somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কল্প-গল্পঃ মেসক্রটের ব্যক্তিগত ডায়েরী থেকে (সেই অপ্রকাশিত কাহিনী)

১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[আগের পর্বগুলো পড়লে ভাল। তবে, ইমেজিনেশন ভাল থাকলে আগের পর্ব না পড়লেও চলবে। তবে, পড়াটাই ভাল হবে বোধহয়।]
প্রথম পর্বের জন্য Click This Link
দ্বিতীয় পর্বের জন্য Click This Link
তৃতীয় পর্বের জন্য Click This Link


[এই ডায়েরীতে রেক্সোজা গ্রহের লোকাল সময় ,তারিখ উল্লেখ করা আছে। যা ইন্টারন্যাশনাল সময়,তারিখের সাথে মিলবে না বলে এখানে আগ্রাহ্য করা হল।]

ক্রীণা মেয়েটার এই আচরণ আমার ভাল লাগে না। যদিও ওর আসলে এই আচরণটাই করা ওর জন্য যুক্তিযুক্ত। আমি যখন মন খারাপ করি, কষ্ট পাই, মেয়েটা তখন আমাকে হাসানোর চেষ্টা করে। হালকা কথায় শান্তনা দেয়। কিন্তু, আমি এমনটা চাই না। আমার ইচ্ছা, আমি যখন আমার কষ্টের কথা গুলো বলব ওকে, তখন সেও মন খারাপ করবে। আমরা দুজনেই মন খারাপ করে বসে থাকব। পাশাপাশি।
ওকে বলা যায় খুলে ব্যাপারটা। কিন্তু, ইচ্ছা করে না। আমি চাই, ও নিজেই আমাকে বুঝে নিক। ক্রীণা নিজের মত করে ভাবুক। আমি ওর স্বত্যন্ত্র চিন্তাধারায় হস্তক্ষেপ করতে চাই না।

আমার ক্লাসমেটরা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে খুব। আমি নাকি মস্ত বোকা। আমি যে একটা প্রোগ্রামের সাথে প্রেম করি তাই। ক্রীনাকে ছাড়া আমি যে থাকতে পারি না তাই।
ওরা বলে, প্রোগ্রামের নাকি কোন প্রাণ নেই। আমি বুঝি না প্রাণ জিনিসটা ঠিক কী? মস্তিষ্ক দিয়েই ত সব ভাবি। সব কাজ করি। তবে কী মস্তিষ্কটা সচল থাকাই প্রাণ ! পৃথিবীতে স্টারফীশ ছিল। ওদের ত মস্তিষ্ক নেই। তাছাড়া, গাছেরও ত জীবন আছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সেরও ত ভাইটাল কোর আছে, সেখান থেকে অপারেটেড হয় সব। তাহলে ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রোগ্রামেরও ত তাহলে অন্য ধরণের প্রাণ। অন্য ধরণের।
ওরা বলে, মানুষই ত প্রোগ্রাম বানিয়েছে, তাই এদের প্রাণ নেই ।আমি বুঝি না। মানুষ বানালে প্রাণ থাকবে নাএটা কেমন যুক্তি ! মানুষ তার নিজের চেয়ে লম্বা লাঠি বানাতে পেরেছে। তাহলে? ক্রীণার নিশচয়ই অন্য ধরনের প্রাণ আছে। তাছাড়া, প্রাণের সংজ্ঞাটাই আমার কাছে এলোমেলো লাগে। এসব আবার কী? শুধু কী মস্তিষ্ক সচল থাকা অবস্থাটাই বোঝায়! ক্রীনার যেমন ভাইটাল কোর!!

