somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রমিথিউস মোহামেদ বুয়াজিজি

২১ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মানুষ সময়ের নির্মান।অধিকাংশ মানুষই সময়ের স্রোতের ভেলায় ভেসে চলে। তবে কেউ কেউ সেই সময়কেই নির্মানের আস্পর্ধা দেখান।মোহামেদ বুয়াজিজি-সেই দুর্লভ, অজয়'দেরই একজন।

সংগ্রামী জীবনের থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা মানুষের সবচে বড় শিক্ষা, সবচে বড় সম্পদ।সংগ্রামী জীবন তাই সাধারণ্যে মিশে থেকেও অসাধারণ।

মোহামেদ বুয়াজিজি তিউনিশিয়ার সিদি বুজিদ শহরের আর দশটা ছাপোষা পরিবারের মতোই এক মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান।বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী সেটাও একখানা ছিলো।তবে তা দিয়ে মডেল ইকোনমি'র তিউনিশিয়ায় তাঁর ভাগ্যে কোন শিকে ছিঁড়েনি।অথচ নব্য উদারনৈতিক ব্যবস্থার "মডেল ইকোনমি" দিয়েই মিষ্টার জাইন আল আবিদিন বেন আলি বিশ্ব মোড়লদের কাছে নিজের স্বৈরশাসনকে বৈধ করে নিয়েছিলেন। কখনো-সখনো সাবেক প্রভু ফ্রান্স, গণতন্ত্রের সূতিকাগার ইউরোপ আর "মানবাধিকার" এর এক্সপোর্টার যুক্তরাষ্ট প্রমুখদের পিঠ চাপরানো জুটেছে সুবোধ এবং অনুগত ধামাধরা হিসেবে।

জীবিকার প্রয়োজনে বুয়াজিজি পথে নেমেছিলেন হকার হিসেবে।ফলমুল আর সবজি ফেরি করে বিক্রি করতেন।স্বৈরচারী রাষ্ট্রে বাহ্যিকভাবে যত আধুনিক হোকনা কেন ভিতরটা থাকে কুৎসিত আঁধারে ঢাকা।সেই আঁধার গ্রাস করে বুয়াজিজিদের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনকেও।তাঁকে অপদস্ত হেনস্তা করা হয় বৈধ অনুমোদনপত্র না থাকার অভিযোগে; উল্টিয়ে দেয়া হয় তাঁর ভ্যান, ছুঁড়ে ফেলা হয় মালামালকে।

একজন হকারের ভ্যান উল্টিয়ে দিয়েই বেন আলি সরকার ২৩ বছরের কুক্ষিগত মসনদকে উল্টানোর সূচনা করলেন!অদৃষ্টের রসিকতা বুঝি এমনই নির্মম হয়।

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে তবেই মানুষ রুখে দাড়ায়।কথাটা চমৎকার; আমাদের সময়ে সময়ে আশ্বাস যুগিয়েছে তবে একটা মস্ত ফাঁকি আছে।আমরা কিভাবে বুঝবো যে আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে!সাধারণ্যের উপলব্ধির জন্য চাই উদাহরণ, চাই দৃষ্টান্ত।

বুয়াজিজি'রা শুধু উপলব্ধিই করেন না, নিজেরাই দৃষ্টান্ত হয়ে যান।তাঁর গায়ের আগুনের দগদগে শিখা শুধু তার কাঁচা মাংশকেই পোড়ায় না, আমজনতার বিবেক কিংবা মগজ যাই বলি না কেনো, সেটাকেও পোড়ায়!বুয়াজিজি নিজশরীরের সেই আগুনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ভাগ্যের কাছে সমর্পন করে সবকিছু মেনে নেওয়া নিগড়বন্দী মানুষের গায়েও।সেই আগুন ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে সিদি বুজিদ থেকে তিউনিশ, কার্থেজ, পুরো তিউনিশিয়া, উত্তর আফ্রিকা থেকে আরব বিশ্ব, সেখান হতে গোটা দুনিয়ায়।

বুয়াজিজির ভাই যেমনটা বলেছেন "Freedom is expensive and my brother paid the price of freedom" and "My brother has become a symbol of resistance in the Arab world"

গ্রীক প্রমিথিউস দেবতারাজ জিউসের নিকট হতে আগুন চুরে করে তা মরনশীল মানুষের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।অপরাধে জিউস তাঁকে দেন এক নিষ্ঠুরতম অন্তহীন শাজা। প্রমিথিউসকে শেকলবদ্ধ করা হয়েছিলো দূর ককেশাস পাহাড়ের এক শিলাখন্ডে।রোজদিন এক ভয়ালদর্শন ইগল তাঁর কলিজা খুবলে খেতো আর খুবলে খাওয়া কলিজা রোজরাত্রে পূর্ণতা পেতো।তবুও প্রমিথিউস কখনোই তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাননি কিংবা অনুতপ্ত হননি।

যুগে যুগে পৃথিবীতে হয় বাংলামুলুকে নুর হোসেন হয়ে কিংবা উত্তর আফ্রিকায় বুয়াজিজি'র মতো প্রমিথিউসদের জন্ম হয় বলেই আমরা দুর্বলচিত্ত, ভীরু, ঘরকুনো মানুষরা গণতন্ত্রের সাধ পাই; সেটা যত ভংগুরই হোকনা কেন।তবু গণতন্ত্র তো! আর কে না জানে

"The worst form of democracy is better than the best from of dictatorship".

"স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক" যুগে যুগে, দেশে দেশে।

ছবি:উইকিপিডিয়া
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুবা আমি তোমাকে ভুলিনি

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:৫৫



আমার বন্ধু রফিকের বিয়ে।
সে সাত বছর পর কুয়েত থেকে এসেছে। বিয়ে করার জন্যই এসেছে। রফিক একদিন আমার বাসায় এসে হাজির। আমি তাকে প্রথমে দেখে চিনতেই পারি নাই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্যরচনাঃ ক্যামেরা ফেস

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৯


খুব ছোট বেলায় আমাদের শহরে স্টার স্টুডিও নামে ছবি তোলার একটা দোকান ছিল। সেটা পঞ্চাশের দশকের কথা। সে সময় সম্ভবত সেটিই ছিল এই শহরের একমাত্র ছবি তোলার দোকান। আধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবাসন ব্যাবসায় অশনি সংকেত

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১১ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:২২




জুলাইয়ের শুরুতে একটি বিজ্ঞাপন দেখা গেল একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের । তারা ৫০ পারসেনট কমে ফ্লাট বিক্রি করছে । মুখ চেপে হাসলাম এত দুঃখের মাঝেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রৌপ্যময় নভোনীল

লিখেছেন স্বর্ণবন্ধন, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৯


একটা অদ্ভুত বৃত্তে পাক খাচ্ছে আত্মা মন,
বিশ্বকর্মার হাতুড়ির অগ্ন্যুৎপাতে গড়া ভাস্কর্যের মতো গাড়-
হাড় চামড়ার আবরণ; গোল হয়ে নৃত্যরত সারসের সাথে-
গান গায়; সারসীরা মরেছে বিবর্তনে,
জলাভুমি জলে নীল মার্বেলে সবুজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

""--- ভাগ্য বটে ---

লিখেছেন ফয়াদ খান, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৪

" ভাগ্য বটে "
আরে! সে কী ভাগ্য আমার
এ যে দেখি মন্ত্রিমশায় !!
তা বলুন দেখি আছেন কেমন
চলছে কেমন ধানায় পানায় ?
কিসের ভয়ে এতো জড়োসড়ো
লুকিয়ে আজি ঘরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×