
বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কাছে টিকটক নামক সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফরমটি এই মুহূর্তে তুমুল জনপ্রিয়। অনেকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ার এই প্ল্যাটফরমটির ব্যাপক অপব্যবহার চোখে পড়ছে। টিকটকের মাধ্যমে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে অশ্লীলতা ও সামাজিক সহিংসতা। এর ফাঁদে পড়ে নারী পাচারের মত ঘটনাও ঘটছে। টিকটক এক দিকে যেমন কিশোর-কিশোরীদের নৈতিকতা ধ্বংস করছে তেমনি অন্যদিকে উসকে দিচ্ছে কিশোর অপরাধের ঘটনা । এর প্রধান কারণ হল অ্যাপটির যথেচ্ছ ব্যবহার। টিকটক ব্যবহারে কোন বিধি নিষেধ নেই। নেই সরকারি নিয়ন্ত্রণ ফলে অ্যাপটির এত বেশি অপব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়।
একটু লক্ষ করলে দেখা যায় টিকটকের ভিডিও কনটেন্টগুলিতে মূলত তরুণ তরুণীদের উগ্র সাজে সজ্জিত হয়ে অশ্লীল নাচ-গান নির্ভর। এমনকি এতে অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় ইভ টিজিং মাদক সেবনের মত নিষিদ্ধ সব কর্মকাণ্ড। কখনো কখনো সহিংসতাই হয়ে ওঠে এর মুল উপজীব্য।
টিকটকের কন্টেন্টগুলিতে এর ব্যবহারকারীদের এক ধরনের মন বৈকল্য চোখে পড়ে। অদ্ভুত বিষয় হল, ইতিবাচক নয় এরা ভিডিও কনটেন্টে নিজেদেরকে নেতিবাচক ভাবে উপস্থিত করে অন্যের মনোযোগ আকর্ষণে বেশি চেষ্টা করে। যেন অশ্লীল ভিডিও প্রচার করে কেউ কেউ হতে চাইছেন পর্নস্টার(!) আবার কেউ কেউ লেডি সন্ত্রাসী(!)। এসব দেখে দেখে নতুন করে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিত্য নতুন টিকটকার জন্ম নিচ্ছে।
এক সময় এলাকার উঠতি বখাটে কিশোর-তরুণ এবং কিশোর গ্যংয়ের সদস্যদেরকেই এ সব ভিডিও কনটেন্টে যুক্ত হতে দেখা যেত। কিন্তু এক বছর ধরে লক ডাউনে বাসায় আঁটকে থাকতে থাকতে মেধাবী কিশোর কিশোরীরাও এই ধরনের ডিডিও তৈরি এবং প্রচারে নেমে পড়েছে। অনৈতিক ও অশ্লীল ভিডিও না হলে নাকি এর গ্রহণযোগ্যতা থাকে না কাজেই যে যতটা অশ্লীল যতটা অভব্য হতে পারবে সে তত বড় সেলিব্রেটি হয়ে উঠবে এটাই হচ্ছে এর একমাত্র চেষ্টা। কিশোর কিশোরীরা স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজক কন্টেন্ট এর প্রতি ঝুঁকবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাদের এই সব ক্ষতিকারক উপাদান থেকে দূরে রাখা। বলা বাহুল্য এখানে পরিবার এবং সমাজের খুব বেশি কিছু করার থাকে না। বিটিআরসি চাইলেই ক্ষতিকারক এই সব অ্যাপ বন্ধ বা সেন্সর শিপের আওতায় নিয়ে আসতে পারে। প্রয়োজন দায়িত্ব সচেতনতা। এতে করে মোবাইল অপারেটরদের হয়ত কিছুটা স্বার্থ হানী ঘটবে ঠিকই কিন্তু বেঁচে যাবে একটি প্রজন্ম।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


