somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একুশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রকৃত বাস্তবায়ন চিত্র

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


"আসুন, আমরা একুশের ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল আমজনতা রুখে দাঁড়াই- জনগণকে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার জন্য প্রচণ্ড ঝাকুনি দিই-আর তারস্বরে বলি -এদেশ আমার-আমিই বাংলাদেশ"

বাংলাদেশের একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে এমন কথা বলার বাস্তবে কি আমার বা আমাদের মত সাধারন জনগনের কোন অধিকার আছে? যদিও নিজের মনের মধ্যে এমন কিছু উদয় হয় বলার জন্য, তবে সর্বোচ্চ বাথ রুমের দড়জা ভাল মত বন্ধ করে চিৎকার করে বলতে পারি, যেন অন্য কারও কান পর্যন্ত না পৌছায়, শুধুই মনের শান্তির জন্য, নিজেকে শান্তনা দেওয়ার জন্য বলতে পারি। কেননা এদেশের প্রকৃত মালিক গনের কানে পৌছলে আস্ত রাখবে না। হয় দেশ থেকে বিতারিত করবে, না হয় পুড়ো পৃথিবী থেকে বিতারিত করবে।

বর্তমানে আমাদের দেশের মালিকতো শুধু মাত্র দুইটি পরিবার, শুধু মাত্রই দুইটি পরিবারেরই উত্তরাধিকারীগন। শুধু মাত্র তাদেরই পৈতৃক সম্পত্তি। এ কথা বলার অধিকারও শুধু মাত্র ঐ দু'টি পরিবারের উত্তরাধিকারীদেরই আছে। আমরা সাধারন জনগন তো কেবল মাত্র দু'পরিবারের সম্পত্তি ভাগাভাগিতে ব্যবহারের বস্তু বিশেষ। কার পরিবারের পাল্লায় আমাদের দেহের ওজন (মনের ওজন নয়) বেশি পড়ে, তা অবশ্য বিবেচিত হয় শুধু মাত্র সম্পত্তির দখল দারিত্ব অর্জনের জন্য। দু'পরিবারের ক্ষমতা দখল নিয়ে সৃষ্ট বিবাদ মেটানোর জন্য। তাতেও আমাদের রক্ষা নেই। কোন পরিবার আবার ক্ষমতা পাওয়ার পর এমন দাড়িঁ পাল্লায় উঠার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়। ভয়ে যদি অন্য পরিবারের পাল্লায় উঠে যাই? যদি ক্ষমতা অন্য পরিবারের ভাগে চলে যায়? এরপরও আমরা চুপচাপ থেকেও শান্তি পাই না! অন্য পরিবারের দ্বারা অত্যাচারিত হতে থাকি। পুড়ে মরতে থাকি নিক্ষেপিত প্রেট্রোল বোমায়। বের হতে পারিনা ঘর হতে। বের হলেও আতংক বিরাজ করে মনে সারাক্ষন, কখন পুড়ে মরব এই ভয়ে। পরিবারও দুঃচিন্তায় থাকে সারাক্ষন, সুস্থ শরীরে ফিরে আসবে? না কি লাশ হয়ে ফিরবে অন্য হতভাগা নিরীহ জনেরই মত? এত আতংক নিয়ে কিভাবে বাঁচবো আমরা এই সাধারন জনগন?

এত সব অত্যাচর আমাদের কে মুক্তিদানের জন্য নয়। শুধু মাত্রই তাদের পাল্লার ওজন বাড়ানোর জন্য, তাদের পরিবারের হাতে ক্ষমতা বুঝে দেওয়ার জন্য।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে গনতন্ত্র রক্ষা ও গনতন্ত্র পূনঃউদ্ধার শব্দ গুলি প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হচ্ছে এবং উহা রক্ষা ও উদ্ধারের প্রদ্ধতিও খুব আলোচিত হচ্ছে।

আমি বুঝতে পারিনা আমাদের দেশে প্রকৃত যে শাসন ব্যবস্থা চালু আছে, সেটাকে গনতন্ত্র আখ্যায়িত করা হয় কোন যুক্তিতে? পৃথিবীর কোন দেশের বা কোন বইয়ের গনতন্ত্রের সংজ্ঞার সাথে কি কোন মিল খুজে পাওয়া যায় আমাদের দেশের প্রচলিত গনতন্ত্র? আসলে গনতন্ত্রের মুখোশ পরিহিত পরিবারতন্ত্র, গনতন্ত্রের ফাঁক খুজে বের করা এক অভিনব পরিবারতন্ত্রই মাত্র। আমি রাজতন্ত্রও বললো না, কেননা বর্তমানে পৃথিবীর যে সকল দেশে রাজতন্ত্র প্রচলিত আছে, সেগুলোর অধিকাংশই রাজতন্ত্রের আড়ালে আধুনিক গনতন্ত্রের চর্চা করছে।

