somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি নীল গিটার ও কিছু গল্পের বই।

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৪:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


__ভোর সকাল থেকে থেকেই টানা বৃষ্টি, তখনি ঠিক করেছি আজ অফিসে যাব
না, সারাদিন বাসায় কাটাবো গিটার হাতে,কখনো বা গল্পের বই হাতে! ইরার
দেওয়া নীল গিটার আর গল্পের বই গুলো স্বযত্নে রেখে দিয়েছি,আকাশের অবস্থা
দেখে মনে হচ্ছে আজ সারাদিন ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি হবে।বৃষ্টি হলেই যে ইরা কে খুব
মনে পড়ে,কারন বৃষ্টি হলেই ইরা আমাকে ফোন দিয়ে বলত__

-- কোথায় তুমি এখন? গিটার টা হাতে নিবা ?

--আমি তো এখন ক্যাম্পাসে যাব,ভিজে হলেও যেতে হবে যে কারন important
ক্লাশ আছে!!

--ও :(
,আচ্ছা যাও...

__মোবাইলের ওপাশে স্পৃষ্ট দেখতে পারি ইরার মন খারাপের ফেস টা.!!ততক্ষনে
ইরা ফোনটা কেটে দেয়,গিটার টা হাতে নিয়ে ইরা কে ফোন দেই_

"আমার সারাটা দিন মেঘলা আকাশ বৃষ্টি তোমাকে দিলাম" এই গানের কর্ড ধরে
সুর তুলছি আমি, আর ওপাশ থেকে ইরার কন্ঠে এই গান...!!

আমি গিটারের সুর তুলে ওকে শুনাতাম আর সে আমাকে গান গেয়ে শুনাতো।।

--এইইই এইবার গল্পের বই হাতে নাও,আমাকে একটা গল্প পড়ে শুনাও...!!
:)


--আচ্ছা শুনাচ্ছি...

__ইরার সাথে আমার পরিচয় ফেসবুকের একটি গ্রুপে কাজ করতে যেয়ে,সে
থেকে টুকটাক কথা হতো আমাদের মাঝে। কয়েক মাস পর আমাদের সেই গ্রুপে
কিছু ঝামেলার কারনে গ্রুপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাইহোক আমাদের মাঝে
কথা হতো কয়েকদিন পরপরই, তারপর রোজ..আমরা ভালো বন্ধু ছিলাম তবে
আমরা দুজনই দুজন কে আপনি করে বলতাম...!!

--আচ্ছা আমরা তো বন্ধুদের মতোই সব কথা শেয়ার করি, তাহলে আপনি
বলি কেন ?

--তুমিই তো আপনি বলো ...আমি না :-/


---আচ্ছা তোমাকে আর আপনি বলব না... শুনো আজ একটু দেখা করা যাবে
কি ?

---হুম, বিকালে দেখা হচ্ছে তাহলে আমাদের...!!

---হুম

__ইরার সাথে অনেকবার দেখা হয়েছে,কিন্তু আজ আমরা দেখা করলাম বন্ধু
হিসাবে,ইরা আমার জন্য একটা গল্পের বই নিয়ে আসে, আমাকে দিয়ে বলল সে
গল্পের বই পড়তে অনেক অনেক ভালোবাসে, ইরা গান গাইতেও ভালোবাসে,R
গিটারের সুর ইরাকে ঘর থেকে বাহির করে অনেকবার বারান্দায় নিয়ে এসেছে
পাশের ফ্ল্যাটের একটি ছেলে,এখন নাকি ছেলেটি নেই,তাই আর শুনা হয় না!!!

---তারপর ?

__অতঃপর আমার প্রপোজের তিনদিন পর ইরা রাজি হয়,আমরা বন্ধু থেকে
ভালোবাসার মানুষে পরিনত হই প্রায় দুই বছর পর!!

__ইরার জন্মদিনে তাকে সবচেয়ে বেস্ট উইশ করার জন্য মাথায় একটা প্ল্যান
আসে,যেই কিনে ফেলি একটি গিটার,পুরাদমে গিটার শিখতে লাগলাম,প্রায় ৬
মাস লেগেছে গিটার শিখতে, বিশেষ করে ইরার প্রিয় গান গুলোর সুর তুলতে!!
ইরার জন্মদিনের আগেই তার প্রিয় গান গুলোর সুর তুলে রেকর্ড করি,রাত বার
টা বাজার আগে ইরাকে বললাম,ওয়াটস আপ আসতে... তারপর তাকে আমার
তুলা গিটারের সুর গুলো তাকে দিলাম,সে এতোবেশি খুশি হয়েছিলো বলে বুঝানো
যাবে না__

--তুমি আমাকে না জানিয়ে আমার জন্য এতো বড় সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এতো
দিন গিটার শিখেছো ?

---আগেই বলতাম কিন্তু আমার সাথে রিলেশন হওয়ার পর তোমার প্রথম জন্মদিন
কে স্বরনীয় করে রাখতে এই আয়োজন,এইইইইই শুনো কাল গিটার কাঁধে আমি
তোমার জন্য অপেক্ষা করব!!

