়। কিন্তু তাই বলে তার দানের পরিমাণ কমে না।
আমরা রিকশাওয়ালাকে দশ টাকা কম দিতে পেরে যেমন দ্বিগ্বিজয়ী হই তেমনি রিকশা থেকে নেমে সুঠাম দেহের অধিকারী সুললিত কণ্ঠে গজল গাওয়া লোকটির হাতে ঐ দশ টাকা গুজে দিয়ে মহা তৃপ্ত হই। তার কাড়ন হল আমাদের মগজে ঢুকে গেছে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার মুমিন বান্দাদের জন্য নির্ধারিত আটখানা জান্নাত ভিখারিদের কাছে ইজারা দান করে বসে আছেন। কাজেই সেই জান্নাত কিনতে হলে আমাদের এই ইজারাদারদের কাছ থেকেই নিতে হবে। যা তারা সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বিক্রি করে থাকেন। চড়া দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে যার মূল্যও এখন অনেক বেড়ে গেছে। দশ পয়সা নেয়া দিয়ে শুরু করা ভিখারি এখন আর দশ টাকার নিচে ধরেই না। সেটা আমরাও সহজেই মেনে নিয়েছি। বিষয়টা এমন দাড়ায় যে মাথার ঘাম পেয়ে ফেলে শ্রমের ন্যায্য মূল্য চাওয়ার থেকে বিনাশ্রমে বেহেশতের ইজারা নিয়ে সুর করে করে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করাটা অনেক বেশি সম্মানের! অনেক বেশি বুদ্ধিমানের! পেশাটা বেশ লাভ জনক। আর সে কাড়নেই হয়ত কওমি মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি শিশুকেই হাত পাততে শেখানো হয়, শেখানো হয় কিভাবে বেহেশত বিক্রি করতে হয়। কেবল শেখানো হয় না "নবীর শিক্ষা— ক’রো না ভিক্ষা, মেহনত কর সবে।"
কওমি মাদ্রাসার এতিম শিশুদের নাকি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অনেক কষ্টে সৃষ্টে লালন পালন করেন অথচ সত্য হল এই যে, এ দেশে একমাত্র কওমি শিক্ষার্থীরাই জোর গলায় বলতে পারে "আমরাই স্বাবলম্বী "। তারা যে শুধুমাত্র নিজেদের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করে তাই না, একই সাথে তাদের শিক্ষকদের বেতন ভাতার ব্যবস্থাও তারাই করে। সেটা ভিক্ষা করে হোক আর অন্যের দানের পয়সায় হোক। বাহক তো এই শিক্ষার্থীরাই।
শুরু করেছিলাম হাট হাজারী মাদ্রাসার অর্থ সংকট নিয়ে, শতাব্দী প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের ঠিক তখনই অর্থ সঙ্কটের কথা মনে হল যখন সরকারী মহল থেকে কওমি মাদ্রাসার আয় ব্যয়ের হিসেব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হল। যখন একে একে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এটা ঠিক, “মাহে রমজান কওমি মাদ্রাসাসমূহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। কারণ, সাধারণত এ মাসেই মুসলমানগণ যাকাত, ফিতরাহ আদায় এবং অধিক সাওয়াব অর্জনের আশায় অধিক দান-সদকা করে থাকেন।
প্রশ্ন হল, এতদিন ধরে যারা দান-সদকা করে এসেছেন এমন তো নয় যে এবার তারা তা দিবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নাকি গরীব-এতিম ছাত্রদের সারা বছরের খোরাকি ও অন্যান্য খরচ নির্বাহ করার সাথে সাথে এবার নেতাদের মামলার খরচ জোগানের জন্য বেশি টাকা প্রয়োজন?
অবশ্য এটাও ঠিক যে কওমি নেতারা যে ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে তাতে হয়ত তারা নিজেরাই শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন যে, এতদিন ধরে পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছেন তারা এবার আর হয়ত করবেন না। বিষয় যাই হোক এর প্রভাব যেন এই মাদ্রাসায় আট হাজার ছাত্র এবং শতাধিক শিক্ষকের উপর গিয়ে না পড়ে সে বিষয়ে সরকারকেই লক্ষ রাখতে হবে। একই ভাবে এতিম শিশুদের ইচ্ছেমত ব্যবহার বন্ধ করতে এবং তাদের সুশিক্ষায় নিশ্চিত করতে দেশের সকল কওমি মাদ্রাসার কর্তৃত্ব সরকারের নিজের হাতে নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। মাদ্রাসা বোর্ড, ইসলামী ফাউন্ডেশন অথবা যে কোন সরকারী প্রতিষ্ঠানকে এর পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হোক।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