বস্তুত আমাদের দেশের জনগন কে মহান দু'জন পরলোক গত ব্যাক্তির অর্জিত সাফল্য দ্বারা, তাঁদের গুনাবলী ও জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে দু'ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। একজন তাঁর সারাজীবনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে, নির্যাযিত হয়ে, জেল খেটে, মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম অবদান রেখে এবং শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য মৃত্যুবরন করে সাধারন জনগনের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। আর বর্তমানে তাঁর পরিবারের যোগ্য(!) উত্তরসুরী উক্ত ইমেজ, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনা ইত্যাদি ব্যবহার করে দেশের ক্ষমতার একমাত্র দাবিদার এবং মালিক হচ্ছেন।

অপর পরিবার একজন স্বাধীনতার ঘোষক সামরিক সেনা অফিসার কর্তৃক গৃহিত ক্ষমতা এবং তার পরবর্তিতে অতি সুকৌশলে বেকুব সাধারন জনগনের হৃদয়ে জায়গা করে অর্জিত জনপ্রিয়তা কে কাজে লাগিয়ে দেশের ক্ষমতার ভাগিদ্বার হয়েছেন। বর্তমানেও কেবল মাত্র ঐ পরিবারেরই সুযোগ্য(!) উত্তরাধীকারিই কেবল দেশের ক্ষমতা পাওয়ার অধিকার রাখেন।

এ দুই পরিবার হতে ইতি মধ্যে অবশ্য আমাদের ক্ষেতের (দেশের) ভবিষ্যত ক্ষমতার মালিক গনও মাথা চাড়া দিয়ে উঠছেন, পরিচিত হচ্ছেন হতভাগা কামলাগনের (জনগনের) সাথে, আশ্বস্ত করছেন এই বলে, 'অপেক্ষা করো, আমরা দুই পরিবারের দু'জনও তৈরী হয়ে আছি, আমাদের পূর্বসুরীদের ভাগাভাগি খেলা শেষ হলেই আমরা মাঠে নামবো। শুরু করবো আমরা দু'জন, ক্ষমতা ভাগাভাগি খেলা, রেহাই দিব না কোন দিনও, যতদিন বেঁচে থাকবে আমাদের বংশধর, আর সাথে এ দেশের বেকুব-অর্থব সাধারন জনগন।'

একুশে ফেব্রুয়ারীতে ও মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য আত্নত্যাগ কারীগনের আত্না হয়তো কান ধরে উঠবস করছে আজকের এমন বাংলাদেশ দেখে। হাজার বার আপসোস করছে এই বলে, "আমরা কি এমন একটা দেশের স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলোন বা যুদ্ধ করেছিলাম? আজকের এই এমন দেশের জন্যই কি আমরা আত্নত্যাগ করেছিলাম?" আর যে সকল প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা স্বপ্ন ভঙ্গের যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে আছেন দেশ ও পরিবারে কোন্ ঠাসা হয়ে, তাঁরা মনে মনে আপসোস করছেন এই ভেবে যে পাশের বন্ধুটির মতো কেন তাঁর বুকে একটা বুলেট এসে লাগনো না! কেন তাঁকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া বুলেট পাশ কেটে চলে গেল! তাহলে আজকের এই দেশকে দেখতে হতো না। স্বপ্ন ভঙ্গের যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে থাকা খুবই যন্ত্রনা দায়ক। কেননা তাঁর নাতী যখন কটাক্ষো করে বলে, "কি যুদ্ধ করেছো দাদা! একটা সার্টিফিকেটও সংগ্রহ করে রাখতে পারনি! ওটা থাকলেও বুঝতে পারতাম আমাদের জন্য না হয় কিছু একটা করেছো।" কোন উত্তর দিতে পারে না, শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে নাতীর মুখের দিকে। ভয়ে আজ আর তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের গল্পও শোনায় না কাউকে। শুধু মনে মনে গালি দিতে থাকে নিজেকে আর আমাদের বর্তমান সমাজকে, জাতিকে।

সকল শহীদেরা কবরে শুয়ে শুয়ে অভিশাপ দিচ্ছেন আজকের আমাদের এই পুড়ো জাতিকে। তাদের এই অভিশাপ থেকে আমরা কি কোন দিনও মুক্তি পাবোনা? তাঁদেরও কি কোন দিন স্বপ্ন ভাঙ্গার যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দিতে পারব না????
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহকে আমরা আসলে কেন ভালোবাসি—জীবনাচারের জন্য, নাকি পাকিস্তানের জন্য?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

ইতিহাসের কিছু চরিত্রকে আমরা ভালোবাসি না তাঁদের পুরো জীবনকে বুঝে; বরং তাঁদের ঘিরে তৈরি হওয়া একটি রাজনৈতিক প্রতীকের জন্য। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

জিন্নাহ ছিলেন নিঃসন্দেহে অসাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×