somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোধুলীর আলেয়া

১৬ ই আগস্ট, ২০১৩ বিকাল ৫:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
- এই যে শুনছো? কোথায় তুমি?
- এই তো সোনা আমি চলে এসেছি। আর ২ টা মিনিট ওয়েট করো প্লিজ!
- ঠিক আছে। আর মাত্র ২ মিনিট। এর মধ্যে না আসলে আমি চলে যাবো কিন্তু।
- ওকে বাবা ওকে। আসছি।

ঠিক ১৫ মিনিট পর হাঁপাতে হাঁপাতে আসলো আবীর। ঘেমেনেয়ে একাকার হয়ে গেছে। এসেই সবার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তিথীর জন্য আনা গোলাপ ফুলটা সেই পুরানো স্টাইলে বাড়িয়ে দিল তার দিকে। তিথীর মন ভালো হয়ে গেলেও আবীরের উপর কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে বললো, "এতক্ষণ কেন লাগলো তোমার?"
আবীর মুখ ভেংচিয়ে বললো, "কেন আবার? তোমার জন্য গোলাপ খুঁজতে খুঁজতে!"

তিথী আর আবীর, দুইজন দুইজনকে খুব ভালোবাসে। তিথী নামকরা এক ভার্সিটিতে অধ্যয়নরত। আবীরও একই ভার্সিটিতে, তবে এক বছর উপরে। ভার্সিটিতে এমন কোন মানুষ নাই যে তাদের এই জুটি দেখে মনে মনে একবার হলেও বলেনাই যে, তাদের জুটিটা খুব সুন্দর। লেখাপড়ার দিক দিয়ে কেউ কাউকে ফেলবার পাত্র নয়। ২ জনই মারাত্মক ব্রিলিয়ান্ট। ভালবাসা কি জিনিস তা ওদের দেখেই বোঝা যায়।

২.
আজ আবীর লন্ডন যাচ্ছে সাত বছরের জন্য। ভার্সিটি থেকে স্কলারশীপ নিয়ে সাত বছরের জন্য যেতে হচ্ছে। আবীরকে এয়ারপোর্টে বিদায় জানাতে এসেছে তিথি। দুজনেই কাঁদছে। একজন একজনের সাথে প্রতিদিনে একবার হলেও দেখা করতো। সেই জায়্গায় আজ সাত বছরের জন্য চলে যাচ্ছে। সামনাসামনি হয়্তো দেখা হবে না। কিন্তু ভার্চ্যুয়ালি কথা হবে।

লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদছে দুইজনই। কিন্তু কেউ কাউকে প্রকাশ করেনি।

আবীর চলে গেল। এরপর কেটে গেল কয়েকটা মাস। প্রতিদিন তাদের মাঝে কথা হয় ফেসবুকে অথবা স্কাইপিতে। কেউ কাউকে কারো অভাব বুঝতে দিতে চায়্না। এভাবেই কেটে গেল দুটো বছর।

অনেকদিন তিথির কোন খবর ছিলনা। মোবাইল বন্ধ, ফেসবুক আর স্কাইপিতেও তাকে পাওয়া যেত না। এদিকে আবীর তিথির অনুপস্থিতির কারণে অস্থির হয়ে উঠল। প্রতিদিন তার অপেক্ষায় থাকতো আবীর। কিন্তু না, তিথির কোন খবর নেই।

একদিন তিথিকে চ্যাটে দেখা গেল। আবীরকে মেসেজ দিয়েছে। আবীর সাথে সাথে রিপ্লাই দিল। তিথি শুধু একটা কথা বললো, "আবীর যেন তাকে ভুলে যায়। সে আবীরকে না, ভালবাসে অন্য আরেকজনকে।" আবীর সেদিন অনেক কষ্ট পেয়েছিল। খুব কেঁদেছিল সেদিন।

৩.
আজ আবীর দেশে এসেছে। সাতটা বছর পরে দেশে ফিরলো। প্রথম উদ্দেশ্য তিথিকে খোঁজা। ওর সাথে কথা আছে।

