somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্্বিশতক কড়চা

০৮ ই জুন, ২০০৬ রাত ৩:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবশেষে দুশোতেও পৌছলাম । ব্লগে এসেছিলাম উকি ঝুকি মারতে , কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাপটে গেলাম রীতিমতো । একশো করার পরে ভাবলাম এবার একটু ধীরে । কিসের কি রীতিমতো মালকোচা মেরে লেগে পড়লাম এক্কেবারে সামহোয়ারের সুখ-দু:খের সাথে । তাই কালকে ক্ষণিকের ভূল বুঝাবুঝিতে খুব আহত হয়েছিলাম । পরে মেঘ কেটে গেলে আবার বসেছি কি-বোর্ডের শ্রাদ্ধ করতে । এই গতকালই আবার ঝেড়েিেছ গোটা চারেক । এমন ই সবর্্বনেশে এই ব্লগিং ।

দুশ নম্বর পোস্টে কি লেখা যায় এই নিয়ে আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে কোন কুল-কিনারা পাচ্ছিলাম না । আজ ভোর বেলা মনে হলো , ব্লগে আমার প্রথম গোটা কুড়ি পোস্ট ছিল কবিতা কিংবা কবিতাকৃতির প্রলাপরাজী । গদ্য আমার হয় না , সে গল্পই হোক আর প্রবন্ধই হোক । হাতে যা আসে সব কিছুই মূলত কিছু আবোল-তাবোল শব্দের বিন্যাস-সমাবেশ । প্রথমটা ভেবেছিলাম আমার যে লেখাগুলো সেই 2001 থেকে খাতাবন্ধী হয়ে পড়ে আছে সেগুলোকে অন্তত ব্লগপাতায় ছাপা অক্ষরে দেখি , নতুন করে আর কিছু যখন বের হবে না একটু অতীত চুলকে চাদি ঠান্ডা করি । তারপর শুরু হলো সেই 31 জানুয়ারী । সবই একরকম কাট পেস্ট । মানে খাতা দেখে দেখে মাউস টিপে টিপে টাইপ করা । তখনও বাংলা কি-বোর্ড ফিট করিনি । ভেবেছিলাম দুদিন পরেই কাট মারবো । প্রথম দুয়েকটিতে তেমন মন্তব্য আসতো না । বন্ধু হিমুই মাঝে মধ্যে উকি মারতো । হঠাৎ একদিন দেখি কে যেন প্যারোডি করছে তেলাপোকা নাম দিয়ে । মজা পেলাম খুব । এরপর একদিন সকালে দেখি ঘোড়েল চৌধুরী নামে কার যেন কবিতা ...কথাবার্তা চেনা চেনা লাগে ..সেকি ! কে যেন কমপ্লিট প্যারোডি ঝেড়েছে ! তারপর থেকে দেখি প্রায় প্রতিদিনই আমি পোস্ট ঝাড়লেই ইনসট্যান্ট প্যারোডি হাজির । তো কবিতার প্যারোডির জবাব তো কবিতাতেই দিতে হয় ....সেই জবাব দিতে গিয়ে দেখি মাথায় যথেষ্ট ছিট এখনও আছে ; আগের মতো টগবগে না হলেও দু এক কলম চলতে পারে । এর মধ্যে ব্লগীয় দ্্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন ধরনের তত্ত্বীয় কথাবার্তার আগমনে মনে হলো আমিও করি একটু পন্ডিতি । ভাষার আড়ালে ঘাপটি মারুক অর্ধশিক্ষাজনিত অজ্ঞতা । আর আমারও হোক কিঞ্চিৎ গদ্যানুশীলণ । তারপরে আর কি এটা গেলে সেটা আসে..কখনও চুটকি, কখনও খেলা,কখনও প্রিয় গান ,প্রিয় কবিতা ইত্যাদি দিয়ে বাড়তে থাকলো পোস্টের সংখ্যা । একদিন সেঞ্চুরিও করে ফেল্লাম । সেই ধারাতেই আজকে দুশোতে ঠেকেছি । প্রচুর সময় খেয়েছে এই কালান্তক ব্লগ । তবু প্রতিদিন সকালে যন্ত্রগণক খুলেই প্রথম উকি মারি এখানে । কে কি বললো , কে কি জবাব দিলো কার কেমনে কি ইত্যাদি মহামূল্যবান তথ্যের সন্ধানে ।