__ইরাকে যখন গিটার বাজিয়ে শুনাচ্ছিলাম তখন তার মুখের হাসিটা দেখলে যে
কেউ দুনিয়ার সব ভুলে তার হাসির দিকে চেয়ে থাকবে,এতোটাই খুশি হয়েছিলো
সে, আমাকে শক্ত করে ধরে__
--তোমার এই সারপ্রাইজ আমার জীবনের শেষ্ট সারপ্রাইজ, থ্যাংকু সোনা



__রিলেশনের ছয় বছর পর আমরা ডিশিসন নেই একসাথে থাকব,পরিবারের সবার
মতামত নিয়েই আমরা বিয়ে করি!! রাতের আকাশে বারন্দায় বা কখনো ছাদে বসে
গিটার হাতে আমি আর ইরার গানের কন্ঠে হারিয়ে যেতাম ভালোবাসার দুনিয়ায়...!!
শুয়ার সময় হাতে বই ধরিয়ে বুকে মাথা রেখে ইরা বলত গল্প পড়ে শুনাও আমি ঘুমাব
ইরা ঘুমিয়ে যেত গল্প শুনতে শুনতে,ঘুমন্ত মায়াবি মুখের দিকে চেয়ে থেকে আমিও কখন
যে ঘুমিয়ে যেতাম খেয়ালই থাকত না...!!

__আমাদের বিয়ের দুইবছর পর ইরা মা হবে বুঝতে পারে, সে খুব ভয় পেতো এই
ব্যাপারে, মাঝে মাঝেই আমাকে বলত আমাদের সন্তান পৃথিবীতে আসার পর যদি
আমি মারা যাই তুমি রাগ করবে ?
--আমাকে ভুলে যেয়ে আবার বিয়ে করবে ?

--এইভাবে বলে না সোনা,

__ইরার কথাই সত্যি হয়েছিলো,সে হয়তো বুঝতে পেরেছিলো,না হয় অনিচ্ছাকৃত
ভাবেই ইরা প্রায় এই কথা বলত, আমাদের সবাইকে ফুটফুটে একটি মেয়ে দিয়ে ইরা
চলে যায় না ফেরার দেশে...!! আজ দুই বছর হয় ইরা আমাদের মাঝে নেই কিন্তু
আমার মনে মাঝে রয়েছে তার সাথে কাটানো স্মৃতি গুলো,যা কখনো ভুলার নই।।
আমার মেয়েটা তার খালামনির কাছে বড় হচ্ছে,আমি রোজ থাকে একবার করে
দেখে আসি! আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন, না হয় আমি কবেই চলে যেতাম ইরার
দেশে...!!!

__আপনারা যখন গল্পটি পড়ছিলেন তখন আমার জন্মদিনে ইরার দেওয়া গিফট
নীল গিটারে সুর তুলছিলাম, দেয়ালে টাঙানো ইরার হাসি মুখ থেকে আর আর
গান ভেসে আসে না,পলক দৃষ্টিতে শুধু ইরা চেয়ে থাকে আমার দিকে!!

__ইরার দেওয়া বই গুলো পড়তে পড়তে আমি আজ ঘুমিয়ে যাই,খুব জানতে ইচ্ছে
করে,ইরা ও কি আমার ঘুমন্ত ফেসের প্রেমে পড়ে ? যেমন আমি হাজার হাজার বার
পড়েছিলাম!!

__বৃষ্টি হলে আজ ও মোবাইল হাতে নিয়ে বসে থাকি ইরা আমাকে ফোন দিয়ে বলবে
এই গিটার হাতে নাও,চলে যায় হাজারও বৃষ্টির দিন কিন্তু ফোন আসে না আর,গল্পের
বই হাতে শুয়ে থাকি,কিন্তু ইরাকে খুঁজে পাইনা আমার বুকের উপড়,নেওয়া হয়না তার
চুলের ঘ্রান...!! আজ ইরাকে খুঁজে নেই নীল গিটারের সুরে, বইয়ের পাতায় আর আমার
ভালোবাসার অনুভবে...!!!

লেখাঃ গিটারের ছিঁড়া তার[মি অর্ক]
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৪:১৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রের ভুলের মূল্য কি তবে শিশুদের জীবন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৪


যেকোনো দেশে শিক্ষিত নাগরিককে রাষ্ট্রের সম্পদ মনে করা হয়। তাদের জ্ঞান, বুদ্ধি আর অভিজ্ঞতা দিয়ে রাষ্ট্র উপকৃত হবে, এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক সময় চিত্রটা যেন উল্টো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৬


শ্রদ্ধেয় ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত নিবেদন,
ব্লগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কথা দীর্ঘদিন ধরেই মনে জমে আছে। কথাগুলো কোনো অভিযোগ হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ ব্লগার ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে কোন 'জঙ্গী' নেই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:২৫

'জং' শব্দটার অর্থ 'যুদ্ধ'। এভাবে, জঙ্গী কথাটার অর্থ দাঁড়ায় - যোদ্ধা বা যুদ্ধ করেন। যে কোন যুদ্ধই প্রাণহানি ডেকে আনে। আগের কালে, রাজারা যুদ্ধ করে দেশ জয় করতেন। তাঁদের অণ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×