আমার যে এক মস্তিষ্ক আছে,
আমার প্রেয়সী জানে না সে কথা,
আমার জৈবিকতা জানে শুধু।
জানে সে, কখন খেয়েছি, খেয়েছি কি না!
অসুখ করেছে কি না, শরীর এখন কেমন!
এ সবই তার নখদর্পণে।
সে আমাকে আগলে রাখে খুব!
কিস্তু ওই যে মস্তিষ্ক আমার,
সেখানে কী চলে, আমার মন কী বলে
কোন আলোতে ভাসে, হাসে কোন ফুলে,
তার সে কিছুই জানে না!
আমার সুখে, দুঃখে, বিপদে, অসহায়ত্বে
সে-ই আগলে আছে, আমার শয্যার সঙ্গী সে,
কিন্তু আমার অন্তরের যে ধর্ম, তার সহধর্মিণী হয়েছে কি সে?
আমার হৃদয় কখন কাঁদে,
কোন মহাবিশ্বের বিশালতা নিয়ে আমি আকুল হই,
কোন পরদেশের জাতিতত্ত্ব, কোথায় মানবিক হাহাকার,
কোন দম্পতির ব্যালকনির ছবি আমার মন এঁকে যায়,
কোন আপিসের পেশাদার কেরাণীর দ্বন্দ্ব,
মুটেদের সংলাপ, পতিতার ভর্ৎসনা,
পরকীয়ার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান,
এই যে মানব জীবন,
এর যত শত শত রূপ আমি আমার মগজে আঁকি,
তার কি কিছুই সে টের পায়?
এত কাছে থেকেও, এত অনুভবেও
ভেতরের যে আমিটা, সাধারণ আর দশটা স্বামীর চেয়ে
আলাদা, আর দশটা মানুষের
স্বাভাবিক চিন্তার চেয়ে ব্যতিক্রম কিছু,
এর কিছুই কি সে জানে?
অথচ শাস্ত্রমতে সে আমার সহধর্মিনী!
একই অভিযোগ বিপরীতভাবে আমার গিন্নীরও!
কোথায় শাস্ত্র, কোথায় ধর্ম, আর
এই কেমন বিচ্ছিন্ন আমাদের বসবাস!
নামটার মোড়কে শুধু নাগরিক পরিচয়ে
জৈবিক সহ- বাস!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


