কপিল মুনি প্রণীত সাংখ্যভাষ্যের প্রথম বাক্য ''ঈশ্বরাসিদ্ধে:'' অর্থাৎ ঈশ্বর অসিদ্ধ । পরবর্তী কালে বিজ্ঞান ভিক্ষু মহাশয়ের বেদাভিমুখী প্রচেষ্টা সত্বেও সাংখ্যমত শেষ পর্যন্ত বেদানুসারিদের বিরোধী অর্থাৎ রাষ্ট্রবিরুদ্ধ দর্শন ই থেকে গেছে । কারণ প্রত্যক্ষ ও প্রমাণের আলোচনা সাংখ্যমতকে প্রশ্নহীন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দাড় করিয়ে দেয় ।
কি ছিল পৌনে পাঁচ হাজার বছর আগের সেই বিশ্লেষণ দেখা যাক । সাংখ্যসূত্রমতে , ঈশ্বর যেহেতুপ্রমাণসিদ্ধ নন সেহেতু তাঁর প্রত্যক্ষ আলোচ্য হবার যোগ্যতা নেই । যা প্রমাণসিদ্ধ নয় তার অস্তিবাভাব অনস্বীকার্য। এই মতের সমর্থনে আরও বলা হয়েছে বদ্ধস্বভাব অথবা মুক্তস্বভাব কোনটিই ঈশ্বরের পক্ষে সম্ভব নয় । কারণ বদ্ধস্বভাব হলে তাঁর ঈশ্বরত্ব ব্যহত হবে । বদ্ধতার একটি অর্থ হচ্ছে স্বাতন্ত্র্য বিহিন হওয়া । যার স্বাতন্ত্র্য নেই সে ঈশ্বর হতে পারে না,কারণ স্বাতন্ত্র্যবিহিন হলে সর্বনিয়ন্তিৃত্ব এবং সর্বকর্তৃত্ব সাধন সম্ভব নয় । অপরদিকে মুক্তস্বভাব হলে যিনি ঈশ্বরের ইচ্ছা, যত্ন প্রভৃতি ধারণ করেন তিনি কর্তৃত্ব অর্জন করেন । কতর্ৃত্ব, মুক্তস্বভাবকে প্রত্যাখ্যান করে । শাস্ত্রে যে ঈশ্বরের কথা বলা হয়েছে , তা মুক্তপুরুষের অর্থবাদ মাত্র। সাধারণ মানুষকে ঈশ্বরের উপাসনায় প্রবৃত্ত করতেই ঐরূপ ঈশ্বরের অবতারণা করা হয়েছে , অতএব প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বর নাই ।
সাংখ্যদর্শন অবশ্য বার্হস্পত্যমতের মত পূণাঙ্গ বস্তুবাদী দর্শন নয় । কারণ সাংখ্যমতে দেহাতিরিক্ত আত্মার অস্বিত্ব স্বীকার করা হয়েছে । আমি সাংখ্যমতের অনুসারি নই । তবে কপিল মুনির সাংখ্যসূত্রের প্রথম বাক্যটি আমার বড় প্রিয় । পৌনে পাঁচ হাজার বছর আগে কপিল যা বুঝেছিলেন তাতে 'বিশ্বাস' নামের ক্রিয়াটির শেকড় নড়ে ওঠে।
আজকের এই পোস্টটি দিয়ে আসলে ঈশ্বর এবং অনপেক্ষতা বিষয়ক আলোচনার সূত্রপাত করতে চাচ্ছি । কপিলের এই বাক্যটিই হবে তার শিরোনাম ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




