
ছবিটা ইন্টারনেট থেকে নিয়েছি। এটা যে রাজনের ছবি তা তো সকলেই জেনে গেছেন। আমি ভিটামিন সি। আমি সিরিয়াস কোন লেখা পোষ্ট করি না। আমি হাল্কা মজার লেখা পোষ্ট করার চেষ্টা করি। রাজনের হত্যাকান্ড নিয়ে আমাদের সহব্লগারদের লেখাগুলি পড়েছি আর কেঁদেছি। এখনো কাঁদছি। জানি লিখে কিছু হবে না। আমাদের দরকার শক্ত আইনের শাসন যাতে করে সকল অপরাধীরা তাদের কৃতকর্মের জন্য শাস্তি পায়। নাহলে মিঠুন চক্রবর্তীর ওই বাংলা ছবিটার প্লট কাজে লাগিয়ে এগিয়ে আসা। ২য়টা হয়তো ছবিতেই সম্ভব, বাস্তবে নয়।
রাজনের এই ছবিটা দেখলেই আমার বড় বোনের ছেলে মুশফিকের কথা মনে হয়, তার মুখ চোখে ভেসে ওঠে, আমি চমকে উঠি বারবার। মুশফিক দেখতে ঠিক রাজনেরই মতো। এমনই বড়, এমনই মোটা, এমনই গোলগাল মুখ, দাঁত ও চুল এমনই শুধু মাত্র রাজন একটু শ্যমলা বর্ণের আর মুশফিক ফর্সা। আর একটা পার্থক্য হল রাজনের বয়স তেরো, মুশফিকের এগারো। দুজনেই শিশু। আমি দেশে যাবার সময় এই রাজন যদি এয়ারপোর্টে আমাকে রিসিভ করতে আসতো, (মুশফিক প্রতিবারই আমার জন্য তার বাবা, মা অথবা খালুর সাথে এয়ারপোর্টে আসে) তাহলে আমি হয়তো বলতাম, কিরে তিন নম্বর তোর গায়ের রঙ ময়লা হলো কিভাবে?
রাজনের বাবা-মার কেমন লাগছে ভেতরে এই অনুভুতি আমি জানাতে পারছি না। কিন্তু একজন মামা হিসেবে কেমন লাগছে সেটা উপলব্ধি করতে পারছি যখন এই লেখা লিখতে গিয়ে দুচোখ বারবার নোনা জলে ঝাপসা হয়ে আসছে। রাজনেরও তো আমার মতো মামা হয়তো আছে, আমার মতো বড় চাচাতো মামাতো ভাই আছে। আর যারা মেরেছে তাদেরও দুই-একজনের রাজনের মতো ছোট ছেলে, ভাই, ভাগ্নে বা ভাইস্তা আছে। রাজনের করুন মায়াকাড়া মুখ, কান্না, চোখ দেখেও তোরা এই ছেলেকে আঘাত করতে পারলি!! একবারও তোর ছেলেটার মুখ চোখে ভেসে উঠল না? তোর বোনের ছেলেটার মুখ তোর চোখে ভেসে উঠল না? ওই ছেলেটা তোদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তাকে পুলিশে দিতে বলল, তার পরও তোদের মন গলল না বর্বর পাষন্ড। তোদের অত্যাচারের চোটে যখন গলা বুক শুকিয়ে আসে, তখন পানি খেতে চায়। আরে নরপশু পানি চাইলে তো শত্রু ও শত্রুকে তা দেয় আর তোরা কিনা ছোট ছেলেটাকে তাও দিলি না!! জীবন ও জীবিকার সাথে যুদ্ধ করে বড় হওয়া ছেলেটাকে তোরা মেরে ফেললি!!
আমরা রাজন হত্যার বিচার চাই। যেন তেন বিচার নয়, যেভাবে রাজনকে হত্যা করা হয়েছে সেভাবেই যেন হত্যাকারীদের শাস্তি কার্যকর করা হয়। আর যেন কোথাও এমন শিশুকে রাজনের পরিণতি বরণ করতে না হয় তার জন্য সতর্কতামুলকভাবে সেই শাস্তি লাইভ দেখানো হউক। রাজন হত্যার ভিডিওচিত্র আমি দেখিনি। আমি আবেগপ্রবণ মানুষ। এই চিত্র দেখে সহ্য করতে পারবো না।
এই রাজন হত্যার মামলা দ্রুত বিচার আইনে করা হউক। দেশের কোন আইনজীবি যেন হত্যাকারীদের পক্ষে না লড়ে। কোন ডাক্তার বা রাজনীতিবিদ যেন না বলে বসেন যে "হার্ট এটাকে রাজনের মৃত্যু হয়েছে"।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ৮:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




