"এই উঠনা! বেলাতো অনেক হয়েছে।তোমার
কি আর কোন কাজ নেই নাকি? রোজ রোজ
এত দেরি করে কেও ঘুম থেকে উঠে?"
এই বলে জানালার পর্দা গুলো খুলে দিয়ে
হন হন করে রান্না ঘরের দিকে চলে গেলো
মৃধুল।
জানলার পর্দা গুলো খুলে দেওয়াই বাহির
থেকে সূর্যের স্নিগ্ধ আলো এসে পরলো
সোজা আমার চোখে। ফোটা ফোটা বৃষ্টিও
পরছে। সেদিকে এক পলক দেখে আবার
ঘুমিয়ে পরলাম। একটু পর মৃধুল রেগেমেগে
এসে আমার গালে মেরে দিল সদ্ধ ফ্রিজ
থেকে আনা এক গ্লাস ঠান্ডা পানি। মনে
মনে বলতে লাগলাম
"খোদা... আমার কপালে কেন যে এমন একটা
ডাইনি বউ দিলা। একটু শান্তিতে ঘুমাইতেও
দেইনা।" যদিও মন থেকে বলিনি।
এবার সে কিছুটা অভিমান হয়ে গাল ফুলিয়ে
বলল "এই তুমি উঠবেনা তো? আমি কিন্তু
এবার সত্যি সত্যিই বাপের বাড়ি চলে যাব
বলে দিলাম। এমন অলস স্বামী আমার
দরকার নেই হুম।"
এই বলে সে অভিমানে গাল ফুলিয়ে আমার
পাশে বসে রইল। আমিও আর শুয়ে থাকতে
পারলামনা। কারণ এবার যে পাগলিটার
অভিমান ভাঙ্গাতে হবে। বিছানা থেকে
কিছুটা উঠে তার বাম হাতে একটান দিয়ে
তাকে আমার বুকের বাম পাঁজরে শক্ত করে
জরিয়ে নিয়ে শুয়ে পড়ি।
"আমার লক্ষি বউটা এত রাগ করে কেন? নতুন
বিয়ে করেছি, নতুন সংসার। তাই অফিস
থেকে মাত্র ৭দিনের ছুটি নিয়েছি। তার
আজকেই শেষদিন। তাই আজ একটু বেশি করে
ঘুমিয়ে নিচ্ছি আরকি। তাই বলে এত
অভিমান করতে হয় জান...?"
সে তার অভিমানের মাত্রা আরেকটু
বাড়িয়ে দিয়ে বলল "হয়েছে... হয়েছে... আর
অজুহাত দেখাতে হবেনা। ছাড়ো আমায়।
আমার অনেক কাজ আছে।"
আমি তাকে আরেকটু শক্ত করে জরিয়ে ধরে
"নাহ! ছাড়বনা। এই চলনা আজ দুজনে
বৃষ্টিতে ভিজি। একটু বৃষ্টি বিলাশ করি।
ভেজা শরিরের খোলা চুলে তোমায় কেমন
লাগে আজ একটু দেখব। তোমার অধর চুয়ে একটু
তোমায় আদর করব। চলনা..." এই বলে আমার
শুকনো ঠোট জোড়া দিয়ে তার উষ্ণ ঠোট
জোড়া চুয়ে দিলাম।
"হুম্ম, শখ কত" বলে এক ভোঁ দৌর দেই সে।
আমিও তার পিছু পিছু ছুটতে থাকি।
তাকে কোলে নিয়ে আমি বাগানের দিকে
এগুতে থাকি। ততক্ষনে বাইরে শুরু
হয়েগেলো ঝুম বৃষ্টি। তবে এই ঝুম বৃষ্টিতে
বাগানটা আজ অন্য রকম সুন্দর দেখাচ্ছে।
বাগানে চারদিকে সারি সারি নানান
রঙের নাম নাজানা ভিন্ন ভিন্ন ফুল। যেন
রংধনু আমার চারপাশ গিরে রেখেছে। শুধু
বাগান নই, আজ সব কিছুই আমার কাছে অন্য
রকম সুন্দর লাগছে। মুগ্ধকর পরিবেশ
চারদিকে। এ যেন শর্গ।
আমি আর মৃধুল মেতে উঠেছি বৃষ্টি
বিলাশে। বাগানের চারপাশে ছুটছে মৃধুল।
আমিও ছুটছি তার পিছু পিছু। ধরেই তার
ললাটে একেঁ দিলাম একটি চুম্বন। জরিয়ে
