সংস্কৃত এবং সংস্কৃতি নিয়ে কিঞ্চিৎ সমস্যা দেখা দিয়েছে ব্লগে । বাংলা অভিধান বলছে ,'যাহা সংস্কার করা হইয়াছে তাহা সংস্কৃত ' - সংস্কৃত ভাষার জন্ম ভাষা-সংস্কার থেকে । এই সংস্কারের প্রক্রিয়া অর্থে culture এর বঙ্গানুবাদ করেন রবীন্দ্রনাথ ।বইপত্র তেমন নিয়ে আসিনি সঙ্গে তাই সঠিক রেফারেনস দিতে পারছিনা ।প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ সহায়তা করতে পারেন ।
সমাজবিজ্ঞানে সংস্কৃতির ধারণাটি বিমূর্ত । মহাঅভিধান ঘাটলে কমপক্ষে ডজন খানেক সংজ্ঞার্থ পাওয়া যাবে । প্রতিটি ধারণাই কিছু পরিমানে সঠিক । তবে কোনটাই এথনিসিটির প্রশ্নকে এড়িয়ে নয় । বরং প্রাকৃতিক এবং আঞ্চলিক ভুগোলকে সকল ক্ষেত্রে খুব প্রধান নিধর্ারক ভুমিকায় দেখা যায় । শ' খানেক বছরের কামড়া-কামড়ির পরে সংস্কৃতিকে বায়বীয় রূপ থেকে মুক্তি দেওয়ার ধারণাকে অধিকাংশ সমাজবিজ্ঞানী মেনে নিয়েছেন । ব্যক্তিগত ভাবে ভৌতিক বিষয়ে আস্থা না থাকায় বস্তুবাদী ধারনাই আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে ।
সংস্কৃতি বলতে আমি বুঝি superstructure কে । যা কোন সুনির্দিষ্ট সমাজের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর প্রতিফলন । সমাজের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর মৌল উপাদান কি? আমার মতে সমাজের উৎপাদন কাঠামো এবং তাকে ঘিরে দৈনন্দিন পূনরাবৃত্তি সমূহ ।'সমাজ' নামকে সংগঠণে নিয়মিত ভাবে ঘটতে থাকাsocial actions (Sozialhandeln), দীর্ঘ অনুশীলনে পরিণত হয় সাংস্কৃতিক নিয়মে । এই অনুশীলন গুলোকে উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে পুরোপুরি আলাদা করার মতবাদগুলো মৃত । উৎপাদন কাঠামোর বহুমাত্রিকতা এবং তার জটিলতর সম্পর্ক বিন্যাস এগুলো নিয়েই বর্তমানে মূল ধারার তকর্াতর্কি । সরলীকরণ করে বলা যেতে পারে মানুষ নিয়মিত ভাবে যা করে তাই সংস্কৃতি । কিন্তু এতে সমস্যা হলো, কে নিয়মিত ভাবে কি করে সেই প্রশ্নে । কারণ শ্রেণী নির্বিশেষে সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত মাঙ্গলীক পরমেশ্বরের কস্টিউম গায়ে চড়ায় । তখন গায়েবের ব্র্যান্ডগুলোই প্রধাণ হয়ে দাড়ায় । বিষয়টা তখন আর সমাজবিজ্ঞানের আওতায় থাকে না । কারণ 'বিশ্বাস'কে উপাদান ধরতে গেলে, বিশ্বাস কোত্থেকে এল তার বিচার করতেই হবে এবং এই ক্ষেত্রে বিজ্ঞান এবং অধিবিদ্যার বিরোধ মীমাংসার অযোগ্য । বিজ্ঞানের মানদন্ড-বিরোধীরা সমস্যা সৃষ্টি করেন বিজ্ঞানকে সর্বাত্মকতার লেভেল দিয়ে, অথচ বিজ্ঞান আজন্ম অণপেক্ষতা বিরোধী ছিল । শেষ কথা জেনে ফেলার লাইনে গেলে বিজ্ঞানের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে ।
প্রসঙ্গ ছিল সংস্কৃতি । আমরা যদি 'পুরোন দিনের মতই বিজ্ঞানকেই মানদন্ড জেনে এগোই , সেক্ষেত্রে সংস্কৃতি অবশ্যই ভূ-প্রাকৃতিক অবস্খানভেদে ভিন্ন্নএই অবস্থান গুলোর সঙ্গে জাতি রাষ্ট্রের সম্পর্ক তেমন নেই । কারণ সংস্কৃতি বিচারে যতখানি সময়ের ইতিহাস নিয়ে নাড়াচাড়া করতে হয় , তাতে বিভিন্ন জাতির বিভিন্ন রাষ্ট্র অনির্দিষ্ট সংখ্যকবার পরিবর্তিত হতে পারে ।
ধর্ম, সংস্কৃতির আওতায় পড়ে । তবে নিধর্ারক উপাদান হিসেবে নয় । কোন সুনির্দিষ্ট 'সমাজে'র অব-কাঠামোতে কিভাবে একটি রিচুয়াল প্রবেশ করে এবং সেই সমাজের পূর্বাপর রিচুয়াল গুলোর সাথে তার মিথস্ক্রিয়ার বিবেচনায় । তাই প্রতিটি সমাজের রিচুয়াল শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র । রিচুয়াল গুলোর রাজনৈতিক চরিত্র তৈরী হয় উৎপাদন কাঠামোর দ্্বন্দ্ব-সংঘর্ষে । আধিপত্যকারী শ্রেণী বাণিজ্যিক স্বার্থ অনুসারে তাকে বিভিন্ন মাত্রায় রাজনীতিতে ব্যবহার করে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

