somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ব্লগার আকাশ
দিন-রাত সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি দেখতে ইচ্ছা হয় (দেখিও বটে)। পাশাপাশি কলকাতার মুভিগুলোও অনেক ভালো লাগে। যদিও ভালো মতো লিখতে পারিনা, তাও এগুলো নিয়ে লেখা-লিখি করতে অনেক ভালো লাগে।

"উস্তাদ হোটেল": অসম্ভব সুন্দর মালায়ালাম সিনেমা!

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৭:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মাসালা সিনেমা অপেক্ষা সামাজিক, অনুপ্রেরণামূলক, হৃদয়স্পর্শী বা থ্রিলার জাতীয় সিনেমা পছন্দ করেন, তাদের জন্য মালায়ালাম ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে সেরা পছন্দ। আর ২০১২ সালের "উস্তাদ হোটেল" আমার দেখা অন্যতম সেরা মালায়ালাম সিনেমা।


কাহিনি সংক্ষেপঃ- মুসলিম পরিবারের সন্তান ফাইজি। মা জন্মের সময়ই মারা যায়। বাবা ধনী ব্যবসায়ী। বড় চার বোনের কাছে থেকেই বড় হয় সে। বোনদের সাথে থেকে থেকে রান্না-বান্নার কাজেও সে এক্সপার্ট হয়ে ওঠে।

ফাইজির বাবা আব্দুল রাজ্জাকের স্বপ্ন ফাইভ স্টার হোটেল। তাই ফাইজিকে সুইজারল্যান্ড পাঠানো হয় হোটেল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করতে। কিন্তু সে ফিরে আসে শেফ (রাধুনী) হয়ে! লন্ডনের আইভি রেস্ট্রুরেন্টে শেফ হিসাবে একটি চাকরিও পেয়ে যায় ফাইজি। কিন্তু এতে করে তার বাবার ফাইভ স্টার হোটেলের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। তাছাড়া ছেলে বাবুর্চির কাজ করুক তা একদমই পছন্দ নয় আব্দুল রাজ্জাকের। তাই ফাইজির পাসপোর্ট কেড়ে নেয় যাতে সে লন্ডন যেতে না পারে।

এমতাবস্থায় ঘর ছেড়ে ফাইজি চলে আসে তার দাদু করিম ইক্কার কাছে। যে বিগত ৩৫ বছর ধরে "উস্তাদ হোটেল" নামে একটি হোটেল চালাচ্ছে। তার এই হোটেলের বিরিয়ানি খুবই বিখ্যাত। এমনকি ফাইভ স্টোর হোটেলেও তার এই বিরিয়ানী সাপ্লাই দেওয়া হয়!

ফাইজি এতদিন যা শিখেছিলো তা ছিলো বইয়ের শিক্ষা, রান্না সংক্রান্ত আসল শিক্ষাটা সে তার দাদু করিম ইক্কার কাছেই পায়। এসব ঘটনা চলাকালে নায়িকার সাথেও দেখা হয় ফাইজি অর্থাৎ অভিনেতা দুলকারের। (এ সিনেমায় নায়িকার বলা মতো কোনো কাহিনি নেই)

দাদুর কাছে থাকাকালীন ফাইজি রান্না-বান্নার পাশাপাশি তার পাসপোর্ট ফিরে পাওয়ার জন্যও অনেক চেস্টা চালিয়ে যায়। ফাইজির স্বপ্ন লন্ডনের হোটেলে শেফ হওয়া। কিন্তু পাসপোর্টের অভাবে সে আটকে আছে তার দাদুর উস্তাদ হোটেলে। এদিকে সময়মতো ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় দেউলিয়া হওয়ার পথে উস্তাদ হোটেল।

শেষ পর্যন্ত কি হলো উস্তাদ হোটেলের?? আর ফাইজি কি পারলো লন্ডন গিয়ে তার স্বপ্ন পূরণ করতে?? জানতে হলে দেখতে হবে অসাধারণ এই সিনেমাটি।


