somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাষ্ট্র প্রসঙ্গে 1

২৫ শে এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৪:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পলিটিক্স (রাজনীতিকে অনুবাদ মানতে আপত্তি আছে) এমনই একটা বিষয় যেখানে অধিবিদ্যার কার্যকর ভুমিকা শুণ্যের কোঠায় । অধিবিদ্যা যেখানে ''বিশ্বাস'' এর রহস্যবাদী জয়গান করে, পলিটিক্স সহ সমাজবিদ্যার সকল শাখার সেখানে ধান্ধা মানুষের ''বিশ্বাস'' এর শেকড় এবং কারণ অনুসন্ধান ।সমাজ গবেষণার প্রথম শর্তই সেকারণে বুদ্ধিবৃত্তিক আত্মসমর্পণ বিরোধী । জনগণ কি বিশ্বাস করে শুধু এই প্রশ্নের জবাব না খুজে ,কেন বিশ্বাস করে তার অনুসন্ধানকেই কেন্দ্রে রাখে । এই অনুসন্ধানমুখী মূলণীতি বিজ্ঞান চেতনা থেকে আগত । সেই কারণেই সমাজ বিজ্ঞান, সেই কারণেই পলিটিক্যাল সায়েনস।অবশ্য সমাজ বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার তুলনায় পলিটিক্সের ''র নেস''(বাংলা প্রতিশব্দ মাথায় আসছে না ....মুখফোড় ভরসা:(...) অনেক বেশী , কারণ এর চাইতে বেশী প্রায়োগিক রূপ আর কোথাও নেই । তত্ত্বের বিমুর্ততা এখানে আছে , তবে যে বিতর্কগুলো তত্ত্বকে অগ্রসর করে নেয় সেগুলোর উপাত্ত সরাসরি দৈনন্দিন জীবন থেকে নেওয়া ।রাষ্ট্র সংক্রান্ত তত্ত্ব-হাইপোথিসিস গুলোর সবগুলোই আপাত:দৃষ্টিতে বিমূর্ত হলেও তার উদাহরণগুলো আমাদের সকলের চেনা । এটা সমাজবিজ্ঞানের একেবারে গোড়ার কিন্তু সবচাইতে জীবন্ত ফেনোমেনা ।

বিতর্কের শুরুটা জড়িত রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞানের সাথে। এই বিষয়টির বয়স শ'খানেক বছর হবে । বলা যায় একেবারে আনকোরা বিজ্ঞান।পূর্বাপর ধারণাগুলো হেগেলে এসে আটকে গেল ইতিহাসকে বিজ্ঞানের স্বীকৃতি দিয়ে । হেগেলের ধারণা পরবতর্ীতে প্রত্যাখ্যাত হলেও তিনি ইতিহাসকে বিজ্ঞান বলে অভিহিত করে কার্যত বিষয়টিকে অধিবিদ্যার হাত থেকে মুক্তি দিলেন । হেগেল তার দ্্বান্দ্বিক পদ্ধতি ব্যাবহার করে আলোচনা করলেন জ্ঞানের ইতিহাস, সেই সাথে রাষ্ট্রের ইতিহাস । রাষ্ট্র বিষয়ক সামাজিক চুক্তির ধারণাগুলোর সঙ্গে পদ্ধতিগত ভাবে তার এই আলোচনা একেবারেই মিলল না । যদিও ফলাফলে এসে তিনি অনেকটা জোর করেই পূর্বাপর ধারনার কাছাকাছিই থেকে যান , কিন্তু ইতিহাস নিরীক্ষার যে পদ্ধতি তিনি দেখিয়ে দেন, সেটাই পরিবর্তিত রূপে পরবতর্ী গবেষণা গুলোর প্রাণ হয়ে দাড়ায়। হেগেল দ্্বান্দিক দৃষ্টিতে ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখালেন সমাজ বিকাশে দ্্বন্দ্ব-সংঘর্ষই চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে, চিন্তার ঐতিহাসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও । একটি অবস্থানে এসে এই সামাজিক দ্্বন্দ্বসমুহ সমণি্বত হয় এবং তাদের দ্্বান্দিক অবস্থানের বিলুপ্তি ঘটে । সেই দ্্বন্দ্বহীন (বা রহিত) প্রতিষ্ঠাণ হচ্ছে রাষ্ট্র । চিন্তার ক্ষেত্রেও এরকম একটা ''যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা ব্যাবধান'' অবস্থানকে তিনি চিহ্নিত করেন । এই অনপেক্ষ অবস্থান তার মতে ঈশ্বর । এই দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে তিনি রাষ্ট্রকে চিহ্নিত করলেন পবীত্র প্রতিষ্ঠাণ হিসেবে । হেগেলের রাষ্ট্রও ঈশ্বর সম্পর্কিত বক্তব্য ভাববাদী হলেও একেবারেই ইহুদী-খ্রীষ্টান-ইসলামের সঙ্গে সাজুজ্যপূর্ণ নয় ।তার মূলনীতি ছিল গবেষকের ।

হেগেল সম্পর্কে এই ভুমিকা দেওয়ার উদ্দেশ্য রাষ্ট্র-বিষয়ক সমকালিন বিতর্ক গুলোর প্রধান দুটো ধারার একটি এখনও পাকে চক্রে তারই প্রেতাত্মাকে ধারণ করে আছে ।অন্য ধারাটি কার্ল মার্ক্সের । এর আলোচনা আগামী পোস্টে করতে হবে কারণ এখন ক্লাসে যেতে হবে :((((((

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×