somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের গান

০৩ রা মে, ২০০৮ দুপুর ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Bangladesh, Bangladesh,
Bangladesh, Bangladesh,
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh ... ( ~ Joan Baez)



আমার অনলাইনে বসে কিছু না করার একটা বিশাল অংশ কাটে গুগলে বিভিন্ন সার্চের ফলাফল দেখে। অধিকাংশ সময়েই এই সার্চগুলো হয় অর্থহীন তবুও আমার বেশ লাগে। আচ্ছা সবকিছুই কি অর্থের অন্তর্গত হতে হয়? কে জানে! যাই হোক যে আর্টিকেল বা ইমেজগুলো আমার পছন্দ হয় তারা সেভ হয়ে যায় হার্ডডিস্কে। মজার ব্যাপার হল – আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার মাঝে একটা অদ্ভুত ধরনের ঘোর কাজ করে। তাই আমার পছন্দের সার্চকী গুলোর একটা হল “লিবারেশান ওয়ার অব বাংলাদেশ”। একি সাথে কি গৌরবময় কি বেদনাদায়ক সেই ইতিহাস। বিশালতার মাঝে কি ভয়াবহ শূন্যতা! তাই কখনই আমার কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে জমা হয়না সেই স্মৃতিগুলো, বুকের মাঝে একধরনের বোবা যন্ত্রণার মত তারা জমা হয়ে থাকে। আর এভাবেই একদিন Joan Baez এর সাথে পরিচয় আমার। তারপর একটু একটু করে জানা আর একসময় ভালবেসে ফেলা।



আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ক’জন বিদেশী শিল্পী- সাহিত্যিক আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন Joan ছিলেন তাদের অন্যতম। অথচ আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে তেমন করে কখনই উঠে আসেনি Joan এর নাম। আমাদের ইতিহাসে নারীযোদ্ধারা (আচ্ছা, যোদ্ধারা কি নারী বা পুরুষ হয়!) বরাবরই অবহেলিত আর তাই হয়ত তাদের মতই অনেকাংশে অনুচ্চারিত থেকে গেছে Joan এর নামও। (যে দেশে তার সবচেয়ে গৌরবময় ইতিহাস কে বিকৃত করা হয়, সে দেশের কাছে এতটা প্রত্যাশা করা বোধকরি আমারই ভুল! ) ১৯৭১ এর উত্তাল দিনগুলিতে আমাদের সেইসব লক্ষ লক্ষ যোদ্ধার মত Joan ও লড়ে ছিলেন – আমাদের জন্যে, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির জন্যে। পৃথিবীর কোন এক দূরপ্রান্ত থেকে তিনি অনুভব করেছিলেন আমাদের বেদনা, তাই তার সুরের অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ভিন্ন এক যুদ্ধে। আমি আজ সেই যোদ্ধার কথা বলব।


Joan - Joan Baez ; ষাটের দশকের অন্যতম বিখ্যাত এই সংগীতশিল্পীর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের Staten Island এ। তার বাবা Albert Baez ছিলেন সে সময়ের আলোচিত পদার্থবিদদের একজন। অথচ যখন Manhattan Project এ কাজ করার জন্য যখন তাকে অনুরোধ করা হয় তখন তিনি Los Almos ল্যাব এ পারমাণবিক বোমা তৈরীতে অস্বীকৃতি জানান। এমন কি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দেওয়া Defense Industry র লোভনীয় চাকুরীকে ও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। পিতার এই সিদ্ধান্ত ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল ছোট্ট Joan কে। এমন বিবেকবান পিতার সন্তান পরবর্তি সময়ে মানুষের কথা বলবে, মানবতার কথা বলবে তাই তো ছিল স্বাভাবিক। বাবার কাজের সুবাদে Joan এর শৈশব কেটেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ছোট- বড় শহরে; অনেকটা যাযাবরের মত ঘুরে ঘুরেই। শুধু তাই নয়, খুব অল্প বয়সেই তার দেখা হয়েছিল ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইতালীর মত দেশগুলো; পরিচিত হয়েছিলেন তাদের শিল্প- সাহিত্যের সাথে। কিন্তু তার জীবনে খুব বেশি প্রভাব ফেলেছিল মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ - ইরাক। ১৯৫১ এর কথা – তখন Joan ১০ বছরের এক কিশোরী। সেসময় বাগদাদের সাধারণ মানুষের দরিদ্রতা, তাদের মানবেতর জীবনযাপন, সেখানকার আর্থ- সামাজিক বৈষম্যকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তার। বিভিন্ন সময় তিনি তার লেখায় বলেছেন যে, বাগদাদের রাস্তায় সেই ভিখারীরদল, তাদের যন্ত্রণা আজও তার মাঝে তারই একটা অংশ হয়ে বেঁচে আছে।



