somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সুদর্শন নায়ক

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সুদর্শন নায়ক কে?

এই প্রশ্নের উত্তরে সবার আগেই একদম সবার মনে যে উত্তরটি প্রথম উঁকি দেবে, সে নামটি সালমান শাহ এর।

ফিল্ম নিয়ে বেশ ঘাটেন, এমন কেউ হলে মাথা নাড়িয়ে বলবেন, তিনি জাফর ইকবাল।
কথা সত্য। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সুদর্শন নায়কের তুলনা দিতে গেলে অভিনয় গুরুগণ জাফর ইকবালের নামটিকেই স্মরণ করেন। সাম্প্রতিক নায়ক ইমন কেবল তাঁর চেহারার সঙ্গে জাফর ইকবালের চেহারার মিলের কারণেই অনেক চমকপ্রদ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। জাফর ইকবালের মত সুদর্শন নায়কের তুলনা এখনও মেলে না।

তবে আমার মন্তব্য ব্যতিক্রম। বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকালের সর্বাপেক্ষা সুদর্শন নায়ক হলেন বুলবুল আহমেদ। এটা আমার কেবল আবেগের কথা নয়। অতখানি সুদর্শন মুখশ্রীর কোন নায়ক আমি এ উপমহাদেশে কেন জানি মেলাতে পারিনি আর।

একজন নায়ক অবশ্য কেবল মুখের সৌন্দর্যে বিবেচিত হতে পারে না। সেক্ষেত্রে অভিনয় মাত্রার হিসেব করলেও বুলবুল আহমেদের ধারে কাছে আমি অন্যান্য সুদর্শন কোন নায়ককে পাইনি। যথেষ্ট প্রতিভাবান নায়ক জাফর ইকবাল ছিলেন কমার্শিয়াল আর্টিস্ট। আর্টিস্টিক আর্টিস্ট (শব্দটা কেবল আমিই ব্যবহার করি) ছিলেন বুলবুল আহমেদ। দেবদাস প্রথম চলচ্চিত্রাকারে মুক্তি পায় ভারত থেকে ১৯৫৫ সালে। এর অনেক পরে বাংলাদেশ থেকে বুলবুল আহমেদ দেবদাস করেন। দিলীপ কুমারের চেয়ে বুলবুল আহমেদ সেখানে এত সফলভাবে আধিপত্য করেছেন, যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। উত্তম কুমারের জয়জয়কারে বুলবুল আহমেদ হয়ত তখন অতটা আলো পাননি। কিন্তু শ্রীকান্ত রাজলক্ষ্মী নামক যে একটা মুভ্যি বুলবুল করেছেন, সেটাকে আমি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের তালিকার উপরের দিকের একটি মুভ্যি হিসেবে বিবেচনা করি। এই মুভ্যির মত মুভ্যি বাংলাদেশে একটিই হয়েছে, কেবল ওই একটিই! অদ্ভুত বিষয় হল, শ্রীকান্ত রাজলক্ষ্মী, আমার জানামতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়নি।

আমি যদি বাংলা চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ মুভ্যির তালিকা করতে বসি তবে অবশ্যই প্রথম মুভ্যিটি দাঁড়াবে শ্রীকান্ত রাজলক্ষ্মী।
দ্বিতীয় মুভ্যিটি কী হবে কেউ অনুমান করতে পারেন?

