somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ব্লগার আকাশ
দিন-রাত সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি দেখতে ইচ্ছা হয় (দেখিও বটে)। পাশাপাশি কলকাতার মুভিগুলোও অনেক ভালো লাগে। যদিও ভালো মতো লিখতে পারিনা, তাও এগুলো নিয়ে লেখা-লিখি করতে অনেক ভালো লাগে।

তেলুগু সিনেমাঃ "নান্নাকু প্রেমাতো" (২০১৬) - ভালো লাগার থেকেও বেশি কিছু!

৩০ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ৮:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সুকুমারের স্ক্রীপ্ট, এনটিআরের নতুন লুক, ইমোশনাল টাইটেল ট্র্যাক, সব সাইটে টপ রেটিং- সবমিলিয়ে একটু বেশিই এক্সাইটেড হয়ে গেছিলাম "Nannaku Prematho" (English: To Dad, With Love) মুভিটা দেখার জন্য। আর মুভিটা দেখার পর এতটাই ভালো লাগলো যে রিভিউ না লিখে থাকতে পারলাম না। তাই এক্সাম ব্যস্ততার মাঝেও হাজির হলাম "নান্নাকু প্রেমাতো"র ছোট-খাটো একটা রিভিউ নিয়ে।


গল্প সংক্ষেপঃ অভিরাম (এনটিআর), লন্ডনে বাসকারী সুব্রমনীয়ামের ৩য় পুত্র। চাকরি হারিয়ে অভিরাম নিজেই একটি কোম্পানি খুলে নিয়েছে, "কেএমসি পাইপস এন্ড ক্যানাল"। অফিসের কাজে স্পেন থাকালীন তার কাছে খবর আসে যে, তার বাবা সুব্রমনিয়াম গুরুতর অসুস্থ। বাবাকে দেখার জন্য অভি ইংল্যান্ড ফিরে আসে এবং জানতে পারে তার বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত, বাঁচার সম্ভাবনা আর মাত্র এক মাস!

সুব্রমনিয়াম তার তিন ছেলেকে ডাকে এবং ২০ বছর আগেকার একটি ঘটনা শোনায়, যা তাকে এখনো কষ্ট দেই। তার নাম আসলে সুব্রমনিয়াম নয়। তার নাম রমেশ চন্দ্র প্রসাদ। যে কিনা লন্ডনের সেরা কয়েকজন ধনীদের একজন ছিলো! কিন্তু এক বন্ধুর ধোকাবাজীতে সে তার সব কিছু হারিয়েছে। বন্ধুটির নাম কৃষ্ণমূর্তী কৌটালিয়া!

কৃষ্ণমূর্তী কৌশলে রমেশ চন্দ্রের সব অর্থ হাতিয়ে নেয়! এমনকি মানুষের কাছেও রমেশ চন্দ্রকেও দোষী হিসেবে সাব্যস্থ করে। কৃষ্ণমূর্তীর জন্য নিজের নাম পাল্টাতেও বাধ্য হয়েছিলো রমেশ চন্দ্র। নিজের নাম, স্ট্যাটাস, টাকা-পয়সা সব কিছু এক ঝটকায় শেষ হয়ে রমেশ চন্দ্রের। যার একমাত্র কারণ কৃষ্ণমূর্তী!

বর্তমানে, কৃষ্ণমূর্তী কে গ্রুপের চেয়ারম্যান। প্রচুর ক্ষমতাধর একজন ব্যক্তি। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ এখন ৩৫,০০০ কোটি। যার সবই অসৎ উপায়ে কামাই এবং এর সূচনা ছিলো রমেশ অর্থাৎ সুব্রমনিয়ামকে ঠকিয়ে। সুব্রমনিয়ামের ইচ্ছা, তার তিন ছেলে তার হয়ে প্রতিশোধ নিক! কৃষ্ণমূর্তীকে ৩৫,০০০ কোটির মালিক থেকে শূন্য করে দিক। সমাজে খোলসা করে দিক কৃষ্ণমূর্তীর আসল রুপ। এটাই তার শেষ ইচ্ছা।

অভির বড় দুই ভাই ব্যাপারটাকে অনেকটা হেসেই উড়িয়ে দেয়! ২০ বছর আগের ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া তাদের কাছে হাস্যকর লাগে। তার উপর কৃষ্ণমূর্তীর মতো ক্ষমতাধর ও অগাধ ধনীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া তো অসম্ভব! কিন্তু অভি চায় তার বাবার শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করতে। মনে কোনো কষ্ট না রেখে, প্রতিশোধের আনন্দ নিয়ে মৃত্যুবরণ করুক বাবা, এটাই অভির চাওয়া।

অভি ঠিক করে ফেলে নিজের মিশন... কৃষ্ণমূর্তীর ৩৫,০০০ কোটি টাকার বিশাল সম্পত্তি ও ব্যাংক ব্যালেন্স, সমাজে কৃষ্ণমূর্তীর স্ট্যাটাস- সব কিছু ধ্বংস করে দিতে হবে। এমনকি কৃষ্ণমূর্তীও যেনো তার বাবা রমেশ চন্দ্রের মতো নাম পাল্টাতে বাধ্য হয়। তবেই তো হবে আসল প্রতিশোধ...! তবে ডাক্তারের কথা অনুযায়ী তার বাবার বাঁচার সম্ভাবনা আর মাত্র ১ মাস। তাই অভির হাতেও সময় মাত্র ৩০ দিন। এত কম সময়ে এই বিশাল সম্পত্তি ধ্বংস করতে পারবে তো অভি!