১৯৫৭ সালের কথা। ১৬ বছর বয়সী Joan ৫০ ডলারের বিনিময়ে কিনেছিলেন তার প্রথম গিবসন গীটারটি। সেই বছরই প্রথমবারের মত একটি কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন তিনি। সেই যে পথচলা শুরু তারপর আর কখনই পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক অসাধারণ সব গান উপহার দিয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে Joan অমর হয়ে থাকবেন একটি মাত্র গান দিয়ে – “SONG OF BANGLADESH”।



১৯৭১ – যখন পৃথিবীর একপ্রান্তে আমরা আমাদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে লড়ছি তখন পৃথিবীর আরেকপ্রান্তে Joan তার খ্যাতি ও পরিচিতির শীর্ষে। অথচ ২৫ শে মার্চের সেই ভয়াল রাতের কথা শুনে তিনি নাম না জানা সেই দেশটির জন্যে এতটাই বিচলিত হয়ে পড়েন যে সাথে সাথে হাতে তুলে নেন তার গীটার আর রচিত হয় সেই অমর গান - “SONG OF BANGLADESH”। তার গানটিতে ২৫ শে মার্চের রাতে ভার্সিটির ছাত্রদের উপর পাক- আর্মিদের বর্বরতা থেকে শুরু করে এদেশের দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগ, রিফিউজি ক্যাম্পের গৃহহীন মানুষগুলোর হাহাকার সব কিছুই ফুটে উঠেছে অপূর্বভাবে। আর তার কণ্ঠ দিয়েছিল গানটিতে এক ভিন্নমাত্রা। মনে করা হয়, Joan এই গানটিতে ২২ বার পৃথক পৃথক ভাবে “বাংলাদেশ” শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন আমাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিতে; তার এই গান ছিল একটি দেশের জন্মের বার্তা। সে দিনের পর থেকে তিনি বিভিন্ন যুদ্ধবিরোধী সংস্থার সাথে মিলে আমাদের দেশের জন্যে বিভিন্ন কনসার্টের আয়োজন করা শুরু করেন। দেশ- বিদেশে গিয়ে জনমত তৈরী করতে থাকেন। পাক- হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত অধ্যায় তুলে ধরতে শুরু করেন বিশ্ববাসীর কাছে। তার এই সংগ্রাম তিনি চালিয়ে যান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শেষদিন পর্যন্ত। সব সৃষ্টির মাঝেই থাকে একটি সুতীব্র যন্ত্রণা। ভাবতে অবাক লাগে সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ের কোন এক বিদেশিনী কি গভীর আবেগেই না উপলব্ধি করেছিলেন আমাদের সেই যন্ত্রণা!



এই আমাদের Joan। এক চিরসবুজ সৈনিক – যিনি ৭১ এ লড়েছিলেন আমাদের জন্যে এবং আজও লড়ে যাচ্ছেন মানুষের জন্যে, মানবতার জন্যে। এই শিল্পীর যুদ্ধবিরোধী মনোভাব রীতিমত প্রশংসার দাবিদার। কতজনই বা তার মত বলতে পারে - "I do not believe in war... I do not believe in the weapons of war ... and I am not going to volunteer 60% of my year's income tax that goes to armaments..."



