
তোমাকে ছুঁইনি -
- অব্যাক্ত কথামালা।
তোমাকে ছুঁইনি - এটিই ছিলো
বিশ্বাস ভঙ্গের অহেতুক ভয়ে
আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অপারগতা।
তোমাতে-আমাতে হয়ে গিয়েছিলো
মনের গভীরতম প্রণয়াকুল সম্পর্ক
তবুও তোমাকে আমি ছুঁইনি।
দু' দুটি মিস কলেই-
আমি জড়িয়ে গিয়েছিলাম তোমাতে।
তারপর তো এক্সপ্রেস ট্রেনের মতোই
সমান্তরাল পথে এগিয়ে চলা;
প্রান্তরের পর প্রান্তর।
ময়মনসিংহের এ মাথা ও মাথা, তে-মাথা
এমনকি তোমার নিজ বাসাতেও।
যেখানে কোন ছোঁয়া-ছোঁয়ি নেই;
কিন্তু জানতাম না-
রাত্রি দ্বি-প্রহরের মিসকল কেবলই
জীবনের মিসকল হয়; ধরা দেয় না।
ছোঁয়া-ছোঁয়ি ছাড়া কি ভালোবাসা জমে, বলো?
তুমি কিন্তু আমাকে বহুবার ছুঁয়েছো।
আমার হাত থেকে মাউসটা টেনে নিতে গিয়ে ছুঁয়েছো-
কিংবা কলমটা নিয়ে কিছু লিখতে গিয়ে ছুঁয়েছো আমায়।
তুমিই কিন্তু প্রথম আমায় জড়িয়ে ধরেছিলে তোমার বাসাতে।
অথবা তোমার কেনা রজনীগন্ধার স্টিকটা
আমার হাতে দিতে গিয়ে আমাকে ছুঁয়েছো।
তোমার খিল খিল হাসিটাও আমার ভেতরটা ছুঁয়ে যেতো;
কিংবা হুডতোলা রিকশায় চড়পাড়া টু বাকৃবি যেতে পথে
তোমার মসৃণ করযুগল আমার ভাঁজকরা চুলগুলোকে এলোমেলো করে দিতো।
তুমি বলতে গোছানো চুল তোমার ভালো লাগে না -
ছেলেদের চুল থাকবে এলোমেলো।
আমি কিন্তু এমনটি করিনি কখনো,
তোমার ভরা বর্ষায় কস্মিনকালেও হাত ভেজাই নি;
আমি তোমার মনের গভীরে ছুঁয়ে যেতে চেয়েছিলাম।
পারিনি; পারলে তো আর আজ কী বোর্ডে এই লেখা আসতো না।
তবে এখন বোঝেছি-
তোমাকে ছুঁলেই হয়ে যেতো সবকিছু।
আমার স্পর্শ তোমাকে রাঙিয়ে দিতো আবীরের রঙে,
তোমার মন গভীরে ওংকার দিতো উচ্ছাস,
রসায়নের জোয়ার বইতো তোমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে,
অজানা শিহরণে কেঁপে উঠতে তুমি
তোমার গভীর দৃষ্টি নিবদ্ধ হতো আমার মুখপানে।
তবেই না বিশ্বাস করতে আমাকে।
আজ এই মধ্যবয়সে আমার সমস্ত সত্তাকে এডিট করে নিয়েছি;
তাই বড়ো-বেশি ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করে তোমাকে।
- সারা'কে উদ্দেশ্য করে লিখা।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




