শিল্পের সব মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি শূন্যতা রাজনীতির, চিৎকার দিয়ে বলা হয় একটি অরাজনৈতিক সিনেমা, একটি অরাজনৈতিক গান, একটি অরাজনৈতিক কবিতা পাঠের আসর । রাজনৈতিক না হয়ে অরাজনৈতিক হওয়ার সব চাইতে বড় সুবিধা; আপনি সিষ্টেমের সপক্ষের শিল্পী, আপানার কোন কর্মই সিষ্টেম বিরোধী না। আপনার সিনেমা, গান, কবিতা সবই ক্ষমতাশীল গোষ্ঠীর জন্য ক্ষমতাবান্ধব।
যহির রায়হানের পর কোন সিনেমাই আধিকারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আওয়াজ দেয় নাই ,রুদ্রের পরেই সবাই প্রতিষ্ঠানিক কবিতে পরিণত হয়েছে; '৯০ এর ইতিহাসের কথা ভুলে যাওয়া কথা শেষবার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন মাকদুস,
তারপর রাষ্ট্র পথনাটকের দল দিয়ে জনগণকে কনডম ব্যবহার শিখিয়েছে, কবিদের দিয়েছে অনুদান। কবিরা কবিতা বাদ দিয়ে 'পে অফ লাইন' লিখছে । থিয়েটার হয়ে গেছে রাষ্ট্রবান্ধন শিল্প পরিচর্যা কেন্দ্রে ।
আমাদের সফল তরুণরা শুরু করেছে পরিবেশ আন্দোলন, কেউ কেউ নদী রক্ষা আন্দোলন করেছে, কেউ গাছ বাঁচাও, কেউ অতিথি পাখি বাঁচাও আন্দোলনও করেছেন অবশ্য।
এমন আন্দোলন আমাদের বাহারি বাজারি শিল্পের মতন; রাষ্ট্রপক্ষের তাতে কিছু যায় আসেনা। এমন কথিত সমাজ ও রাষ্ট্র বান্ধব বিপ্লব প্রথম আলোর কথিত সুদিনের আফিমের মতন । রাজনৈতিক পরিবর্তন ছাড়া এমন অরাজনৈতিক স্টান্ডবাজি ব্যক্তিইমেজের তাকমা শুধু যা কোন দিন কৃষকের ন্যায্য পাওনার হাতিয়ার হবে না । শ্রমিকের পক্ষের শক্তি হয়ে ক্ষমতার দিয়ে কোন রক্ত চক্ষুর হুলিয়া হবে না ।
তবুও এরা টেলিভিশনে মেকাপ মেখে বলে বেড়াবেন আমি পিপেলস আর্টিস্ট, নিতান্তই দুর্ভাগ্য উহাদের কর্মে কোথাও আর্ট পেলাম না, পেলাম না পিপেলস । শিল্পের কোন মাধ্যমের সাথে এখন আর মানুষের সম্পর্ক নেই, নেই নীতির কিংবা রাজনীতির। শিল্পের গুনগত মান ও শৈল্পিকতা নিয়ে এখন আর শিল্পীর চিন্তা করতে হয় না । বাজারজাতকরনই এখন আসল শিল্পকর্ম আর তা শিল্পীর নিজের করতে হয় না এখানে যোগ হয়েছে মধ্যসত্ত্বা ভুগী। এই বাহারি বাজারমুখী সিনেমা, গান, নাটক কবিতা সবই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক । এখানে পিপেলস কই ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



