somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্্বিজাতি ত্বত্ত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধ 2

২৮ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দ্্বিজাতিত্বত্ত্বের সত্যমিথ্যা এবং বিভাগপূর্ব ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতি আমার অলোচ্য বিষয় নয়; এই বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে আস্ত একখানা বই লিখতে হবে। কেউ চাইলে মোটামুটি একটা বিবলিওগ্রাফী দিতে পারি । তবে আমার ধারনা সেক্ষেত্রে পুস্তকের বপু সাধারণ আলোচনার উৎসাহে ভাটা ফেলতে পারে । আলোচ্য বিষয় হচ্ছে দ্্বিজাতিত্বত্ত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্ক।

দ্্বিজাতি ত্বত্ত্বের মূল কথা ছিল, হিন্দু আর মুসলমানদের সাংস্কৃতিক জীবন সম্পূর্ণ আলাদা এবং অর্থনৈতিকভাবে হিন্দুদের কারণে মুসলমানরা পিছিয়ে । এই বিভেদ এতটাই প্রকট যে এই দুই ধর্মের অনুসারিরা কোন অবস্থাতেই একত্রে একটি শাসন ব্যাবস্থার অধীনে বসবাস করতে পারবে না । সুতরাং বৃটিশ ভারতের অধিবাসী তাবৎ মুসলমানের জন্য একটি প্রথক রাষ্ট্রআবশ্যক। কংগ্রেস ত্যাগের পরে জিন্নাহ এই ''ত্বত্ত্ব'' প্রসব করেন । যার ''বাস্তবতা'' জনগণকে উপলব্ধি করানোর জন্যে 1946 সালের বর্বরতার প্রয়োজন হয়েছিল ।
পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের অবব্যহিত পরে জিন্নাহ বললেন, '' হিন্দুরা আর হিন্দু থাকবে না, মুসলমানেরা আর মুসলমান থাকবে না তারা সকলেই পাকিস্তানী।'' এই বাক্যটি দ্্বিজাতিত্বত্ত্বের মূলনীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয় । ভারতে বসবাসকারি মুসলমান এবং পাকিস্তানে বসবাসকারি হিন্দুদের ভবিষ্যৎ কি হবে? দ্্বিজাতিত্বত্ত্ব যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে সবার আগে যেসব অঞ্চলে যারা সংখ্যালঘু তারা সংখ্যাগরিষ্ট এলাকায় গমন করবেন । অথর্াৎ পপুলেশন ট্রানসফার । প্রায় 50 হাজার মানুষ নিহত হয় সেই দাঙ্গায় ।সংখ্যালঘুদের ফেলে পালানো এই সম্পত্তির দখলদারিত্ব গ্রহণ করে, 1946-48 এর দাঙ্গায় অংশ নেওয়া সেই লুম্পেন শ্রেণীটি । এই শ্রেণীর পরবতর্ী বিকাশ নিয়ে আলাদা পোস্টে আলোচনা করতে হবে কারণ এরাই পূর্ব বাংলা এবং বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পরবতর্ীরাজনৈতিক খুঁটি এবং সে কারণেই এই বিষয়টি ব্যাপক ।

পপুলেশন ট্রানসফার শেষ পর্যন্ত ব্যার্থ হয় দাঙ্গার নিষ্ঠুরতায় । দাঙ্গার ভয়াবহতা, নব্য রাজনৈতিক কতৃত্বের নিপীড়নমূলক নীতি মুসলীম লীগ সরকারের জনসমর্থন শুণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনে । পাকিস্থান রাষ্ট্রের উপর ঐ সময়ে সৃষ্ট নেতিই আমার ব্যক্তিগত মতে মুক্তিসংগ্রাম পর্যন্ত পলিটিক্যাল স্পিরিট হিসেবে কাজ করেছে । এই স্পিরিট তাই মূলগত ভাবেই দ্্বিজাতিত্বত্ত্ব- বিরোধি ।
কি প্রমাণিত হয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের মাধ্যমে? পাকিস্থান রাষ্ট্রের ভিত্তি করুণভাবে ব্যার্থ প্রমাণিত হয় । সমগ্র মুসলিম জাহান একটি জাতি,তার একপ্রান্তে কুটুস কইরা কামুড় দিলে অন্য প্রান্তে উ: কইরা ওঠে, প্রমাণিত হয় কথাটা সর্বৈব মিথ্যা । পাকিস্থান রাষ্ট্রের পতন সরাসরি ভাবেই দ্্বিজাতিত্বত্ত্বের প্রত্যাখ্যান । পুরো 23টি বছরে একমুহুর্তের জন্যেও পাকিস্থানের দুই অংশে ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশানের নু্যনতম সম্ভাবনা দেখা যায়নি । কারণ ধমর্ীয় পরিচয়, কখনওই জিন্নাহ সাহেবের দাবী অনুসারে ''এথনিসিটি''তে পরিণত হতে পারেনি ।

অনেক গুলো বাক্য অতিকথনদুষ্ট হয়ে গেল । মুক্তিযুদ্ধ এবং দ্্বিজাতিত্বত্ত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক নিরুপণ করতেই এই লেখা শুরু করেছিলাম । আমরা 23 বছরের ইতিহাস থেকে যে কিউ.ই.ডিতে পৌঁছতে পারি , তা হলো আদর্শিকভাবে 1947 এর প্রথম লগ্ন থেকে 1971 পর্যন্ত যত আন্দোলন সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছে তার প্রত্যেকটিই দ্্বিজাতিত্বত্ত্বের ভিত্তিমূলকে চ্যালেঞ্জ করে । ধর্মনিরপেক্ষতা তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নিউক্লিয়াস । এই ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তি পশ্চিম ইউরোপের প্রটেস্ট্যান্ট এথিকস নয় , বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ হতদরিদ্রমানুষের র্যাডিক্যাল অসাম্প্রদায়িক স্ম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা । নুরুল দ্্বীন, বিরসা মুন্ডারা যেই চেতনা ধারণ করতেন ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:০৭
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনৈতিক দল গঠনের মতো জনপ্রিয়তা ইউনুস সাহেবের ছিলো না ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ২:২৬


মাঝে মাঝে আমি ইউটিউবে বা মাহফিলে গিয়ে হুজুরদের ওয়াজ শুনি। শোনার কারণটা ধর্মীয় যতটা না, তার চেয়ে বেশি হলো আমাদের সমাজের হুজুররা দেশীয় অর্থনীতি বা সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×