কবিতার কথা বলছিলাম । সেই 2001 এ খাতা বন্ধ করলাম । আর লিখবো না । কারণ আমি লেখক না । মানে হতে পারবো না । সে যোগ্যতা নেই বা সময় নেই বা সবাইকে দিয়ে সব কিছু হয় না বা হলেও সবার সময় সুযোগ হয়ে ওঠে না বা এত লোকে কবিতা লিখলে পড়বে কে বা দিনকাল পালটাইয়া গেছে বা কবিতার কি কোন দরকার আছে বা খাইয়া দাইয়া কি আর কাম নাই বা ভাত জুটে কই থিকা বা যে 25 বছর বয়সেও ছাপাইতে পারে নাই তার কোনদিনও হবে না বা এগুলা পাগল ছাগলের প্রলাপ বা আগে "ট্রেন্ড"কে বোঝার চেষ্টা করতে হবে বা আগে বুঝতে হবে গেছোবৌদির বক্ষবন্ধনীতে কয়টি ফুটো ইত্যাদি সমস্ত জটিলতা থেকে সিদ্ধান্ত নিলাম । হবে না । আর যাই হোক কবিতা আর হবে না । এক সময়ে ডাকে পাঠাতাম বিভিন্ন পত্রিকায় । ক্যালেন্ডার উলটে ফড়িয়া জ্বালানি হলেও তার কোনদিন কোন খোজ পেতাম না । প্রচুর ছোট কাগজীয় বন্ধু ছিল কেউ কোনদিন চায় নি । আর নিজে থেকে সাধতে পারতাম না । অকবি হলেও কবির ইগোটা ধারন করেছি চিরকাল । একবার এক বন্ধু , তার নাম করবো না, গুটিকয় নিয়ে লা পাত্তা । বছর দুয়েক পরে সেই পত্রিকা বের হবার কিছুদিন আগে দিয়ে বল্ল যে আসলে আমি চাইছিলাম অন্তত একটা যাক কিন্তু সম্পাদক কয় এগুলা অশ্লিল এবং ইম ম্যাচিওর। মাথায় খুন চেপে গেলো । পরে পত্রিকা বার হবার পরে দেখলাম বিভিন্ন ধরনের তেল, পত্রিকার ভালো লেখাগুলোকে পিড়িত করছে । আমার মতো অকবির চোখেও যেগুলো 1984 তে ঘানায় পাঠানো মার্কিন খাদ্য সাহায্যের চাইতেও দূগন্ধময়, সেরকম বেশ কিছু অক্ষর সমাবেশ । 2001 এর দিকে ভাবলাম আসলে নিজের ঢোল নিজেকেই পিটাতে হবে । আবার একখানা ছোট কাগজের ফন্দি আটতে লাগলাম - হলো না শেষ পর্যন্ত । অনেক রকম ফ্যাক্টরের সংঘর্ষে সব এলো মেলো হয়ে গেল । সময় গড়িয়ে গেল । পোলাপান বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চাকরিতে গেল । যাদের আগে থেকেই লেখক পরিচিতি ছিল তারা বাদে সবাই নিহত হলো গলায় কুত্তার লেজ বা পরিচয় পত্র ঝুলিয়ে । আমি ফন্দি আটতে থাকলাম অজ্ঞাতবাসের । আবার ভর্তি হলাম জামর্ান ভাষা শিখতে । অনেক অনেক কুস্তি করে অবশেষে অ্যাডমিশন পেলাম একটা জামর্ান বিশ্ববিদ্যালয়ের । তারপর পাড়ি দিলাম বৈদেশ । অথচ হতে চেয়ে ছিলাম কোন বদ্ধ উন্মাদ । নিজের মনে কথা বলবো, হেসে উঠবো বিশ মাইলের সেই পাগলের মতো ..যে থেকে তেকে বলে উঠতো আমি ক্যান ? পাগল হওয়া মুখের কথা ?

ব্লগের পাতাই বলা যায় আমাকে আবার খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে লেখাচ্ছে । খুড়ছি । বেদনা জাগছে । এটা কেউ ভালোবাসে না তবুও খোঁড়ে । যদি কোন দিন সাইটটি ডিলিট বা ব্লক হয়ে যায় মৃত্যু হবে সবকিছুর একসাথে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:১২
৪২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ

লিখেছেন সামিউল ইসলাম বাবু, ০৬ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:৩৫

আমার ভালোলাগা কিছু ছবি নিচে শেয়ার করা হলো। একটা আায়াত জানলেও তা অপরের কাছে পৌঁছে দাও(আল-হাদিস

পৃথিবীতে কেও আপন নয়। একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যতিত। তাই ভালো মন্দ সকল বিষয়েই কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার বেঁচে আছে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:০২





আপনার মা/বাবা বেঁচে থাকলে আপনি এখনো সৌভাগ্যবান -এরকম ভাবনা হয়তো ৯৮ ভাগ মানুষ ভাবে। মা/বাবা নিয়ে মানুষের ইমোশন, সংগ্রাম নিয়ে সবাই কিছু কিছু লিখতে পারবে, বা মুখে বলতে পারবে। গোর্কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×