somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এ সাঈদ
শিখার আগ্রহ আমার সব সময়ই। তাই সারাক্ষণ শিক্ষানবিশের মতো ঘুরে বেড়াই। মাঝেমাঝে সময় পেলে পাহাড়ে ঘুরতে যাই বন্ধুদের নিয়ে।কখন ও বা ভেসে বেড়াই নদী কিংবা হাওরে। খুব ভালো লাগে প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে

সত্যের সন্ধানে নির্ভীক বিলুপ্তির পথে সিলেটিদের আদী বর্ণমালা নাগরীলিপি

২৩ শে আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছিলটি ভাষা একটি প্রাচিন এতিহ্যবাহি ভাষা স্বয়ং সম্পুনর্ ভাষা।এ ভাষার রয়েছে নিজস্ব বর্ণমালা অতচ অনেক সিলেটিরা-ই তা জানেন না। সিলেটিদের আঞ্চলিক ভাষার আলাদা বর্ণমালার নাম নাগরী লিপি।এক সময় সিলেট সহ ভারতের আসাম ত্রিপুরায় বসবাস রত সিলেটিরাও নাগরী লিপির ব্যবহার জানত অতচ প্রাচিন এই ইতিহাস হারাতে বসেছে সিলটি সম্প্রদায় । ভাষা গবেষকদের মতে খ্রিষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দির মধ্যবর্তি সময়ে জটিল সংস্কৃত প্রধান বাংলা বর্ণমালার বিকল্প লিপি হিসাবে’ সিলটী নাগরীর” লিপির উদ্ভাবন হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়।বাংলা ,কাইথী,দেবও আরবী এ চার লিপির প্রভাবে সিলেটি নাগরীর উদ্ভাবন হয়।সিলেটি ভাষার লিখিতরূপ প্রদানকারী নাগরী লিপির ৩২টি বা বর্ণ রয়েছে। বর্ণগুলো হচ্ছে আ ই উ এ ও ক খ গ ঘ চ ছ জ ঝ ট ঠ ড ঢ ত থ দ ধ ন প ফব ভ ম র ল ড় শ হ। স্বরবর্ণ ৫টি (অ ই ঈ উ ঊ) কিন্তু সিলেটের বর্ত মান প্রজন্ম তাদের নিজস্ব ভাষালিখতে পড়তে জানেন না।মুখে থাকলেও লেখার প্রচলন উঠে গেছে বললেই চলে।সিলেটী নাগরী লিপির ব্যবহার শুধু মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এ-ই লিপি বাংলালিপির বিকল্প হিসেবে প্রচলিত এক স্বতন্ত্র লিপিমাত্র।আঠারও উনিশ শতকে সিলেটের বাইরে কিশোরগঞ্জ নেত্রকোণা
,ময়মনসিংহ ও কাছাড় অঞ্চলে এ লিপি প্রচার ও প্রসার লাভ করেছিল।নাগরী লিপি লিখতে সহজ ছিল বিধায় এটি ছিল খুবই জনপ্রিয়।ঐ সময়ে জনশ্রুতি আছে যে- নাগরি লিপি মাত্র আড়াই দিনেশেখা যায়।এর উৎপত্তিকাল খুব প্রাচীন না হলেও নাগরী সাহিত্যের বৈশিষ্ট্যের বিচারে বলা যায় এ লিপি চালু হয়েছে সতের শতকে|ডক্টর সুনীতিকুমার চট্রোপাধ্যায় খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীকেসিলেটে এই লিপির প্রচলনকাল বলে অনুমান করেন। আবার কেউ কেউ হযরতশাহজালালের সাথে এই লিপির সিলেটে আগমনেরও ধারনা করে থাকেন বস্তুত,আঠার ও উনিশ শতকে সিলেটী নাগরী চর্চা ব্যাপক প্রসার লাভ করে। উনিশ শতকের শেষে সিলেটে ও কলকাতায় নাগরী লিপির ছাপাখানাও প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে ভারত বর্ষের অন্যান্য অঞ্চলেও নাগরী পুঁথি ও লিপির প্রচার ঘটে । ফ্রান্সের বিখ্যাত ভাষা যাদুঘরে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার উদৃতি রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের ভাষার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে- বাংলাদেশে দুটি ভাষা প্রচলিত। এর একটি বাংলা এবং অন্যটি সিলেটি।

সিলেটি ভাষা নিয়ে দেশ- বিদেশে চলছে গবেষণা ।সিলেটি ভাষার উপর এ পর্যন্ত বেশ ক’জন পিইএচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন। এর মধ্যে বৃটিশ নাগরিকও রয়েছেন।সিলেটি ভাষার উপর ইতিমধ্যে যারা পিএইচডি নিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল মোছাব্বির ভূঁইয়া।তিনি ভারতে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি নিয়েছেন মোহাম্মদ সাদিক, তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকরছেন।১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি নিয়েছেন এস এম গোলাম কাদের । বৃটিশ নাগরিক জেমস লয়েড উইলিয়াম লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। এছাড়া সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করছেন সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী ও রূপা চক্রবর্তি। বৃটেনে সিলেটি ভাষা শিক্ষার কয়েকটি ইন্সটিটিউট থাকলেও বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সিলেটি ভাষা শিক্ষার কোনো ক্ষেত্র নেই। যার ফলে সিলেটি ভাষা মানুষের মুখে থাকলেও এর বর্ণমালা (নাগরী লিপি) অনেকটা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হারিয়ে যাচ্ছে এর ইতিহাস। সম্প্রতি প্রবাসে অবস্থান রত ইতিহাস বিদ ডক্টর মুমিনুল হক ”নাগরীবর্ণে সিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ’র”ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সিলেট মৌলভীবাজার হবিগঞ্জ সুনাম গঞ্জের জেলা উপজেলা স্কুল কলেজ পর্যায়ে কমিট গঠন করে সোচ্চার করে তুলেছেন শিকর সন্ধানী সিলেটিদের।এছাড়া নাগরী বর্ণে সিলেটি ভাষার স্বীকৃতির দাবীতে মাননীয়া প্রধান মন্ত্রীকে স্বারক লিপি প্রদান করে নাগরীবর্ণে সিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ। এবং সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবরে প্রেরণের জন্য দেশের ইতিহাসে প্রথম নাগরীবর্ণে ছিলটি ভাষা স্বীকৃতির দাবিতে গণস্বাক্ষর নেয়া হয়। পরবর্তীতে মৌলভীবাজার থেকেও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

[[সংগৃহীত]]
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:৫২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×