somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

¤¤ছুঁচো সমাচার¤¤

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘরে ছুঁচোর উপদ্রব ঘটেছে ইদানিং । রান্নাঘরে প্রতি রাতে লঙ্কাকাণ্ড চলে । গিন্নির বলতে গেলে এখন একটাই মিশন, ছুঁচোটাকে ঘর থেকে বের করা, নয়ত মেরে ফেলা । এই বুড়ো বয়সে বেচারী ছুঁচো নিয়ে ছেলেমানুষের মতো হৈচৈ করছে । ছেলের বৌও আত্মনিয়োগ করেছে এই মিশনে । নাতনীর কাছে দীদার এই ছেলেমানুষী একটা বিনোদন হয়ে দেখা দিয়েছে ।

আজও ছুঁচো ধরা নিয়ে শাশুড়ি পুতের বৌ মিলে বেশ কসরত করে ব্যর্থ হয়েছে । নাতনীর আবদার, ছুঁচোটাকে মেরে ফেলা হোক, কারণ সে এখনও ছুঁচো দেখেনি । ইঁদুর আর ছুঁচো যে আলাদা কেন— এটা সে বুঝে দেখতে চায় ।

ইঁদুরের ছবি সে বইতে দেখেছে । ছুঁচো দেখেনি । ওদের রাইমসের বইতে ছুঁচো নিয়ে একটি কবিতা আছে । নাম The Moles! সেটা নাকি আবার মাটি খুঁড়তে পারে ! এ নিয়ে তার কৌতূহলের শেষ নেই !

আজ আমার কাজ হচ্ছে তাকে ছুঁচো সম্পর্কে বোঝানো । ও এসে আমাদের মাঝখানের জায়গাটা দখল করেছে । গল্প শোনাতে হবে ।

বললাম, "দাদুভাই, গণেশের বাহন কী জানো তো ?"

—"জানি, ইঁদুর । কার্টুনে দেখেছি ।" নাতনীর চটপটে উত্তর ।

—"বেশ । ইঁদুরের ভালো নাম হল মূষিক । তো মূষিক গণেশের বাহন হওয়াতে দূর্গাকে সেও মা বলে ডাকত । কার্তিক গণেশের মতোই দূর্গার প্রতি তার ভক্তি ছিল প্রগাঢ় ।"

—"তারপর ?"

—"তারপর মূষিক বিয়ে করল । তার প্রথম যে সন্তান হল, সেই সন্তানকে এনে সমর্পণ করল দূর্গার পায়ে । দূর্গা ফুটফুটে সেই মূষিক শাবককে আশীর্বাদ দিলেন । এবং বললেন, এ হবে আমার একনিষ্ঠ ভক্ত ।"

—"হুম । তারপর কী হল ?"

—"তারপর সে মূষিক শাবক বড়ো হল, দূর্গার আশীর্বাদে তার গায়ের রং ধবধবে ফর্সা । গায়ে তার বেজায় সুঘ্রাণ । যে পথ দিয়ে সে যেত, সে পথ ঘ্রাণে ভরে যেত । বড়োই একনিষ্ঠ উপাসক সে দূর্গার । সৌন্দর্যের কারণে তাকে ডাকা হত ধলা মূষিক । ধলা মূষিকের দিন রাত একটাই কাজ, দূর্গার উপাসনা ।

ধলা মূষিকের অন্যান্য ভাইয়েরাও তাকে খুব মান্য করত । এবং উপাসনা ছাড়া আর কোন কাজ তাকে ওরা করতেও দিত না ।"

—"তো হলোটা কী ?"

—"তো কী হলো শোন, একদিন ধলা মূষিক ঘুম থেকে উঠতে দেরি করে ফেলল । প্রভাতের উপাসনা করা হল না আর । মূষিক তো খুবই লজ্জিত হল, আর ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে দূর্গার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাইল । দূর্গা হাসিমুখে ক্ষমা করে দিলেন ।
এই ক্ষমা পেয়ে ধলা মূষিকের সাহস বেড়ে গেল । সে বিলাসিতা ধরল, প্রায়ই পূজো কামাই যেত । এবং এক পর্যায়ে সে পূজো অর্চনা একদম ছেড়ে দিল ।
তখন তো টনক নড়ল সবার ! দূর্গা রুষ্ট হয়ে তাকে শাপ দিলেন । তার গায়ের রং সাদা হতে কুৎসিত ধূসর হয়ে গেল । গায়ের সুগন্ধ দুর্গন্ধে পরিণত হল । সেই হতে সে হল ছুঁচো ।
ছুঁচো সেই হতে লজ্জায় গা ঢাকা দিল । নিজের কদর্যতা নিয়ে মানুষের সামনে সে আর আসে না । রাতের বেলা সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন সে অন্ধকারে বের হয় খাবার চুরি করতে । আর যদি কখনও কারো সামনে পড়ে যায় তখন সে লজ্জায় নিজেকে ছিঃ ছিঃ করে ধিক্কার দিতে দিতে পালিয়ে যায় । ছুঁচোর নাক লম্বা বলে এই ছিঃ ছিঃ আমাদের কাছে চিঁ চিঁ শোনায় । এজন্য একে আমরা তাচ্ছিল্য করে চিকা ডাকি ।"

—"তাই তো ! আমিও তো ছুঁচোকে চিঁ চিঁ করতে শুনেছি দাদু ! বেচারার তাহলে অনেক লজ্জা, তাই না দাদু ?"

—"হাঁ, সে তো বটেই ।"

—"তাহলে দীদা, ও দীদা, (দাদিকে ঠেলা দিয়ে বলছে এবার) দীদা শুনেছ, ছুঁচোর কিন্তু অনেক কষ্ট । ওকে আর মারতে পারবে না । বুঝেছ ? আর কখ্খোনো ছুঁচোদের মারা চলবে না বলে দিচ্ছি ! বলো, আর মারবে না, বলো ?"

গিন্নি এবার আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে আছে । ঝামেলা যে এই দিক দিয়ে হবে তা তো বুঝিনি !
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×