নিলাম আমার বাহুডোরে। হঠাৎ একটি
বজ্রপাত। ভয়ে কেপে উঠলো সে। ভয়ে ভিত
হয়ে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরলো সে
আমায় তার বাহুডোরে।
"আব্বু... এই আব্বু! শুনছো?" হঠাৎ হৃদিকার
ডাকে চমকে উঠলাম। ফিরে আসলাম ভাবনা
থেকে। হৃদিকা হল আমার একমাত্র মেয়ে।
হৃদিকার জন্মের সময় ডেলিবারিতে মারা
যায় মৃধুল। এর মাঝেই কিভাবে যেন ৭টা বছর
কেটে গেলো। মেয়েটা একদম তার মায়ের
মতই হয়েছে। যদিও তার মা'কে সে কখনো
দেখেনি। খুব আদর যত্নে বড় করার চেষ্টা
করছি মেয়েটাকে। তাকে এই ৭টা বছর এই
বুকের মাঝেই আঙ্গলে রেখেছি। চেষ্টা করব
বাকি জীবনটাও যেন রাখতে পাড়ি। কখনো
তার মায়ের শূন্যতা বুঝতে দেইনি তাকে।
যদিও রাতের অন্ধকারে আকাশের দিকে
তাকিয়ে মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে "আব্বু,
আকাশের কোন তারাটা আমার আম্মু?"
কিন্তু নাহ! আমার মাঝে কোন দুঃখ নেই।
কারণ আমার মেয়ের মাঝেই যে আমার
মৃধুলকে আমি দেখতে পায়। এসব ভাবতে
ভাবতে মনের অজান্তেই কখন যেন চোখের
দু'কোণে দু'ফোটা অশ্রুকণা এসে জুড়ে বসল।
"আচ্ছা আব্বু, সেই কখন থেকে মায়ের ছবির
দিকে তাকিয়ে তুমি কী ভাবছো?"
"কিছুনারে মা" বলেই আমার বুকে শক্ত করে
জরিয়ে দরলাম আমার কলিজার টুকরো
মেয়েকে। আর নিরবে আরো দু'ফোটা অশ্রু
বিসর্জন দিলাম।
আজ হৃদিকার ৭তম জন্মদিন। সাজানো
হয়েছে সম্পুর্ন বাড়ি। সে বাগানটিও
সাজানো হয়েছে। আলোয় আলোয়
আলোকিত হয়ে উঠেছে চারদিক। সন্ধা ৭টা।
ক্যাক কাটা হচ্ছে হৃদিকার জন্মদিনের।
একেরপর এক সবাইকে খাওয়ানো হচ্ছে।
স্পিকারে গান বাঝানো হয়েছে। হৃদিকাও
খুব মজা করছে তার ছোট্ট ছোট্ট বন্ধুদের
নিয়ে। সে হয়ত জানেনা আজ তার মায়েরও
৭তম মৃত্যু বার্ষিকী। কখনো হয়ত সে
জানবেও না। আমিই কখনো তাকে জানতে
দেবনা। কারণ সে যে খুব কষ্ট পাবে
জানলে। হয়ত সে জানার পর এভাবে হাসি
খুসিতে কখনোই থাকবেনা। কখনোই উৎযাপন
করবেনা তার জন্মদিন। হয়ত সে ভাববে
মায়ের মৃত্যু বার্ষিকীতে কি আর জন্মদিন
পালন করা যায়? তাই তাকে কখনো জানতে
দেবনা। আজকের দিনটাই তার মা মারা
গিয়েছিল তাকে জন্মদিতে গিয়ে। আজ
তার মায়েরও মৃত্যুবার্ষিকী। কখনোই
জানতে দেবনা তাকে। কারণ, আমি চাই সে
সুখে থাক। হাসি খুসি থাক।
কিছু অজানার কারণে যদি একটি সুন্দর
প্রান, একটি নিষ্পাপ শিশু সুখে থাকে।
হাসি খুশি থাকে। তবে থাকনা! কিছু
অজানা।
গল্প::: থাকনা! কিছু অজানা।
লেখক___ মোঃ এ এইচ বিপুল।
লেখা: ১৬-০৮-২০১৫
______৬.১৫pm
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