এসেই বেরিয়ে গেল আবীর। তিথিদের বাসায় গেল। কিন্তু পেল না। তিথিরা অনেক বছর আগেই বাসা ছেড়ে দিয়েছে। তিথির গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় গিয়ে দেখলো তিথির বাবা, মা, বোন সবাই আছে। শুধু তিথি নেই। নিজেকে তিথির বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেয় আবীর। তিথির পরিবার তাকে খুব আপ্যায়ন করলো। তিথির বাবা মাকে তিথির কথা জানতে চাইলে তারা বলেন তিথির বিয়ে হয়ে গেছে। তার সাথে যোগাযোগ উপায় চাইলে কেউ তাকে কিছু জানায়্নি। সেদিনকার মত ফিরে আসে আবির। কিন্তু নিজের মনকে বুঝাতে না পেরে কয়েকদিন পর আবার সেখানে যায়। তিথির ফোন নাম্বার বা ঠিকানা জানতে তিথির বাবা মা কেউ তাকে দিতে রাজি হননি। শেষে ব্যর্থ হয়ে কান্নাভরা মন নিয়ে ফিরে আসছিল আবীর। "না, তিথি অন্যকাউকে বিয়ে করতে পারেনা। ও বলেছিল, ও শুধু আমাকেই ভালবাসে।" চোখ মুছে মুছে ফিরে আসার সময় হঠাৎ কে যেন তাকে থামায়। তিথির বোন। হাতে চিঠির মত একটা দিয়ে দৌড়ে চলে যায়। চিঠিটা অনেক পুরানো। ৪-৫ বছর হবেই। কাগজের উপর ময়্লা পড়ে কাগজের রং বদলে গেছে। চিঠিটা খুলেই সে পড়তে লাগলো।

আবীর,
তুমি যখন এই চিঠিটা পড়বে, তখন আমি তোমার কাছ থেকে অনেক দূরে। হয়্তো তোমার ধরা ছোঁয়ার বাইরে। জানি তোমায় এতদিনে অনেক কষ্ট দিয়েছি। এজন্য তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও।

তুমি যাওয়ার দুই বছর পর একদিন আমার খুব অসুখ হলো। অনেকদিন হসপিটালে ছিলাম। জানতে পারলাম আমার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে। আর বড়জোর তিন মাস বাঁচবো আমি। স্বপ্ন দেখেছিলাম, তোমায় নিয়ে ঘর বাঁধবো। পারলাম না। তোমায় যতটুকু না কষ্ট দিয়েছি তার চাইতে বেশি কষ্ট পেয়েছি আমি। যাওয়ার আগে তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে। তোমাকে বলেছিলাম না? আমাদের খুব ছোট্ট একটা বেবী হবে। আমি সারাদিন ওকে দেখবো আর তুমি অফিস থেকে ওকে ঘুম পাড়াবে। আমাদের খুব ছোট্ট, সুন্দর একটা ঘর হবে। কিন্তু দেখ, কিছুই হল না। নিয়তিটা বড় নিষ্ঠুর। নিষ্ঠুর এই পৃথিবীটাও। তোমার কাছ থেকে আমাকে আলাদা করে দিল। তোমায় অনেক কষ্ট দিয়েছি। আমাকে ক্ষমা করে দিও। আর আমার জন্য নিজের জীবনকে থামিয়ে দিও না। আমি তোমার আছি, তোমারই থাকবো। তোমার ভালবাসা হয়েই বেঁচে থাকবো।

ইতি
তোমার তিথি"

৪.
চোখ বেয়ে পানি গড়াচ্ছে আবীরের। চিঠিটা বন্ধ করে দূরে তাকালো। গোধুলীর আলোয় আকাশটাকে খুব সুন্দর লাগছে। তিথি এই সময়টাকে খুব পছন্দ করতো। চোখ মুছে দূরের গ্রামটার দিকে তাকালো আবীর। মনে হচ্ছে ওখানে দাড়িয়ে আবীরকে ডাকছে তিথি। সামনে হাঁটা শুরু করলো আবীর। তিথির জন্যেই সে বাঁচবে। আজ সে বাঁচবে তার ভালবাসার জন্যে। বাঁচবে তার তিথিকে বাঁচিয়ে রাখতে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধার-দেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল কেন গুরুত্বপূর্ণ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৭



ব্যক্তিগতভাবে আমি কাউকে টাকা ধার দেওয়ার পক্ষপাতী নই। কারণ বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ধার দেওয়া টাকা সময়মতো বা সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক ক্ষেত্রেই কম থাকে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনশন আপডেট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭

আগামী শুক্রবার জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ব্যারিস্টার সুমন ভাইয়ের মুক্তির দাবীতে ১ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি করার লক্ষ্য স্থাপন করেছি। এই ১ ঘণ্টা আমি কোন খাবার বা পানীয় গ্রহণ করবো না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×