এসব বললে, ওরা বলে আমার নাকি মাথা নষ্ট। আমি বলি যে থাক, আমার প্রাণ ফ্রান লাগবে না। আমি ক্রীনাকে নিয়ে সুখী। কখনও সাধারণ কোন মেয়ের সাথে ওর পার্থক্য পাইনি কিছুই। আর সেও যে আমাকে ছাড়া থাকতে পারেনা সেটাও আমি বুঝি।


ক্রীণাকে যদি এসব বলি ও হাসি দিয়ে এসব এড়িয়ে যেতে চায়। কোন একটা কৌতুক বলতে চায়। কিন্তু, আমি বুঝি কষ্ট পেয়েছে ও। আপাতত হলোগ্রাফিক স্ক্রীনের মাধ্যনেই ওর সাথে কথা হয় আমার। আমার মালিকানাধীন সমস্ত রোবটকে ক্রীনা নিয়ন্ত্রণ করে। সব ঘর ওদের দিয়ে গুছায়। নিজের মত সাজায়। আমার ঘরে খুব বেশি কিছু নেই। তাছাড়া মাত্র দুটা রুম। একটায় সবকিছু। খাট, ওভেন, রেফ্রিজোরেক্স, হিটার। আরেকটা ঘর শুধু খালি। একদম খালি। ওখান থেকে বারান্দা দেখা যায়। প্রতিদিন ওর সব কাজেই আমি মমতা খুঁজে পাই। দিনে দিনে রোবটগুলাও আমার কাছে আপন লাগতে থাকে। আমার কাছে সবই ভাল লাগে এখন।

সব দিন যে ক্রীনা যে হাসিমুখ নিয়ে হলোগ্রাফিক স্ক্রীনে আসে তা না। আগেরবার যদি ঝগড়া করি, তাহলে রাগ করেও আসে। আমি চাইলেই ওর স্মৃতি থেকে মুছে দিতে পারি সে কথাগুলো। কিন্তু, কখনও করি না। কেমন যেন অপরাধী লাগে। একটা প্রোগ্রামের ডাটা মোছার জন্য অপরাধবোধ। হাস্যকর কনসেপ্ট। বিড়ালকে লাত্থি মারার জন্য কাউকে কঠিন শাস্তি দিলে যেমন হাস্যকর শোনায়, এটাও তেমন। কিন্তু, যার সাথে এই বিড়ালটা ৫ বছর রইল, বাচ্চা থেকে বুড়ো হল, সেই-ই শুধু জানে সেই বিড়ালটার অনুভূতির দাম।

ক্রীণাকে আমি অনেক ভাবে ভাবি। ওর নিজের ভাবার ক্ষমতা আছে। ওর থেকে একটা সাধারন মেয়ের চরিত্রে খারাপ দিক অনেক বেশি। অনেকে আবার লোভীও হয়। আমি কোন মেয়ের সাথে তেমন কথা বলি না। লাগেও না। আমি আর ক্রীনা নিজেদের মত থাকি। অনেক মেয়েই আমার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু, কারও চিন্তাধারা আমার কাছে ক্রীনার মত পরিষ্কার মনে হয় নি।


[ এখানে কিছু পৃষ্ঠা ছেঁড়া ছিল। এখানে কিছু অংশ পড়া সম্ভব হয়নি। ]

আমাদের এই গ্রহটা অনেক সুন্দর। অনেকটাই পৃথিবীর মতন।এখানে অনেক পর্যটক আসে। সমুদ্র আমার বাসা থেকে খুব একটা দূরে না। সমুদ্র আমার আরও একটা ভালবাসা। ইদানীং ক্রীনাকে আমি সারাদিনই সমুদ্রের গল্প করি। সামনেই আমার লম্বা ছুটি। এক মাসের। এই সারা মাসটা আমি সমুদ্রের তীরে ঘুরব।

[ এখানে আবার কিছু এলোমেলো ছেঁড়া, আধা ছেঁড়া পৃষ্ঠা পাওয়া যায়। বাক্যগুলো পুরোটুকু বোঝা যায়নি বলে আগ্রাহ্য করা হল। ]

