পলিটিক্স (রাজনীতিকে অনুবাদ মানতে আপত্তি আছে) এমনই একটা বিষয় যেখানে অধিবিদ্যার কার্যকর ভুমিকা শুণ্যের কোঠায় । অধিবিদ্যা যেখানে ''বিশ্বাস'' এর রহস্যবাদী জয়গান করে, পলিটিক্স সহ সমাজবিদ্যার সকল শাখার সেখানে ধান্ধা মানুষের ''বিশ্বাস'' এর শেকড় এবং কারণ অনুসন্ধান ।সমাজ গবেষণার প্রথম শর্তই সেকারণে বুদ্ধিবৃত্তিক আত্মসমর্পণ বিরোধী । জনগণ কি বিশ্বাস করে শুধু এই প্রশ্নের জবাব না খুজে ,কেন বিশ্বাস করে তার অনুসন্ধানকেই কেন্দ্রে রাখে । এই অনুসন্ধানমুখী মূলণীতি বিজ্ঞান চেতনা থেকে আগত । সেই কারণেই সমাজ বিজ্ঞান, সেই কারণেই পলিটিক্যাল সায়েনস।অবশ্য সমাজ বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার তুলনায় পলিটিক্সের ''র নেস''(বাংলা প্রতিশব্দ মাথায় আসছে না ....মুখফোড় ভরসা
বিতর্কের শুরুটা জড়িত রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞানের সাথে। এই বিষয়টির বয়স শ'খানেক বছর হবে । বলা যায় একেবারে আনকোরা বিজ্ঞান।পূর্বাপর ধারণাগুলো হেগেলে এসে আটকে গেল ইতিহাসকে বিজ্ঞানের স্বীকৃতি দিয়ে । হেগেলের ধারণা পরবতর্ীতে প্রত্যাখ্যাত হলেও তিনি ইতিহাসকে বিজ্ঞান বলে অভিহিত করে কার্যত বিষয়টিকে অধিবিদ্যার হাত থেকে মুক্তি দিলেন । হেগেল তার দ্্বান্দ্বিক পদ্ধতি ব্যাবহার করে আলোচনা করলেন জ্ঞানের ইতিহাস, সেই সাথে রাষ্ট্রের ইতিহাস । রাষ্ট্র বিষয়ক সামাজিক চুক্তির ধারণাগুলোর সঙ্গে পদ্ধতিগত ভাবে তার এই আলোচনা একেবারেই মিলল না । যদিও ফলাফলে এসে তিনি অনেকটা জোর করেই পূর্বাপর ধারনার কাছাকাছিই থেকে যান , কিন্তু ইতিহাস নিরীক্ষার যে পদ্ধতি তিনি দেখিয়ে দেন, সেটাই পরিবর্তিত রূপে পরবতর্ী গবেষণা গুলোর প্রাণ হয়ে দাড়ায়। হেগেল দ্্বান্দিক দৃষ্টিতে ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখালেন সমাজ বিকাশে দ্্বন্দ্ব-সংঘর্ষই চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে, চিন্তার ঐতিহাসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও । একটি অবস্থানে এসে এই সামাজিক দ্্বন্দ্বসমুহ সমণি্বত হয় এবং তাদের দ্্বান্দিক অবস্থানের বিলুপ্তি ঘটে । সেই দ্্বন্দ্বহীন (বা রহিত) প্রতিষ্ঠাণ হচ্ছে রাষ্ট্র । চিন্তার ক্ষেত্রেও এরকম একটা ''যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা ব্যাবধান'' অবস্থানকে তিনি চিহ্নিত করেন । এই অনপেক্ষ অবস্থান তার মতে ঈশ্বর । এই দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে তিনি রাষ্ট্রকে চিহ্নিত করলেন পবীত্র প্রতিষ্ঠাণ হিসেবে । হেগেলের রাষ্ট্রও ঈশ্বর সম্পর্কিত বক্তব্য ভাববাদী হলেও একেবারেই ইহুদী-খ্রীষ্টান-ইসলামের সঙ্গে সাজুজ্যপূর্ণ নয় ।তার মূলনীতি ছিল গবেষকের ।
হেগেল সম্পর্কে এই ভুমিকা দেওয়ার উদ্দেশ্য রাষ্ট্র-বিষয়ক সমকালিন বিতর্ক গুলোর প্রধান দুটো ধারার একটি এখনও পাকে চক্রে তারই প্রেতাত্মাকে ধারণ করে আছে ।অন্য ধারাটি কার্ল মার্ক্সের । এর আলোচনা আগামী পোস্টে করতে হবে কারণ এখন ক্লাসে যেতে হবে
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