Joan Baez এর কথা লিখতে গিয়ে অভিজিত রায়ের লেখা থেকে কিছু লাইন তুলে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারছিনা – “Dear Readers, please think for a moment how many years we took to find Sitara, Taramon Bibi, and Ouderland birpratik among us and give award to them. Isn't it a high time to tribute Joan before it gets too late? Long live Joan Baez. Long live Freedom!” ~ Avijit Roy



জানিনা কেন জাতি হিসেবে আমরা সব কিছুই বড্ড দেরীতে শিখি, সব কিছুই বড্ড দেরীতে বুঝি আবার সেই বোধটুকুও হারিয়ে ফেলি বড্ড তাড়াতাড়ি। জানিনা কবে জাতি হিসেবে আমরা আরো একটু বেশি কৃতজ্ঞ, আরো একটু বেশি বিবেকবান হব; কবে যে জাতি হিসেবে আমরা আরও একটু বেশি নির্লজ্জ হব জানিনা। জানিনা কবে আমরা আমাদের সব লজ্জা একপাশে সরিয়ে সেইসব মানুষগুলোকে অবলীলায় কাছে টেনে নিতে পারব যে মানুষগুলো আমাদের সবচেয়ে দুঃসময়ে পরম মমতায় আমাদের আগলে ধরে বলেছিলেন – “আমরা আছি।”



SONG OF BANGLADESH
- Joan Baez.

Bangladesh, Bangladesh,
Bangladesh, Bangladesh,
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh

The story of Bangladesh
Is an ancient one again made fresh
By blind men who carry out commands
Which flow out of the laws upon which nation stands
Which is to sacrifice a people for a land

Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh

Once again we stand aside
And watch the families crucified
See a teenage mother's vacant eyes
As she watches her feeble baby try
To fight the monsoon rains and the cholera flies

And the students at the university
Asleep at night quite peacefully
The soldiers came and shot them in their beds
And terror took the dorm awakening shrieks of dread
And silent frozen forms and pillows drenched in red

Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh

Did you read about the army officer's plea
For donor's blood? It was given willingly
By boys who took the needles in their veins
And from their bodies every drop of blood was drained
No time to comprehend and there was little pain

And so the story of Bangladesh
Is an ancient one again made fresh
By all who carry out commands
Which flow out of the laws upon which nations stand
Which say to sacrifice a people for a land

Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh


২২/ ০৫/ ২০০৭, ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০০৮ দুপুর ১:০৪
২৩টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নদী ও নৌকা - ১৫

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৩ শে মে, ২০২২ দুপুর ১২:২৫


ছবি তোলার স্থান : কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, কক্সবাজার, বাংলাদেশ।
ছবি তোলার তারিখ : ০১/১০/২০২০ ইং

নদী, নদ, নদনদী, তটিনী, তরঙ্গিনী, প্রবাহিনী, শৈবালিনী, স্রোতস্বতী, স্রোতস্বিনী, গাঙ, স্বরিৎ, নির্ঝরিনী, কল্লোলিনী, গিরি নিঃস্রাব, মন্দাকিনী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেইদিনের কথা (ছেলেবেলার পোংটামি)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৩ শে মে, ২০২২ রাত ৮:১১

শেকল
এলাকার এক ভাবীর সাথে দেখা। জিগ্যেস করলেন, বিয়েশাদি করা লাগবে কি না। বয়স তো কম হলো না।
একটু চিন্তা করে বললাম, সত্যিই তো। আপাতত একটা করা দরকার।
তো এই ভাবী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে কেমন পোশাক পড়বে মোল্লাদের জিজ্ঞেস করতে হবে ?

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৩ শে মে, ২০২২ রাত ৮:৫২




কয়েকদিন আগে আমরা পত্রিকায় পড়েছি পোশাকের কারণে পোশাকের কারণে হেনস্থা ও মারধরের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। চিন্তা করতে পারেন!! এদেশের মোল্লাতন্ত্র কতটুকু ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে? কোরানে একটা আয়াতও কি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন এত জ্বলে !!

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ২৩ শে মে, ২০২২ রাত ৯:১৮


কেন এত জ্বলে !!
© নূর মোহাম্মদ নূরু
(মজা দেই, মজা লই)

সত্য কথা তিক্ত অতি গুণী জনে বলে,
সত্য কথা কইলে মানুষ কেনো এত জ্বলে?
তাঁদের সাথে পারোনা তাই আমার সাথে লাগো,
সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাহা দেখি, তাহাও ভুল দেখি!

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৪ শে মে, ২০২২ সকাল ১১:২৫



আমার চোখের সমস্যা বেড়ে গেলে, আমি অনেক কিছুকে ডবল ডবল দেখি; ইহা নিয়ে বেশ সমস্যা হয়েছে সময় সময়, এটি ১টি সমস্যার কাহিনী; বেশ আগের ঘটনা।

আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×