স্বাধীনতা একটি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন-আমাদের ক্ষেত্রে একথাটি আরো বেশী সত্য।কিন্তু দুর্ভাগ্য-আমাদের প্রাণের সেই স্বাধীনতাই সবচেয়ে বেশী রাজনীতিকরনের শিকার।স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধ আজ রাজনৈতিক হাতিয়ার। রাজনীতিকরনের করাল গ্রাসে বারবার ধর্ষিত হচ্ছে স্বাধীনতার ইতিহাস,আমাদের অকুতোভয় বীরেরা চলে যাচ্ছেন বিস্মৃতির অন্ধকারে।মনে পড়ে বংগবীর ওসমানীর কথা--মহান মুক্তিযুদ্ধের সফল সর্বাধিনায়ক--ষড়যণ্ত্রের মাধ্যমে যাকে থাকতে দেয়া হয়নি পাকবাহিনীর আত্মসমর্পনস্থলে।মনে পড়ে জাতীয় নেতা তাজউদ্দীনকে--যিনি মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাস জুড়ে চষে বেড়িয়েছিলেন মুক্তিবাহিনীর অবস্থানে;অক্লান্ত পরিশ্রমে সামাল দিয়েছেন অস্থায়ী সরকারের কাজ-সফলভাবে।মনে পড়ে আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত সাংবাদিক জহির রায়হানের কথা--যার অসামান্য প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছে 'Stop Genocide' এর মত ডকুমেন্টারি,যিনি বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন তখনকার প্রকৃত অবস্থা।অনেক বড় বড় নেতা-বুদ্ধিজীবিরা যখন কলকাতায় বিলাসী জীবন যাপন করছিলেন,জহির তখন নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে করে যাচ্ছিলেন তঁার ক্ষেত্রে।আর তাকেই কিনা গুম হয়ে মরতে হলো তার সাধের স্বাধীন,মুক্ত বাংলাদেশে!
বিজয়ের এই মাসে আমরা ক'বার শুনেছি এইসব মহান বীরদের কথা?শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে।এরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে।কেন তাদের অবদান লুকিয়ে রাখতে হবে নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে?আমরা সবকিছুকেই রাজনীতিকরন করি,স্বাধীনতার মত অমূল্য সম্পদকে কি আমরা রাজনীতিকরনের বাইরে রাখতে পারি না?
বংগবন্ধু যে স্বাধীনতার স্থপতি,আইকন ছিলেন সে কথা কেন আমরা সবাই এক হয়ে স্বীকার করতে ইতস্তত করি?তিনি স্বাধীনতা না স্বায়ত্বশাসন চেয়েছিলেন সে প্রশ্ন তো এখানে অবান্তর।শহীদ জিয়া স্বাধীনতার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তাতেই যে কিংকর্তব্যবিমূঢ় জাতি দিশা পেয়েছিলো সে কথা কেন আমরা সবাই এক হয়ে স্বীকার করতে পারিনা?
আমাদের জাতীয় নেতারা কেউই ফেরেসতা কিংবা পয়গম্বর নয়--তাদেরো ভুলত্রুটি আছে,আমরা সেগুলোর সমালোচনাও করতে পারি,কিন্তু তাদের অবদান কেন আমরা পুরো জাতি এক হয়ে স্বীকার করিনা?রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে?হাহ!
মুক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের সহায়তা করেছিলো,এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিলো--তা যে উদ্দেশ্যই দিক--আমরা কেন কৃতংগতা জানাবো না,আমরা কি অনুদার?আবার অতি উৎসাহী হয়ে আমরা নিজেদের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে ভারতের পারপাস কেন সার্ভ করবো?আমরা কি কারো গোলাম?হাহ,রাজনৈতিক আনুগত্যের অন্ধত্বের ঠুলি পড়ে আমরা সত্য চাপা দেই!
`
একটা প্রশ্ন প্রায়ই মাথা্য় ঘুরে--ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার যদি মৌলবাদ হয় তবে স্বাধীনতার রাজনৈতিক ব্যবহার মৌলবাদ নয় কেন?
বাংলাদেশের মত homogeneous জাতির দেশ পৃথিবীতে কমই আছে।কত সুন্দর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এখানে!এ জাতি কোনকিছুতেই বিভক্ত নয়,কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে জাতিকে বিভক্ত করে গহযুদ্ধের মুখে ঠেলে দেয়া হয়!সেলুকাস,কি বিচিত্র!
স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে অনেক প্রত্যাশাই পূর্ণ হয়নি,আছে অনেক ব্যর্থতা।আয় বৈষম্য বেড়েছে,তরুন প্রজন্মের বৃহত্তর অংশের নৈতিকতা,মূল্যবোধ,দেশপ্রেম প্রশ্নসাপেক্ষ।তবে অর্জনও আছে অনেক।
জনসংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ,খাদ্য উৎপাদন তিনগুণ।অতিদারিদ্র্য কমেছে, MDG অর্জনে অনেক এহিয়েছে দেশ।২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রভাবশালী ৩০টি দেশের একটি হবে বাংলাদেশ।মনে হয় যা কিছু অর্জন সব পরিশ্রমী জনতার,যা কিছু ব্যর্থতা তা রাজনৈতিক কারণে।মালোয়েশিয়া তরতর করে কত উপরে উঠে গেছে সৎ ও যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বে!
তবুও স্বপ্ন দেখি-তরুণ সমাজ একদিন জেগে উঠবে।বিশাল জনগোষ্ঠীর এদেশ একদিন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দঁাড়াবে।জাতিকে আজ বিভক্ত করেছেন তাদের টখন কাঠগড়ায় দঁাড়াতে হবে।শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে উঠবে।ঐক্য,সঠিক নেতৃত্ব আর সঠিক পলিসিতে এগিয়ে যাবে দেশ।
প্রতীক্ষায় থাকি এক নতুন সূর্যোদয়ের,রেনেসঁার।
"তোমার ছেলে জাগলে গো মা রাত পোহাবে তবে"
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