আজকে প্রথম ক্রীনাকে আমার নতুন বন্ধু জোয়িনার কথা বললাম। খুব ভাল আর অনেক সুন্দর একটা মেয়ে। অনেক দূরের একটা গ্রহ থেকে এসেছে। এই কয়েকদিনের জন্য। ক্রীনার সাথে ওকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার ইচ্ছা ছিল আমার। ওকে কী বাসায় আনব কী না জিজ্ঞাসা করতে ক্রীনা না-বোধক উত্তর দিল। মনটা একটু দমে গেল।

জোয়িনা মেয়েটা আসলে খুব সুন্দর। আর খুব মিষ্টি। সেও সমুদ্রকে ভালবাসে আমার মতই। তৃষিত চোখে তাকিয়ে থাকে সমুদ্রের দিকে। মাঝে মাঝে অস্থির হয়ে পড়ে। আমাকে যে ওর ভাল লাগে সেটা আমি বুঝি। ও এখন আমার বন্ধুর মতন। ও যেই গ্রহ থেকে এসেছে সেখানে নাকি মানুষের অনেক কষ্ট। সেখানকার কিছু কিছু গল্প শুনি আমি।
আমারও কিছু কিছু কথা বলি।
অনেক রাত পর্যন্ত আমরা দুজন কথা বলি। এখানে দুটো চাঁদ। একটা পৃথিবীর চাঁদের মতন হলুদ আরেকটা নীল। চাঁদের আলোয় আমরা সুপারী গাছের নিচে বসে গল্প করি।

মাঝে মাঝে আমার হঠাত ক্রীনার কথা মনে হয়। কিন্তু, জোয়িনার সাথে যখন আমার হাতের ছোঁয়া লাগে আবার যেন সম্মোহিত হয়ে পড়ি। ক্রীনাকে ত কখনও স্পর্শ করতে পারি না।

জোয়িনার ভাগ্য খুব ভাল। জোয়িনা সেটা প্রায়ই বলে। ও একটা লটারীতে অনেক টাকা পেয়েছে। এখানে খুব সুন্দর একটা বাসা খালি পেয়েছে। আমার মত বন্ধু পাওয়াও নাকি ওর জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। আমি যখন হেসে হেসে ওকে আমার কিছু কাহিনী বলি, সমুদ্রের গল্প শুনাই, ও খুব আগ্রহ নিয়ে শোনে। অনেক কিছুর প্রতি আগ্রহ তার। এমনকি আমার কাঠখোট্টা হোমওয়ার্কও তার সাথে আলোচনা করা যায়। এসব ব্যাপারও সে মন দিয়ে শোনে। মাঝে মাঝে বলে, “তুমি এত কিছু জান আমার খুব ভাল লাগে। কেউ কেউ শুধু কবিতা পরেই দিন কাটায়। ওদের ভাল লাগে না আমার। কেউ কেউ হয়ত শুধুই তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। কিন্তু, সমুদ্র সম্পর্কে জানেনা কিছুই। এদের ভাল লাগে না। তবু সাথে থাকতে হয়। আমি বোর হই। কিছু বলি না।” আমি বুঝিনা ও কাদের বা কার কথা বলে। তবে আবারও ওর নিজের গ্রহে ফিরে যেতে হবে বলে দুঃখ করে খুব। ২০ দিন থাকবে এখানে। ৩০ দিন থাকতে পারত। কিন্তু, কিছুটাকা অতিরিক্ত খরচ করে ফেলেছে।

আমার খুব কষ্ট লাগে এসব শুনে। আমি ওকে বলি, “ ফেরা লাগবে না তোমার। সময় থাকতে এখনই এই গ্রহে লুকিয়ে পড়। আমার বাসাতেই থাক। ” ও রাজী হয়। আমি বুঝিনি এই ব্যাপারটা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে।

শেষ পর্ব Click This Link

© আকাশ_পাগলা
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০০৯ রাত ১০:৩৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×