এই মিশনে সঙ্গী হিসেবে প্রথমেই ৩ জন লোক ঠিক করে অভি। এবার নির্দিষ্ট টার্গেট ঠিক করে আর এগোতে থাকে মিশন সম্পন্ন করতে... প্রথম টার্গেট কৃষ্ণমূর্তীর মেয়ে দিব্যিয়া (রাকুল প্রীত)!


এতক্ষণ যা বললাম তা সিনেমার প্রথম আধা ঘন্টা। বাকি ২ ঘন্টা অভি (এনটিআর) আর কৃষ্ণমূর্তী (জগপতী বাবু) এর মধ্যে একটা বুদ্ধির গেম! আর এই গেমের ফিনিশিং দেখে যে কারোরই চোখ কপালে উঠে যাবে!

প্রতিশোধের এই খেলায় কে জিতলো, কিভাবে জিতলো.... তা জানতে হলে দেখতে হবে সিনেমাটি।


পরিচালনাঃ এই মুভিতে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে মুভিটির গল্প। যা লিখেছে সুকুমার। পরিচালকও তিনি। মূলত সুকুমারের জন্যেই এই মুভিটি নিয়ে আমি বেশি এক্সাইটেড ছিলাম। আরিয়া, আরিয়া টু, ১০০% লাভ এবং সর্বশেষ মহেশ বাবুর "ওয়ান"- সুকুমারের লেখা ও পরিচালনায় এই মুভিগুলো দেখার পর তার ফ্যান হয়ে গেছি! এই মুভিটি দেখার পর তার প্রতি আস্থা আরো বেড়ে গেলো। সত্যি... কি দারুণ গল্প লেখেন আর নিখুঁতভাবে পরিচালনার মাধ্যমে তা সিনেমায় রুপদান করেন!


অভিনয়ঃ সত্যি বলতে... এই মুভিতে এনটিআরের অভিনয় নিয়ে আমার মনে কিছুটা সংশয় ছিলো। তাকে এতদিন অ্যাকশান মাসালা মুভিতেই দেখে আসছি। সম্পূর্ণ নতুন লুক, নতুন স্টাইল, নতুন টাইপের মুভি। তবে মুভিটি শুরুর পর থেকেই মনের সব সংশয় দূর হতে থাকে... বিগত সকল মুভি অপেক্ষা এই মুভিতে এনটিআর বেশি ভালো অভিনয় করেছে। এই মুভিতে এনটিআরের চরিত্রটি যেনো উপস্থিত বুদ্ধিতে ভরপুর! দারুণ একটা চৌকস ভাব লক্ষ্য করা গেছে। মুভির নায়িকা রাকুল প্রীতও অল্প কয়েকদিনেই অভিনয়টা ভালোভাবেই আয়ত্ত করে ফেলেছে। তাছাড়া জগপতী বাবু, রাজেন্দ্র প্রসাদসহ বাকী সবাই নিজ নিজ ক্যারেক্টার দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।


মিউজিকঃ মিউজিক পরিচালনায় যখন দেবি শ্রী প্রসাদ, তখন মিউজিক ভালো না হয়ে উপায় আছে! বিশেষ করে টাইটেল ট্র্যাকটা যে কারোরই হৃদয় ছুয়ে যাবে। "লাভ ডিব্বা" গানটিও অনেক ভালো লেগেছে। "ফলো ফলো" গানটি জুনিয়র এনটিআর নিজেই গেয়েছেন! প্রায় প্রত্যেকটা গানেই এনটিআরের অসাধারণ ড্যান্স লক্ষ্য করা যায়।


এনটিআর বা সুকুমার ফ্যান বলে কথা না... মুভি ফ্যান হলেই এটি আপনার জন্যে একটি মাস্ট ওয়াচ মুভি! হয়তো রিভেঞ্জ মুভি তেলুগুতে অনেকই হয়, তবে এইটা পুরো ব্যতীক্রম। হার্ট টাচিং একটা মুভি বলা যায়।

সত্যি... বাবারা সন্তানের জন্য অনেক কিছু করেন। কিন্তু কয়টা সন্তানই বা অভি এর মতো হয়! আমরাই বা আমাদের বাবার কয়টা ইচ্ছাকে বাস্তবে রুপ দিতে পারলাম! তারা তো আমাদের সব ইচ্ছাই পূরণের চেষ্টা করেন।


এই মুভির বিস্তারিত তথ্য >>
●► Movie: Nannaku Prematho
●► Director: Sukumar
●► Music: Devi Sri Prasad
●► Cast: Jr NTR, Rakul Preet, Jagapati Babu, Rajendra Prasad etc
●► Language: Telugu
●► Release Date: 13 January 2016
●► Rating: IMDb- 8.7, Personal- 9.1


ডাউনলোড লিংক >>
ডিরেক্টঃ কমেন্ট।

টরেন্টঃ কমেন্টে।

সাইজ= ১০৯৮ মেগা। ফাইল= Dvdscr, থিয়েটার প্রিন্ট। ইংরেজী সাবটাইটেল যুক্ত আছে। অডিও, ভিডিও দুইটাই ক্লিয়ার। সাবটাইটেল ৮৫-৯০% বোঝা যায়। সাবসহ ভালো প্রিন্ট বের হয়ে এখনো সম্ভবত ৪-৫ মাস বা আরো বেশি।


কষ্ট করে রিভিউটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। যদিও ভালোভাবে রিভিউ লিখতে পারিনা... তবে মুভিটা সম্পর্কে মোটামুটি একটা দিতে পারলে, সেটাই আমার সার্থকতা।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ৮:৫৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×