আমার দৃষ্টিতে এই সিনেমার ভালো কিছু দিকঃ- এই সিনেমায় আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে ফাইজি চরিত্রধারী দুলকার সালমান এর অভিনয়। এই সিনেমার জন্যই দুলকার আমার প্রিয় অভিনেতাদের একজন। এছাড়া করিম ইক্কার অর্থাৎ ৭৬ বছর বয়সী ঠিলাকানের অভিনয় আমাকে মুগ্ধ করেছে। এই সিনেমা মুক্তির ২ মাস পরেই মারা যায় ঠিলাকান। সিনেমার ডিরেক্টর আনোয়ার রশিদ এর কথা না বললেই নয়। তিনি তার শতভাগ দিতে পেরেছেন বলেই আমি মনে করি। মনোযোগ দিয়ে দেখলে করিম ইক্কা চরিত্রে বেশ কিছু শিক্ষনীয়/ভালো উক্তি খুঁজে পাবেন। যেমন একটা উক্তি ছিলো এরকম "পেট সবাই-ই ভরাতে পারে, কিন্তু একজন ভালো রাধুনী পেটের সাথে মনও ভরিয়ে দেয়"। সিনেমার গানগুলোও বেশ ভালো।


খারাপ দিকঃ- উস্তাদ হোটেল সিনেমায় আমি বিশেষ কোনো খারাপ দিক পাইনি। তবে গল্পটা আর হালকা অন্যরকম করে নায়িকা নিথিয়া মেননকে আরো একটু ভালো ভাবে উপস্থাপন করলে ভালো হতো। এই সিনেমায় তার ক্যারেক্টারের গভীরতা নেই বললেই চলে।


আমরা অনেকেই প্রচুর পরিমাণে সিনেমা দেখি। ফলে বেশিরভাগ পুরাতন সিনেমার গল্পই মনে করতে দুবার ভাবতে হয়। তবে "উস্তাদ হোটেল" সিনেমাটি দেখার পর আপনার মনে আজীবন গেঁথে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস.... এরকম খুব কম সিনেমাই আছে যেগুলো আমরা যতটা আশা নিয়ে দেখতে বসি, তার থেকে বেশি পাই। এটি তেমনই একটা। এই সিনেমায় কোনো টুইস্ট নেই, বলা মতো কমেডি নেই, রোমান্স নেই, ফাইট নেই, ড্যান্স করা মতো কোনো গানও নেই। তারপরেও এটি একটি মাস্ট ওয়াচ সিনেমা এবং আমি এটি সব বয়সী লোককেই দেখার জন্য জরুরীভাবে সাজেস্ট করবো। সিনেমাটি দেখার পর হয়তো আপনার দাদুর কথা মনে পড়বে বা তার প্রতি ভালোবাসা বেড়ে যাবে। হয়তো মনে মনে ভাববেন... বড় কোনো স্বপ্ন তো আমার জীবনেও ছিলো.... যা হয়তো ফাইজির মতোই.............
.
থাক, আর নাই বা বললাম।


এই সিনেমার টুকিটাকি তথ্যঃ
> Movie: Ustad Hotel
> Director: Anwar Rasheed
> Producer: Listin Stephen
> Writer: Anjali Menon
> Music: Gopi Sunder
> Release Date: 13 July 2012
> Language: Malayalam
> Cast: Dulquer Salmaan, Nithya Menen, Thilakan, Siddique, Mamukkoya, Malavika Nair, Praveena, Lena Abhilash etc
> IMDB Rating: 8.3/10
> My Rating: 8.8/10


সিনেমাটি এ পর্যন্ত অনেক পুরস্কার পেয়েছে, যার তালিকা উইকিপিডিয়ায় পাবেন। আর একটা কথা, এই সিনেমার হিন্দি ডাবিং নেই। বাংলা সাবটাইটেলে দেখতে পারেন।


এটি আমার লেখা প্রথম রিভিউ। একটু ছোট করেই লিখেছি, তবে ভালো করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তবুও অনেক ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়। সেগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে শুধরিয়ে দিলে খুশি হবো। ভবিষ্যৎয়ে আরো কিছু সিনেমার রিভিউ লেখার ইচ্ছা আছে। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০১৬ সকাল ৮:২৫
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×