দ্বিতীয় মুভ্যিটি অবশ্যই মহানায়ক!
মহানায়কের তুলনা অমিতাভ বচ্চনের "ডন" মুভ্যিটির সঙ্গে সমান প্রতিযোগিতা করার যোগ্যতা তখনও রেখেছে, এখনও রাখে! এবং এটা বললে মোটেও অত্যুক্তি হবে না যে, ডন এর চেয়ে মহানায়কের কাহিনী বৈচিত্র্য আর অভিনয় পারদর্শিতা হাজারগুণে এগিয়ে। সেই ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের মত ছোট্ট একটি দেশ অমিতাভের ডনকে টক্কর দিতে চার চারটি দেশের অভিনয় কুশলী আর বিশেষ করে বিদেশি সব চোখ ধাঁধানো রূপসী নায়িকা নিয়ে একটি বিস্তৃত মানের মুভ্যি করেছে ভাবলেই বুকটা ফুলে ওঠে! তাছাড়া, তখনকার বুলবুল আহমেদ অঙ্গভঙ্গী এবং ড্রেসআপে যে আধুনিকতা দেখিয়েছেন, এখনকার নয়করাও ততটা আধুনিক হতে পারেনি, আরো কত বছরে পারবে অনুমান নেই কোন। এখানেও আবারও সেই একই অদ্ভুত বিষয়, মহানায়কও জাতীয় পুরস্কার পায়নি।
কেন পায়নি আমি ভেবে পাই না, কিংবা হয়ত তখনকার সবটা খবর আমার স্মৃতিতে রক্ষিত নেই।

(নোট:- বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দশটি বইয়ের তালিকা করা হয়েছিল ২০০৭এ। প্রথম বইটি ছিল টলস্টয়ের আন্না কারেনিনা। দ্বিতীয় বইটি কার মনে নেই। কিন্তু মজার এই ব্যাপারটা মনে আছে যে, তৃতীয় বইটাও টলস্টয়ের এবং চতুর্থ বইটাও টলস্টয়ের।)

যাইহোক, তৃপ্তির ব্যাপার হল, বুলবুল আহমেদ প্রায় পরপর চারবারই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছন।

কয়েকটা দিন ধরে আমার কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে একটি গানে, মহানায়ক ছবিরই গান; আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়, কিংবা, হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে- এ দুটির কোনটিই নয়, গানটি হচ্ছে, তুমি চাওপিয়া নদী হয়ে, যাও বয়ে, আমার মনের তীর ছুঁয়ে ছুঁয়ে...
আপনার নিশ্চিতভাবেই এই গানটি মিস করেছেন। আমি ভেবেছিলাম, গানটি রুনা লায়লার, কিন্তু আজ ভুল ভাঙল, গানটি আসলে হৈমন্তী শুক্লার! পান খাওয়া শ্রদ্ধাতুল্যা হৈমন্তী যে ওই সময়ে যুবতী ছিলেন, মনেই ছিল না :-)

গানটি আপনারা শুনে দেখতে পারেন, সৌন্দর্যের ব্যাপারটাই এই যে একা উপভোগ করে মজা নেই, আরো কয়েকজনের মাঝে সেই মজাটা ছড়িয়ে দিতে পারলেই তৃপ্তি অধিক পূর্ণতা পায়।

আরেকটা জিনিস ভাল হল, লিখব লিখব করে শেষমেষ শুরু করতে পারলাম। এবার সময় এসেছে বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে গভীর কিছু লেখার।

অপেক্ষা করুন...
শুভরাত্রি!

পুনশ্চঃ-
আরেকটি সংযুক্তি দিয়ে যাই।
বাংলা সিনেমার সুদর্শন নায়কের তালিকা করলে সেটি হবে-
বুলবুল আহমেদ
জাফর ইকবাল
সালমান শাহ
মাহমুদ কলি
এবং অবশ্যই শাকিব খান।

শাকিব খান অবশ্যই একজন ভাল মানের অভিনেতা। সমস্যা হল, তিনি খারাপ একটি যুগে জন্মেছেন, যে যুগে ভাল সংলাপ নেই, ভাল কাহিনী নেই, ভাল মননশীলতা নেই। আর হ্যাঁ, শাকিব খানের অহঙ্কারটা নিন্দনীয়।

সংযুক্তি ২-
শ্রেষ্ঠ মুভ্যির তালিকায় তৃতীয় মুভ্যিটি হচ্ছে "ভাত দে!"
শ্রেষ্ঠ মুভ্যির তালিকা নিয়ে যখন লিখব তখন এসব নাড়ী নক্ষত্র তুলে ধরব।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:০২
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×