ওকে, এবার ভোট জালিয়াতি নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ বলি। জাল ভোটের ক্ষেত্রে দুইভাবে এর ইঞ্জিনিয়ারিং হতে পারে। প্রথমত, ওই এলাকার মৃত ভোটারদের তালিকা নিয়ে ভোটার সিরিয়াল বের করে ভোট দেওয়ানো। দ্বিতীয়ত, কে কে ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে আছে বা খুব একটা পরিচিত মুখ নয় - এদের ভোটার সিরিয়াল টার্গেট করা!
গ্রামের ক্ষেত্রে সাধারণত সবাই সবার মুখ চেনে, বাট পোলিং অফিসার চেনে না। ফলে তাকে বোকা বানানো যায়! শহরে বিষয়টা আরো একিউট, শহরে ভাড়াটিয়া বাসিন্দাদের এলাকার সবাই চিনবে না এটাই স্বাভাবিক, এবং ভাড়াটিয়া ভোটার অস্থায়ী হবার কারণে কে কে ভোট দিতে আসতে পারে, কে পারে না সেটাও হিসাব করা যায়।
এখন এগুলোর চেয়েও বড় সমস্যাটা বলি, আপনি পোলিং অফিসারের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন, তিনি কীভাবে শিওর হবেন, আপনিই ভোটার?? আপনি আপনার কলিগের এনআইডি কার্ড দেখে থাকবেন, ভেরিফাই করার উপায় কী? এনআইডি নম্বর, নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম এবং জন্মতারিখ! এই পাঁচটি বিষয় মুখস্ত করা বা মনে রাখা কি আদৌ কঠিন?? পোলিং অফিসার জিজ্ঞেস করবেন, বাবার নাম কী, মায়ের নাম কী? যখন জিজ্ঞেস করছেন, তখন আমি নিজেও তো তার লিস্টে আমার বাবা মায়ের নাম দেখতে পারছি, আমার জায়গায় যেকেউই অফিসারের লিস্ট দেখেই আমার বাবা মায়ের নাম বলে ভেরিফাই করতে পারবে যে, তিনিই আমি! তাহলে ভেরিফাই হবেটা কীভাবে?
মিটিমিটি হাসছেন??
মূল ঝামেলাই তো বলিনি! মূল ঝামেলা আপনার ছবিতেই। ২০০৭ সালে যে ব্যক্তি স্মার্ট আইডির জন্য ছবি তুলেছিল, বিশ বছর পর তার সেই চিমসানো মুখ এখন ভরাট হতে পারে, কিংবা ভরাট মুখ চিমসে যেতে পারে, কচিমুখটায় এখন দাড়িভর্তি হতে পারে! বিশ বছর আগের ছবি দিয়ে ভেরিফাই করা লাগবেই বা কেন??? আমার বিশ বছর আগের সাদাকালো এক ইঞ্চি প্রিন্টেড ছবি দিয়ে এটা যাচাই করা কতটা নির্ভুল হবে যদি আমার জায়গায় আপনি দাঁড়ান??
ভোটকেন্দ্র দখল, বান্ডিল ধরে ব্যালট জমা দান, এবং অন্যান্য ক্রিমিনাল এপ্রোচের প্রসঙ্গে এখন গেলাম না। আমি টেকনিক্যাল বিষয়গুলো তুললাম। আপনি যে গিয়ে দেখলেন আপনার ভোট আরেকজনের দেওয়া শেষ, আপনি যে আপনিই ছিলেন, সেটা ভ্যারিফাই করার প্রোসেসেই তো ঘাপলা। নাম পরিচয় জন্মতারিখ— এগুলো কী এমন সিক্রেট বিষয় যা কেবল ওই ভোটার ছাড়া আর কারো জানার উপায় নেই?
সমাধান কী?
সমাধান কঠিন না। ইভিএম এসেছিল, তাতে সমস্যা ছিল দুইটা, রেজাল্ট ম্যানিপুলেট করার আশঙ্কা থাকে, অপরদিকে ফিঙ্গার প্রায়ই ডিটেক্ট করতে পারে না। আমার মনে হয় তেরো কোটি ভোটানের মধ্যে একজনও এমন নেই যার বিকাশ বা নগদ একাউন্ট নেই। বিকাশ নগদ দিয়ে ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে মানুষ লাখ লাখ টাকা সেইফলিই ট্রানজেক্ট করতে পারছে, তাহলে ভোটটা কেন নয়? এমন একটা এ্যাপ দিয়ে ওটিপি সিস্টেম করে, ফেইস স্ক্যান করে ভোট দেওয়ানো যেতে পারে। ওকে সবার স্মার্ট ফোন নেই, ফোন নম্বর তো আছে, ফোনের ওটিপি দিয়ে পোলিং এজেন্টকে ভেরিফিকেশন দেয়া সম্ভব না? কয়টা ওটিপি মিস হয় আমাদের, এক পান্সেন্টেরও কম। তো এটা একটা ব্যবস্থা হতে পারত। সদিচ্ছা থাকলে ডিজিটালিও ভোট দেওয়ার সিস্টেম প্রবর্তন করা সম্ভব। না যাই সেদিকে, সর্বশেষ কথা হল, এদেশের মুচিও ফেইসবুকে প্রোফাইল ফটো সেট করতে জানে, সেখানে এনআইডি কার্ডের ছবি সংশোধন করার কোন সিস্টেম কেন রাখা হচ্ছে না এ এক অপ্রয়োজনীয় বিড়ম্বনা! রেটিনা স্ক্যান করেই নাহয় নতুন করে ছবি আপলোড দিন, বাট বিশ বছর আগের ছবিই এখনও কেন ব্যবহার করতে হবে? এবং আপাতদৃষ্টিতে সহজ সমাধান হল ওটিপি ভেরিফাই করে তারপর ব্যালট দেওয়া। এখানেও একটা বিদঘুটে সমস্যা করে রেখেছে বাংলাদেশ, তা হল, সিম বাজেয়াপ্তকরন! আমার এনআইডি কার্ডের তথ্যে যে সিম ছিল, তা অনেক আগেই বাজেয়াপ্ত হয়ে গেছে কোন নোটিফিকেশন ছাড়াই! এনআইডি কার্ডের ভেরিফিকেশনে সিম ওটিপির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা যেতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



